CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

ত্রয়োদশ নির্বাচন: বিএনপির খসড়া তালিকা শেষ পর্যায়ে

#
news image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি তার প্রাথমিক খসড়া প্রার্থী তালিকা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এনেছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের পাঁচ নেতা সারা দেশের ৯টি বিভাগ ভাগ করে আগ্রহীদের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন করছেন। এই প্রক্রিয়ায় দল থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থিতা বরদাস্ত করা হবে না।

বিএনপির এই উচ্চ পর্যায়ের টিমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও রয়েছেন স্থায়ী কমিটির আরও তিন সদস্য।

প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা

 

প্রাথমিক খসড়া তালিকা প্রণয়নের জন্য দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে:

নেতা দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ
তারেক রহমান ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিলেট ও খুলনা বিভাগ
নজরুল ইসলাম খান রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ
ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন কুমিল্লা ও বরিশাল বিভাগ
সালাহ উদ্দিন আহমেদ ময়মনসিংহ বিভাগ

সাক্ষাৎ করে আসা একাধিক আগ্রহী প্রার্থী জানিয়েছেন, আলোচনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা প্রত্যেক আসনের আগ্রহীদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা জানিয়ে দিচ্ছেন।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি কঠোর অবস্থান

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের মূল বার্তা হলো—আসন্ন নির্বাচনকে দলের জন্য ‘দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে বিবেচনা করে বিদ্রোহী প্রার্থিতার বিষয়ে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, "বিএনপি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, একাধিক প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু যিনি যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হবেন, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। অন্যরা তাকে সহযোগিতা করবেন।"

ময়মনসিংহ বিভাগের ইচ্ছুক এক প্রার্থী জানান, চূড়ান্ত প্রার্থী যাকে করা হবে, সবাই যেন তাকেই সমর্থন করেন। এতে ব্যত্যয় হলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কঠোর ব্যবস্থা নেবেন (বহিষ্কারাদেশ)।

তবে একইসঙ্গে, দলের নেতারা শক্ত প্রার্থীদেরকে পরবর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব বা সরকারে এলে নতুন দায়িত্ব দেওয়ার মতো আশ্বাস দিয়েছেন।

 

চূড়ান্ত মনোনয়ন কৌশল: সময় নেবে বিএনপি

বিএনপি এখনই চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করতে চাইছে না। চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণে তারেক রহমানসহ সিনিয়র পাঁচ নেতার তৈরি করা খসড়া তালিকাটি স্থায়ী কমিটিতে আলোচনার পর কয়েকটি ধাপে চূড়ান্ত করা হবে:

  1. খসড়া তালিকা: প্রাথমিকভাবে আগ্রহীদের নাম ও জটিল আসনগুলোতে একাধিক প্রার্থীর নাম থাকবে।

  2. স্থায়ী কমিটির অনুমোদন: স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা ও যুক্তি-তর্ক শেষে যোগ-বিয়োজন করা হবে।

  3. যুগপৎসঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনা: যুগপতে যুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আসন বণ্টনের আলোচনা শেষে আরেকটি তালিকা করা হবে।

  4. তারেক রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: শেষ মুহূর্তে কাকে বাদ দেওয়া হবে, সেটি নির্ভর করবে তারেক রহমানের নির্বাচনি কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর।

স্থায়ী কমিটির এক সদস্যের মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও ঢাকার আসনগুলোতে প্রার্থী নির্ধারণে তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। তবে দলের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কোনো বিশেষ সুপারিশ বা পছন্দের প্রার্থীর মনোনয়নের সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

 

যুগপৎসঙ্গীদের আসন বণ্টন

চূড়ান্ত মনোনয়নের আগে বিএনপি যুগপতে যুক্ত দলগুলোকে আমলে নিচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলছে:

  • গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক: জেএসডিকে ৩টি, নাগরিক ঐক্যকে ২টি, গণসংহতি আন্দোলনকে ১টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিকে ১টি।

  • অন্যান্য দল: গণঅধিকার পরিষদকে ২টি, গণফোরামকে ২টি, এনডিএমকে ১টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টিকে ১টি, এবং ১২ দলীয় জোটকে ৫-৬টি আসন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্যের মতে, আগামী নির্বাচনে জামায়াতকে বিরোধী দলের আসনে ঠেকানোই মূল চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিকে অন্তত ৪-৫টি আসনে বিজয়ী হওয়ার মতো শক্তি জোগাতে বিএনপি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে চায়।

তবে নীতিনির্ধারকরা বলছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, নির্বাচনের ধরন এবং অংশগ্রহণমূলক হবে কিনা—এসব বিষয় সেটেলড না হওয়া পর্যন্ত আসন চূড়ান্ত করার সময় আসেনি। চূড়ান্ত প্রার্থী প্রত্যাহারের আগে পর্যন্ত অনেকেই আসন নিশ্চিত হতে পারবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ অক্টোবর, ২০২৫,  7:51 PM

news image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি তার প্রাথমিক খসড়া প্রার্থী তালিকা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এনেছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের পাঁচ নেতা সারা দেশের ৯টি বিভাগ ভাগ করে আগ্রহীদের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন করছেন। এই প্রক্রিয়ায় দল থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থিতা বরদাস্ত করা হবে না।

বিএনপির এই উচ্চ পর্যায়ের টিমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও রয়েছেন স্থায়ী কমিটির আরও তিন সদস্য।

প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা

 

প্রাথমিক খসড়া তালিকা প্রণয়নের জন্য দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে:

নেতা দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ
তারেক রহমান ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিলেট ও খুলনা বিভাগ
নজরুল ইসলাম খান রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ
ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন কুমিল্লা ও বরিশাল বিভাগ
সালাহ উদ্দিন আহমেদ ময়মনসিংহ বিভাগ

সাক্ষাৎ করে আসা একাধিক আগ্রহী প্রার্থী জানিয়েছেন, আলোচনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা প্রত্যেক আসনের আগ্রহীদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা জানিয়ে দিচ্ছেন।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি কঠোর অবস্থান

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের মূল বার্তা হলো—আসন্ন নির্বাচনকে দলের জন্য ‘দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে বিবেচনা করে বিদ্রোহী প্রার্থিতার বিষয়ে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, "বিএনপি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, একাধিক প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু যিনি যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হবেন, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। অন্যরা তাকে সহযোগিতা করবেন।"

ময়মনসিংহ বিভাগের ইচ্ছুক এক প্রার্থী জানান, চূড়ান্ত প্রার্থী যাকে করা হবে, সবাই যেন তাকেই সমর্থন করেন। এতে ব্যত্যয় হলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কঠোর ব্যবস্থা নেবেন (বহিষ্কারাদেশ)।

তবে একইসঙ্গে, দলের নেতারা শক্ত প্রার্থীদেরকে পরবর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান, দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব বা সরকারে এলে নতুন দায়িত্ব দেওয়ার মতো আশ্বাস দিয়েছেন।

 

চূড়ান্ত মনোনয়ন কৌশল: সময় নেবে বিএনপি

বিএনপি এখনই চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করতে চাইছে না। চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণে তারেক রহমানসহ সিনিয়র পাঁচ নেতার তৈরি করা খসড়া তালিকাটি স্থায়ী কমিটিতে আলোচনার পর কয়েকটি ধাপে চূড়ান্ত করা হবে:

  1. খসড়া তালিকা: প্রাথমিকভাবে আগ্রহীদের নাম ও জটিল আসনগুলোতে একাধিক প্রার্থীর নাম থাকবে।

  2. স্থায়ী কমিটির অনুমোদন: স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা ও যুক্তি-তর্ক শেষে যোগ-বিয়োজন করা হবে।

  3. যুগপৎসঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনা: যুগপতে যুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আসন বণ্টনের আলোচনা শেষে আরেকটি তালিকা করা হবে।

  4. তারেক রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: শেষ মুহূর্তে কাকে বাদ দেওয়া হবে, সেটি নির্ভর করবে তারেক রহমানের নির্বাচনি কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর।

স্থায়ী কমিটির এক সদস্যের মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও ঢাকার আসনগুলোতে প্রার্থী নির্ধারণে তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। তবে দলের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কোনো বিশেষ সুপারিশ বা পছন্দের প্রার্থীর মনোনয়নের সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

 

যুগপৎসঙ্গীদের আসন বণ্টন

চূড়ান্ত মনোনয়নের আগে বিএনপি যুগপতে যুক্ত দলগুলোকে আমলে নিচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলছে:

  • গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক: জেএসডিকে ৩টি, নাগরিক ঐক্যকে ২টি, গণসংহতি আন্দোলনকে ১টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিকে ১টি।

  • অন্যান্য দল: গণঅধিকার পরিষদকে ২টি, গণফোরামকে ২টি, এনডিএমকে ১টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টিকে ১টি, এবং ১২ দলীয় জোটকে ৫-৬টি আসন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্যের মতে, আগামী নির্বাচনে জামায়াতকে বিরোধী দলের আসনে ঠেকানোই মূল চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিকে অন্তত ৪-৫টি আসনে বিজয়ী হওয়ার মতো শক্তি জোগাতে বিএনপি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে চায়।

তবে নীতিনির্ধারকরা বলছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, নির্বাচনের ধরন এবং অংশগ্রহণমূলক হবে কিনা—এসব বিষয় সেটেলড না হওয়া পর্যন্ত আসন চূড়ান্ত করার সময় আসেনি। চূড়ান্ত প্রার্থী প্রত্যাহারের আগে পর্যন্ত অনেকেই আসন নিশ্চিত হতে পারবে না।