CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রাথমিকের শিক্ষকদের গ্রেড কমানোর প্রস্তাব

#
news image

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠনগুলোর দাবি-দাওয়া নিয়ে জাতীয় বেতন কমিশনের (পে-কমিশন) সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভা শেষে প্রাথমিকের শিক্ষকরা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখছেন। শিক্ষকদের অন্যান্য দাবি, যেমন—বেতন বৃদ্ধি, টাইম স্কেল, টিফিন, শিক্ষা ও চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে পে-কমিশন সুপারিশ করার আশ্বাস দিলেও, গ্রেড নির্ধারণের এখতিয়ার না থাকায় ১১তম গ্রেড নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে প্রচলিত ২০টি গ্রেড ভেঙে ১২টি গ্রেড না করা হলে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড পাওয়া সম্ভব নয় বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন।১১তম গ্রেড নিয়ে মূল জটিলতাপ্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ জানান, পে-কমিশনের সরাসরি গ্রেড নির্ধারণের এখতিয়ার নেই। জটিলতার মূল কারণ:এখতিয়ারের সীমাবদ্ধতা: বিদ্যমান ২০টি গ্রেড ঠিক রেখে পে-কমিশন চাইলেও সহকারী শিক্ষকদের জন্য ১১তম গ্রেড নির্ধারণ করতে পারবে না। এটি মূলত সার্ভিস কমিশনের কাজ।সমাধানের পথ: সহকারী শিক্ষকরা ১১তম গ্রেড তখনই পাবেন, যখন পে-কমিশন ২০টি গ্রেড ভেঙে ১২টি গ্রেড করার সুপারিশ করবে এবং সেই ১২টি গ্রেডের মধ্যে ১৩, ১২ এবং ১১ নম্বর গ্রেডকে একসঙ্গে সমন্বয় করা হবে।অনিশ্চয়তা: পে-কমিশন বিদ্যমান গ্রেড কাঠামো ভাঙার সুপারিশ করবে কিনা, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে গ্রেড কমানো না হলে ১১তম গ্রেড নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।যদিও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ১১তম গ্রেডের সুপারিশ পে-কমিশনে পাঠানো হয়েছে, কিন্তু এই সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়টি গ্রেড কাঠামো পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল।

শিক্ষক সংগঠনগুলোর অন্যান্য দাবি ও কমিশনের আশ্বাসসহকারী শিক্ষকরা (যারা প্রধান শিক্ষকদের জন্য দশম গ্রেড বাস্তবায়নের পর ১১তম গ্রেড দাবি করছেন) পে-কমিশনের কাছে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাবিও তুলে ধরেছেন:দাবির ক্ষেত্রদাবির বিষয়বস্তুকমিশনের প্রতিক্রিয়াগ্রেড কাঠামো২০টি গ্রেড ভেঙে ১০ থেকে ১২টি গ্রেড করা। (বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ও বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি উভয়ের প্রস্তাব)কমিশন সদস্যরা প্রস্তাবে সহমত জানিয়েছেন।ভাতাটিফিন ভাতা (বর্তমান ৬ টাকা ৬৬ পয়সা) বাড়ানো। বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বাড়ানো।

কমিশন সদস্যরা বর্তমান টিফিন ভাতা শুনে লজ্জা পেয়েছেন এবং সব ভাতার বিষয়ে সুপারিশ করার আশ্বাস দিয়েছেন।টাইম স্কেলআগের মতো তিনটি টাইম স্কেল পুনর্বহাল করা।কমিশন সুপারিশ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।পেনশনপেনশন শতভাগ করা এবং দ্রব্যমূল্য অনুযায়ী '১ টাকায় ৫০০ টাকা' নির্ধারণের দাবি। (বর্তমানে পেনশন ৯০% এবং ১ টাকায় ২৩০ টাকা হিসাবে গণনা করা হয়)।কমিশন সুপারিশ করার আশ্বাস দিয়েছে।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অবস্থানপ্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, তারা লিখিতভাবে পে-কমিশনকে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার অনুরোধ করেছেন। গ্রেড কমানোর বিষয়ে তিনি ধারণা দেন, "যতটুকু শুনেছি, আমার মনে হয় গ্রেড কমাবে পে-কমিশন।"পে-কমিশন গঠন প্রসঙ্গে: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করতে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গত ২৭ জুলাই 'জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫' গঠন করা হয়। এই কমিশন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেবে এবং নতুন স্কেলে বেতন-ভাতা ২০২৬ সালের শুরু থেকে কার্যকর হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ অক্টোবর, ২০২৫,  7:10 PM

news image

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠনগুলোর দাবি-দাওয়া নিয়ে জাতীয় বেতন কমিশনের (পে-কমিশন) সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভা শেষে প্রাথমিকের শিক্ষকরা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখছেন। শিক্ষকদের অন্যান্য দাবি, যেমন—বেতন বৃদ্ধি, টাইম স্কেল, টিফিন, শিক্ষা ও চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে পে-কমিশন সুপারিশ করার আশ্বাস দিলেও, গ্রেড নির্ধারণের এখতিয়ার না থাকায় ১১তম গ্রেড নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে প্রচলিত ২০টি গ্রেড ভেঙে ১২টি গ্রেড না করা হলে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড পাওয়া সম্ভব নয় বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন।১১তম গ্রেড নিয়ে মূল জটিলতাপ্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ জানান, পে-কমিশনের সরাসরি গ্রেড নির্ধারণের এখতিয়ার নেই। জটিলতার মূল কারণ:এখতিয়ারের সীমাবদ্ধতা: বিদ্যমান ২০টি গ্রেড ঠিক রেখে পে-কমিশন চাইলেও সহকারী শিক্ষকদের জন্য ১১তম গ্রেড নির্ধারণ করতে পারবে না। এটি মূলত সার্ভিস কমিশনের কাজ।সমাধানের পথ: সহকারী শিক্ষকরা ১১তম গ্রেড তখনই পাবেন, যখন পে-কমিশন ২০টি গ্রেড ভেঙে ১২টি গ্রেড করার সুপারিশ করবে এবং সেই ১২টি গ্রেডের মধ্যে ১৩, ১২ এবং ১১ নম্বর গ্রেডকে একসঙ্গে সমন্বয় করা হবে।অনিশ্চয়তা: পে-কমিশন বিদ্যমান গ্রেড কাঠামো ভাঙার সুপারিশ করবে কিনা, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে গ্রেড কমানো না হলে ১১তম গ্রেড নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।যদিও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ১১তম গ্রেডের সুপারিশ পে-কমিশনে পাঠানো হয়েছে, কিন্তু এই সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়টি গ্রেড কাঠামো পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল।

শিক্ষক সংগঠনগুলোর অন্যান্য দাবি ও কমিশনের আশ্বাসসহকারী শিক্ষকরা (যারা প্রধান শিক্ষকদের জন্য দশম গ্রেড বাস্তবায়নের পর ১১তম গ্রেড দাবি করছেন) পে-কমিশনের কাছে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাবিও তুলে ধরেছেন:দাবির ক্ষেত্রদাবির বিষয়বস্তুকমিশনের প্রতিক্রিয়াগ্রেড কাঠামো২০টি গ্রেড ভেঙে ১০ থেকে ১২টি গ্রেড করা। (বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ও বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি উভয়ের প্রস্তাব)কমিশন সদস্যরা প্রস্তাবে সহমত জানিয়েছেন।ভাতাটিফিন ভাতা (বর্তমান ৬ টাকা ৬৬ পয়সা) বাড়ানো। বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বাড়ানো।

কমিশন সদস্যরা বর্তমান টিফিন ভাতা শুনে লজ্জা পেয়েছেন এবং সব ভাতার বিষয়ে সুপারিশ করার আশ্বাস দিয়েছেন।টাইম স্কেলআগের মতো তিনটি টাইম স্কেল পুনর্বহাল করা।কমিশন সুপারিশ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।পেনশনপেনশন শতভাগ করা এবং দ্রব্যমূল্য অনুযায়ী '১ টাকায় ৫০০ টাকা' নির্ধারণের দাবি। (বর্তমানে পেনশন ৯০% এবং ১ টাকায় ২৩০ টাকা হিসাবে গণনা করা হয়)।কমিশন সুপারিশ করার আশ্বাস দিয়েছে।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অবস্থানপ্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, তারা লিখিতভাবে পে-কমিশনকে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার অনুরোধ করেছেন। গ্রেড কমানোর বিষয়ে তিনি ধারণা দেন, "যতটুকু শুনেছি, আমার মনে হয় গ্রেড কমাবে পে-কমিশন।"পে-কমিশন গঠন প্রসঙ্গে: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করতে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গত ২৭ জুলাই 'জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫' গঠন করা হয়। এই কমিশন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেবে এবং নতুন স্কেলে বেতন-ভাতা ২০২৬ সালের শুরু থেকে কার্যকর হতে পারে।