তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
২৫ নভেম্বর, ২০২৫, 5:01 PM
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (পূর্বের টুইটার) চালু হওয়া নতুন ফিচার ‘ অ্যাবাউট দিস প্রোফাইল’ ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। এই ফিচারের মাধ্যমে অন্য ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত অতিরিক্ত তথ্য জানা যাচ্ছে—কতবার ইউজারনেম পরিবর্তন হয়েছে, কখন প্ল্যাটফর্মে যোগ দিয়েছেন, এমনকি অ্যাকাউন্টটি আসলে কোন দেশভিত্তিক।
এই শেষ তথ্যটিই বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। কারণ, দেখা যাচ্ছে—অনেক তথাকথিত আমেরিকা-প্রেমী, ‘ম্যাগা বা প্রো-ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট আসলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিকই নয়।
উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক @MAGANationX–কে। প্রায় ৪ লাখ অনুসারীর এই অ্যাকাউন্ট নিজেকে ‘আমেরিকান ফার্স্ট প্যাট্রিয়ট ভয়েস’ দাবি করলেও নতুন ফিচার জানাচ্ছে—অ্যাকাউন্টটি আসলে পূর্ব ইউরোপে অবস্থান করছে। আরেকটি অ্যাকাউন্ট @1776General_, যার বায়োতে লেখা “Ethnically American”, সেটি আসলে তুরস্কভিত্তিক।
শুধু তাই নয়— ‘America First’ নামে আরেকটি অ্যাকাউন্টের অবস্থান বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশে। ভার্জিনিয়া-ভিত্তিক দাবি করা একটি অ্যাকাউন্টের অবস্থানও পূর্ব ইউরোপে শনাক্ত হয়েছে। ট্রাম্প পরিবারের নাম ব্যবহারকারী বহু ফ্যান অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে বিদেশে—বারন ট্রাম্প নিয়ে এক অ্যাকাউন্ট পূর্ব ইউরোপে, ইভাঙ্কা ট্রাম্পের ফ্যান অ্যাকাউন্ট নাইজেরিয়ায়, আর কাই ট্রাম্প নিয়ে আরেকটি অ্যাকাউন্ট মেসিডোনিয়ায়।
তবে বিষয়টি শুধু ‘ম্যাগা’ মহলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ৫০ হাজারের বেশি অনুসারী থাকা, ‘প্রাউড ডেমোক্র্যাট’ ও ‘প্রফেশনাল ম্যাগা হান্টার’ পরিচয় দেওয়া একটি অ্যাকাউন্ট—যা পরে মুছে ফেলা হয়েছে—সেটিও আসলে কেনিয়া-ভিত্তিক ছিল।
এক্সের প্রোডাক্ট প্রধান নিকিতা বিয়ার জানিয়েছেন, নতুন ফিচারের উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীদের সামনে থাকা কনটেন্টের আসল উৎস ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ে সহায়তা করা।
যদিও কিছু অ্যাকাউন্ট ভিপিএন ব্যবহার করতে পারে, তবে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারদের দাবি—এক্স সাধারণত ভিপিএন ব্যবহারের বিষয়টি শনাক্ত করতে সক্ষম এবং তখন অ্যাকাউন্টে দেখায়— ‘কান্ট্রি অর রিজিয়ন মে নট বি অ্যাকুরেট’। কিছু অ্যাকাউন্টে এই সতর্কবার্তা দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একই ধরনের কনটেন্ট ছড়ানো, একই অঞ্চল থেকে পরিচালিত এবং অবস্থান গোপন করা একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকলে সেগুলো বট ফার্ম বা সমন্বিত প্রভাব প্রচারণার অংশ হতে পারে।
বিদেশি স্বার্থে পরিচালিত অ্যাকাউন্টগুলো রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়ানো, ভুল তথ্য ছড়ানো বা জনমত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি হতে পারে। রাশিয়া, চীন, ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশকেই বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনের আগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এমন একটি প্রো-ট্রাম্প প্রভাব প্রচারের অভিযোগও ওঠে।
নতুন ফিচারটির ফলে এমন গোপন নেটওয়ার্কগুলো শনাক্ত করা আরও সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: গিজমডো
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
২৫ নভেম্বর, ২০২৫, 5:01 PM
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (পূর্বের টুইটার) চালু হওয়া নতুন ফিচার ‘ অ্যাবাউট দিস প্রোফাইল’ ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। এই ফিচারের মাধ্যমে অন্য ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত অতিরিক্ত তথ্য জানা যাচ্ছে—কতবার ইউজারনেম পরিবর্তন হয়েছে, কখন প্ল্যাটফর্মে যোগ দিয়েছেন, এমনকি অ্যাকাউন্টটি আসলে কোন দেশভিত্তিক।
এই শেষ তথ্যটিই বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। কারণ, দেখা যাচ্ছে—অনেক তথাকথিত আমেরিকা-প্রেমী, ‘ম্যাগা বা প্রো-ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট আসলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিকই নয়।
উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক @MAGANationX–কে। প্রায় ৪ লাখ অনুসারীর এই অ্যাকাউন্ট নিজেকে ‘আমেরিকান ফার্স্ট প্যাট্রিয়ট ভয়েস’ দাবি করলেও নতুন ফিচার জানাচ্ছে—অ্যাকাউন্টটি আসলে পূর্ব ইউরোপে অবস্থান করছে। আরেকটি অ্যাকাউন্ট @1776General_, যার বায়োতে লেখা “Ethnically American”, সেটি আসলে তুরস্কভিত্তিক।
শুধু তাই নয়— ‘America First’ নামে আরেকটি অ্যাকাউন্টের অবস্থান বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশে। ভার্জিনিয়া-ভিত্তিক দাবি করা একটি অ্যাকাউন্টের অবস্থানও পূর্ব ইউরোপে শনাক্ত হয়েছে। ট্রাম্প পরিবারের নাম ব্যবহারকারী বহু ফ্যান অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে বিদেশে—বারন ট্রাম্প নিয়ে এক অ্যাকাউন্ট পূর্ব ইউরোপে, ইভাঙ্কা ট্রাম্পের ফ্যান অ্যাকাউন্ট নাইজেরিয়ায়, আর কাই ট্রাম্প নিয়ে আরেকটি অ্যাকাউন্ট মেসিডোনিয়ায়।
তবে বিষয়টি শুধু ‘ম্যাগা’ মহলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ৫০ হাজারের বেশি অনুসারী থাকা, ‘প্রাউড ডেমোক্র্যাট’ ও ‘প্রফেশনাল ম্যাগা হান্টার’ পরিচয় দেওয়া একটি অ্যাকাউন্ট—যা পরে মুছে ফেলা হয়েছে—সেটিও আসলে কেনিয়া-ভিত্তিক ছিল।
এক্সের প্রোডাক্ট প্রধান নিকিতা বিয়ার জানিয়েছেন, নতুন ফিচারের উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীদের সামনে থাকা কনটেন্টের আসল উৎস ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ে সহায়তা করা।
যদিও কিছু অ্যাকাউন্ট ভিপিএন ব্যবহার করতে পারে, তবে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারদের দাবি—এক্স সাধারণত ভিপিএন ব্যবহারের বিষয়টি শনাক্ত করতে সক্ষম এবং তখন অ্যাকাউন্টে দেখায়— ‘কান্ট্রি অর রিজিয়ন মে নট বি অ্যাকুরেট’। কিছু অ্যাকাউন্টে এই সতর্কবার্তা দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একই ধরনের কনটেন্ট ছড়ানো, একই অঞ্চল থেকে পরিচালিত এবং অবস্থান গোপন করা একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকলে সেগুলো বট ফার্ম বা সমন্বিত প্রভাব প্রচারণার অংশ হতে পারে।
বিদেশি স্বার্থে পরিচালিত অ্যাকাউন্টগুলো রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়ানো, ভুল তথ্য ছড়ানো বা জনমত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি হতে পারে। রাশিয়া, চীন, ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশকেই বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনের আগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এমন একটি প্রো-ট্রাম্প প্রভাব প্রচারের অভিযোগও ওঠে।
নতুন ফিচারটির ফলে এমন গোপন নেটওয়ার্কগুলো শনাক্ত করা আরও সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: গিজমডো