CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
টাইটেল ঢাকা-৯ এর ‘ঘরের মেয়ে’ তাসনিম জারা, কিন্তু ভোটার ঢাকা-১১? ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অধিকারহরণের অপকৌশল রুখতে হবে কুৎসা রটিয়ে ও ধাপ্পা দিয়ে জনগণের ভোট নেওয়া যায় না : মির্জা আব্বাস কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ 'জাহাজপোড়া ক্যাসেল' রিসোর্ট’র শুভ উদ্বোধন করলেন ডিআইজি ২২তম জাতীয় সিনিয়র ও জুনিয়র তায়কোয়ানডো সিনিয়রে আনসার ও জুনিয়রে বিকেএসপি চ্যাম্পিয়ন নড়াইল জেলা সমিতি রাজশাহীর নতুন সভাপতি দীপু, সম্পাদক তাজ মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসকে সামাজিকভাবে প্রতিহত করতে হবে: মির্জা আব্বাস ধর্ম ও বিকাশ দিয়ে ভোট কেনা আচরণবিধির লঙ্ঘন নয়? প্রশ্ন রিজভীর ন্যায়, ইনসাফ ও জবাবদিহিতার বাংলাদেশ গড়তে চাই.....ডা. শফিকুর রহমান পরাজিত শক্তির সহযোগীরাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’র বিরোধী

জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক: কমিশনের নীতিমালা নিয়ে বিতর্ক 

#
news image

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ায় বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) তালিকাভুক্তির পরপরই প্রতিবারই নানা অভিযোগ ওঠে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, বেশিরভাগ সংস্থারই নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা নেই। অনেক প্রতিষ্ঠানের আবার কোনও অফিসও নেই, তবুও তারা পর্যবেক্ষক হতে চায়।আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর উদ্দেশ্য, অযোগ্যতা এবং নির্বাচন কমিশনের জারি করা নতুন নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করা হলো।
পর্যবেক্ষক হতে চাওয়ার মূল উদ্দেশ্যনির্বাচন বিশ্লেষক ও অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষকদের মতে, অনেক এনজিও নির্বাচন পর্যবেক্ষক হতে চায় মূলত নিম্নলিখিত কারণে:পরিচিতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি: নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ডোনারদের কাছে ও স্থানীয় নেতাদের কাছে পরিচিতি লাভ করা। এতে সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ও সুনাম বাড়ে।ভবিষ্যতে অনুদান: খ্যাতি বাড়লে ভবিষ্যতে বড় প্রকল্প বা অনুদান পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।ফান্ড ব্যবস্থাপনা: ছোট ফান্ড পেলে তার বেশিরভাগ খরচ না করে নামেমাত্র প্রতিবেদন দেওয়া এবং বাকি ফান্ড নিজেদের কাজে ব্যবহার করার প্রবণতা থাকে।'উপভোগ' বা 'উদযাপন': অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী নির্বাচনের দিনটি 'আনন্দ' বা 'উৎসব' হিসেবে গণ্য করে, ঘুরে ঘুরে নির্বাচন 'এনজয়' করার জন্য আবেদন করেন।উদাহরণ: নরসিংদীর ‘অগ্রগতি সেবা সংস্থা’র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জামাল হোসেন বলেন, "আমরা এটা আনন্দে করি। একটা উৎসব, নির্বাচন কেমন হচ্ছে দেখবো।" বিবি আছিয়া ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মনির হোসেনও "দিনটা উদযাপনের জন্য সঙ্গে থাকতে চান"।

নির্বাচন কমিশনের নতুন নীতিমালা (দেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য)বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) দেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫’ জারি করেছে।নীতিমালার অংশশর্তাবলীআবেদনের যোগ্যতাবেসরকারি সংস্থা যাদের নিবন্ধিত গঠনতন্ত্রে গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করার এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নাগরিকদের মধ্যে তথ্য প্রচার ও উদ্বুদ্ধকরণের অঙ্গীকার রয়েছে, কেবল তারাই আবেদন করতে পারবে।অযোগ্যতা* নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তি সংস্থার প্রধান নির্বাহী বা পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হতে পারবেন না। * আবেদনকৃত সময়ের মধ্যে কোনও নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী এমন কেউ সংস্থার প্রধান নির্বাহী বা পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হতে পারবেন না।অঙ্গীকারআবেদনকারী সংস্থাকে অবশ্যই হলফনামা দিতে হবে যে তাদের প্রধান নির্বাহী বা পরিচালনা পর্ষদের কোনো সদস্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন।
তালিকা নিয়ে বিতর্ক ও অসঙ্গতিইসি থেকে এ পর্যন্ত ৭৩টি আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হয়েছে, যদিও এটি চূড়ান্ত নয়। তবে এই তালিকা প্রকাশের পরপরই যোগ্যতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে:ঠিকানার অসঙ্গতি: একাধিক প্রতিষ্ঠানের আবেদনপত্রে দেওয়া ঠিকানায় অফিসের খোঁজ মেলেনি।দক্ষতার অভাব: প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত অনেক সংস্থার প্রধান কাজ হলো দক্ষতা উন্নয়ন, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, আয় সৃজন, বা প্রকৃতি সংরক্ষণ—যা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজের দক্ষতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ঝিনাইদহের তিনটি সংস্থা প্রাথমিক নিবন্ধন পেলেও তাদের কাজের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।ছোট পরিসর: জাতীয়ভাবে খ্যাত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাদে বেশিরভাগই অত্যন্ত ছোট প্রতিষ্ঠান, যাদের একটি কার্যকর ও নিরপেক্ষ প্রতিবেদন তৈরির দক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণজাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, এই ধরনের প্রবণতা কাম্য নয়:"পর্যবেক্ষকের যথেচ্ছাচারের ব্যাপারটা এরশাদের আমলে শুরু হলেও ধীরে ধীরে পরবর্তীকালে তার গুণগত মান আরও কমেছে। এটাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।" তিনি ইসি-কে নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টতা যেন না থাকে, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ নভেম্বর, ২০২৫,  3:46 PM

news image

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ায় বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) তালিকাভুক্তির পরপরই প্রতিবারই নানা অভিযোগ ওঠে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, বেশিরভাগ সংস্থারই নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা নেই। অনেক প্রতিষ্ঠানের আবার কোনও অফিসও নেই, তবুও তারা পর্যবেক্ষক হতে চায়।আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর উদ্দেশ্য, অযোগ্যতা এবং নির্বাচন কমিশনের জারি করা নতুন নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করা হলো।
পর্যবেক্ষক হতে চাওয়ার মূল উদ্দেশ্যনির্বাচন বিশ্লেষক ও অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষকদের মতে, অনেক এনজিও নির্বাচন পর্যবেক্ষক হতে চায় মূলত নিম্নলিখিত কারণে:পরিচিতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি: নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ডোনারদের কাছে ও স্থানীয় নেতাদের কাছে পরিচিতি লাভ করা। এতে সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ও সুনাম বাড়ে।ভবিষ্যতে অনুদান: খ্যাতি বাড়লে ভবিষ্যতে বড় প্রকল্প বা অনুদান পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।ফান্ড ব্যবস্থাপনা: ছোট ফান্ড পেলে তার বেশিরভাগ খরচ না করে নামেমাত্র প্রতিবেদন দেওয়া এবং বাকি ফান্ড নিজেদের কাজে ব্যবহার করার প্রবণতা থাকে।'উপভোগ' বা 'উদযাপন': অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী নির্বাচনের দিনটি 'আনন্দ' বা 'উৎসব' হিসেবে গণ্য করে, ঘুরে ঘুরে নির্বাচন 'এনজয়' করার জন্য আবেদন করেন।উদাহরণ: নরসিংদীর ‘অগ্রগতি সেবা সংস্থা’র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জামাল হোসেন বলেন, "আমরা এটা আনন্দে করি। একটা উৎসব, নির্বাচন কেমন হচ্ছে দেখবো।" বিবি আছিয়া ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মনির হোসেনও "দিনটা উদযাপনের জন্য সঙ্গে থাকতে চান"।

নির্বাচন কমিশনের নতুন নীতিমালা (দেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য)বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) দেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫’ জারি করেছে।নীতিমালার অংশশর্তাবলীআবেদনের যোগ্যতাবেসরকারি সংস্থা যাদের নিবন্ধিত গঠনতন্ত্রে গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করার এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নাগরিকদের মধ্যে তথ্য প্রচার ও উদ্বুদ্ধকরণের অঙ্গীকার রয়েছে, কেবল তারাই আবেদন করতে পারবে।অযোগ্যতা* নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তি সংস্থার প্রধান নির্বাহী বা পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হতে পারবেন না। * আবেদনকৃত সময়ের মধ্যে কোনও নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী এমন কেউ সংস্থার প্রধান নির্বাহী বা পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হতে পারবেন না।অঙ্গীকারআবেদনকারী সংস্থাকে অবশ্যই হলফনামা দিতে হবে যে তাদের প্রধান নির্বাহী বা পরিচালনা পর্ষদের কোনো সদস্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন।
তালিকা নিয়ে বিতর্ক ও অসঙ্গতিইসি থেকে এ পর্যন্ত ৭৩টি আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হয়েছে, যদিও এটি চূড়ান্ত নয়। তবে এই তালিকা প্রকাশের পরপরই যোগ্যতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে:ঠিকানার অসঙ্গতি: একাধিক প্রতিষ্ঠানের আবেদনপত্রে দেওয়া ঠিকানায় অফিসের খোঁজ মেলেনি।দক্ষতার অভাব: প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত অনেক সংস্থার প্রধান কাজ হলো দক্ষতা উন্নয়ন, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, আয় সৃজন, বা প্রকৃতি সংরক্ষণ—যা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজের দক্ষতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ঝিনাইদহের তিনটি সংস্থা প্রাথমিক নিবন্ধন পেলেও তাদের কাজের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।ছোট পরিসর: জাতীয়ভাবে খ্যাত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাদে বেশিরভাগই অত্যন্ত ছোট প্রতিষ্ঠান, যাদের একটি কার্যকর ও নিরপেক্ষ প্রতিবেদন তৈরির দক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণজাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, এই ধরনের প্রবণতা কাম্য নয়:"পর্যবেক্ষকের যথেচ্ছাচারের ব্যাপারটা এরশাদের আমলে শুরু হলেও ধীরে ধীরে পরবর্তীকালে তার গুণগত মান আরও কমেছে। এটাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।" তিনি ইসি-কে নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টতা যেন না থাকে, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন।