নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ নভেম্বর, ২০২৫, 6:57 PM
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জুলাই জাতীয় সনদ বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিয়ে প্রধান দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ এখন চরমে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি’র মধ্যে সরাসরি বাকবিতণ্ডার জেরে পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়ায়, গত ৩ নভেম্বর, সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের এক জরুরি সভা থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘এক সপ্তাহের’ মধ্যে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
এরই মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনরত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি সমমনা ইসলামী দল গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারকে চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছে। দলগুলোর পক্ষ থেকে আগামী ১১ নভেম্বরের আগে তাদের পাঁচ দফা দাবি মেনে নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। দাবি না মানলে ঐদিন (১১ নভেম্বর) রাজধানীতে মহাসমাবেশ থেকে ঢাকার চিত্র ভিন্ন হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গতকাল সকালে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি এই আটটি দলের নেতাকর্মীরা পল্টন মোড়ে সমবেত হন এবং সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
মিছিলটি মৎস্য ভবন এলাকায় পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়ে। এরপর আট দলের নয়জন নেতা একটি প্রতিনিধি দল হিসেবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিতে যান।
নেতারা যখন যমুনায় পৌঁছান, তখন প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক চলছিল। পরে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানকে আন্দোলনরত দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য পাঠানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানের পর ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, শিল্প উপদেষ্টা রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সরকারের আন্তরিকতার কথা জানিয়েছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে এক সপ্তাহের মধ্যে আলোচনা করে সরকারকে তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর কথা স্মরণ করিয়ে দেন। আটটি দল সরকারকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিলেও আলোচনায় সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তারা শিল্প উপদেষ্টাকে জানান।
আন্দোলনরত আটটি দলের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ১. জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা। ২. ওই আদেশের ওপর নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট আয়োজন করা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরক্তি ও অসহায়ত্বের আভাস স্পষ্ট। বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, দলগুলো ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হলে সরকার তার নিজস্ব পথে সিদ্ধান্ত নেবে।
গত ৩ নভেম্বরের বৈঠকে বহু বিষয়ে ঐকমত্য স্থাপনের জন্য ঐকমত্য কমিশন ও দলগুলোর প্রতি ধন্যবাদ জানানো হলেও, জানা গেছে অনেক বিষয়েই প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। আইন উপদেষ্টা আক্ষেপ করে বলেন, ‘এত দিন আলোচনার পর যদি ঐকমত্য না আসে, তো আমরা আসলে কীভাবে কী করব, সত্যি আমাদের চিন্তা করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির পর রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে দ্রুততম সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়নে মতভেদের মাঝেই প্রধান দলগুলোর মধ্যে সরাসরি বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
মির্জা ফখরুলের অভিযোগ: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তারা সংসদ নির্বাচন নিয়ে মিথ্যা কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন, ‘ওই দলটি বলছে বিএনপি নাকি নির্বাচন পেছাতে চায়।’ তিনি দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে নিজেদের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা মওদুদী ইসলামের অনুসারী নই, আমরা মদিনার ইসলামের অনুসারী।’ রাজনীতির স্বার্থে ইসলামকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করা কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের নতুন তথ্য দিয়ে বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনে গিয়ে একটি দলের চাপের মুখে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি দেশের পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলার জন্য বিএনপিকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই পরিস্থিতিতে দুই দলের কিছু চমকপ্রদ তথ্য সামনে আনে। তিনি বলেন, ‘জামায়াতের কার্যক্রমে মনে হচ্ছে, তাদের নির্বাচন পেছনোর অভিসন্ধি বা দুরভিসন্ধি আছে। বিএনপি ও জামায়াত গণভোটের তারিখকেই মূল করে দিয়েছে।’ এদিকে, চলমান এই রেষারেষির মধ্যেই গত ২ নভেম্বর, রোববার, বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাকর্মীদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আপনাদের চারপাশে সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গুপ্ত স্বৈরাচার কিন্তু ওৎ পেতে রয়েছে। নিজেদের মধ্যে রেষারেষি, বিবাদ-বিরোধ এমন পর্যায়ে নেওয়া ঠিক হবে না, যাতে করে প্রতিপক্ষ সুযোগ নিতে পারে। এই সংকটের মধ্যে গত ১ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানদের (সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান) সাক্ষাৎ নিয়েও সারাদেশে কানাঘুষা শুরু হয়েছে।
উপদেষ্টা পরিষদের কড়া বার্তা আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে আগামী এক সপ্তাহ পর কী হতে চলেছে? এই ঐকমত্যহীনতার ফল কী হবে? অনেকে স্মরণ করছেন, এর আগেও সংকটে প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের গুঞ্জন উঠেছিল। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াত ইসলামীর পক্ষ থেকে মতভেদ কাটাতে আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হলেও, বিএনপি’র পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি। সমগ্র জাতি এখন তাকিয়ে আছে প্রধান উপদেষ্টার আল্টিমেটামের দিকে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ নভেম্বর, ২০২৫, 6:57 PM
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জুলাই জাতীয় সনদ বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিয়ে প্রধান দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ এখন চরমে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি’র মধ্যে সরাসরি বাকবিতণ্ডার জেরে পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়ায়, গত ৩ নভেম্বর, সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের এক জরুরি সভা থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘এক সপ্তাহের’ মধ্যে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
এরই মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনরত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি সমমনা ইসলামী দল গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারকে চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছে। দলগুলোর পক্ষ থেকে আগামী ১১ নভেম্বরের আগে তাদের পাঁচ দফা দাবি মেনে নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। দাবি না মানলে ঐদিন (১১ নভেম্বর) রাজধানীতে মহাসমাবেশ থেকে ঢাকার চিত্র ভিন্ন হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গতকাল সকালে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি এই আটটি দলের নেতাকর্মীরা পল্টন মোড়ে সমবেত হন এবং সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
মিছিলটি মৎস্য ভবন এলাকায় পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়ে। এরপর আট দলের নয়জন নেতা একটি প্রতিনিধি দল হিসেবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিতে যান।
নেতারা যখন যমুনায় পৌঁছান, তখন প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক চলছিল। পরে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানকে আন্দোলনরত দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য পাঠানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানের পর ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, শিল্প উপদেষ্টা রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সরকারের আন্তরিকতার কথা জানিয়েছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে এক সপ্তাহের মধ্যে আলোচনা করে সরকারকে তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর কথা স্মরণ করিয়ে দেন। আটটি দল সরকারকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিলেও আলোচনায় সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তারা শিল্প উপদেষ্টাকে জানান।
আন্দোলনরত আটটি দলের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ১. জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা। ২. ওই আদেশের ওপর নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট আয়োজন করা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরক্তি ও অসহায়ত্বের আভাস স্পষ্ট। বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, দলগুলো ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হলে সরকার তার নিজস্ব পথে সিদ্ধান্ত নেবে।
গত ৩ নভেম্বরের বৈঠকে বহু বিষয়ে ঐকমত্য স্থাপনের জন্য ঐকমত্য কমিশন ও দলগুলোর প্রতি ধন্যবাদ জানানো হলেও, জানা গেছে অনেক বিষয়েই প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। আইন উপদেষ্টা আক্ষেপ করে বলেন, ‘এত দিন আলোচনার পর যদি ঐকমত্য না আসে, তো আমরা আসলে কীভাবে কী করব, সত্যি আমাদের চিন্তা করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির পর রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে দ্রুততম সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়নে মতভেদের মাঝেই প্রধান দলগুলোর মধ্যে সরাসরি বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
মির্জা ফখরুলের অভিযোগ: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তারা সংসদ নির্বাচন নিয়ে মিথ্যা কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন, ‘ওই দলটি বলছে বিএনপি নাকি নির্বাচন পেছাতে চায়।’ তিনি দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে নিজেদের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা মওদুদী ইসলামের অনুসারী নই, আমরা মদিনার ইসলামের অনুসারী।’ রাজনীতির স্বার্থে ইসলামকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করা কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের নতুন তথ্য দিয়ে বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনে গিয়ে একটি দলের চাপের মুখে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি দেশের পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলার জন্য বিএনপিকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই পরিস্থিতিতে দুই দলের কিছু চমকপ্রদ তথ্য সামনে আনে। তিনি বলেন, ‘জামায়াতের কার্যক্রমে মনে হচ্ছে, তাদের নির্বাচন পেছনোর অভিসন্ধি বা দুরভিসন্ধি আছে। বিএনপি ও জামায়াত গণভোটের তারিখকেই মূল করে দিয়েছে।’ এদিকে, চলমান এই রেষারেষির মধ্যেই গত ২ নভেম্বর, রোববার, বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাকর্মীদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আপনাদের চারপাশে সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গুপ্ত স্বৈরাচার কিন্তু ওৎ পেতে রয়েছে। নিজেদের মধ্যে রেষারেষি, বিবাদ-বিরোধ এমন পর্যায়ে নেওয়া ঠিক হবে না, যাতে করে প্রতিপক্ষ সুযোগ নিতে পারে। এই সংকটের মধ্যে গত ১ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানদের (সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান) সাক্ষাৎ নিয়েও সারাদেশে কানাঘুষা শুরু হয়েছে।
উপদেষ্টা পরিষদের কড়া বার্তা আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে আগামী এক সপ্তাহ পর কী হতে চলেছে? এই ঐকমত্যহীনতার ফল কী হবে? অনেকে স্মরণ করছেন, এর আগেও সংকটে প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের গুঞ্জন উঠেছিল। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াত ইসলামীর পক্ষ থেকে মতভেদ কাটাতে আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হলেও, বিএনপি’র পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি। সমগ্র জাতি এখন তাকিয়ে আছে প্রধান উপদেষ্টার আল্টিমেটামের দিকে।