ইউসুফ আলী বাচ্চু
২৬ নভেম্বর, ২০২৫, 5:40 PM
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে এই ধারণা জোরালো হচ্ছে যে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক বা না করুক, দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা দলটির বিশাল ভোট ব্যাংকই নির্বাচনের জয়-পরাজয় নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। দেশের সার্বিক নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অনভিজ্ঞতার কারণে সৃষ্ট সংকট আওয়ামী লীগের অনুকূলে কাজ করছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা একমত যে, ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করলেও, ক্ষমতার অন্ধ নেশায় বিরুদ্ধ মত দমন, সুশাসনের অভাব এবং ব্যাপক দুর্নীতির কারণে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল। সুযোগসন্ধানী মহল সুকৌশলে এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। তবে, জুলাই-আগস্ট গণ-আন্দোলনের ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সময়েও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, চাঁদাবাজি এবং মব সন্ত্রাস জনমনে অস্বস্তি সৃষ্টি করছে। যার ফলে, দিন যত যাচ্ছে, জনগণ রাজনীতির প্রতি ততই বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ছে।
বিএনপি’র নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন: অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি’র মূল নেতা তারেক জিয়া দেশে ফিরে কেন দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও প্রবাস থেকে দলের নেতৃত্ব দেওয়া নিয়ে সমালোচনা আছে।
অন্যান্য দলের পরিস্থিতি: বর্তমানে বিরাজমান পরিস্থিতিতে জামায়াত বা সরকার সমর্থিত তরুণদের দল এনসিপি নির্বাচনে জিতে দেশ শাসন করবে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব সবসময় ছিল, আছে এবং থাকবে। প্রকাশ্যে ভারতবিরোধী রূপ ধারণ করলেও, অন্তরালে সকল রাজনৈতিক দল ভারতের কাছে দেন দরবার করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যে দল বা জোটই সরকার গঠন করুক না কেন, ভারতের শুভ দৃষ্টি ছাড়া সেই সরকার স্থায়ী হবে বলে মনে হয় না।
শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে থাকবে কি না। যদি আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেয়, তবে নির্বাচনী সমীকরণ পাল্টে যাবে। কিন্তু যদি দলটিকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়, তবে সেই নির্বাচন আদৌ গ্রহণযোগ্যতা পাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকবে।
তাছাড়া, বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগের বিশাল ভোট ব্যাংককে বাইরে রেখে নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না।
এদিকে দল হিসাবে নির্বাচনের বাইরে থাকার সম্ভাবনায় নৌকা সমর্থক ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন দলের মাঠপর্যায়ে তৎপরতা বেড়েছে। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে নৌকা সমর্থকদের নিরাপত্তা, মামলা, হামলা বা হয়রানি থেকে রক্ষা করার নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।
জনসমর্থন ও ভোটারের দিক থেকে গোপালগঞ্জকে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাতীয় নির্বাচনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখানে তিনটি আসনেই নৌকা মার্কা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়। নৌকার বিপরীত প্রার্থীদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনা রয়েছে।
গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবার প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে। গোপালগঞ্জ-২ সদর আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী আজমল হোসেন সরদার, পেশায় আইনজীবী, ১৯৯৬ সালে গোপালগঞ্জ-২ থেকে শেষবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে থাকবে না ধরে নিয়ে তিনি নৌকার সমর্থকদের ভোট নিজের পক্ষে নিতে মাঠে কাজ করছেন।
গোপালগঞ্জে জামায়াতের পক্ষ থেকে নৌকা সমর্থকদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে এবং অজ্ঞাত মামলার নিরীহ আসামীদের ছাড়াতে সহায়তা করা হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর এবং এনসিপির সঙ্গে সংঘর্ষকে ঘিরে ২০-২৫টি মামলায় ৩০ হাজারের বেশি নামে-বেনামে আসামী হয়েছে। মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থাকলেও জামায়াত মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টার কথা বলছে।
জামায়তে ইসলামী আগামী নির্বাচনে নৌকার ভোটারদের নিজেদের পক্ষে নিতে সক্রিয়। সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকার বা আইনগত কারণে আমরা নির্বাচনে আসতে পারছি না, কিন্তু ভোটাররা রয়ে গেছে। যারা সাধারণ ভোটার, তারা আমাদের লক্ষ্য। আওয়ামী লীগের ক্ষমতাসীন নেতাদের অপরাধের জন্য সাধারণ ভোটার দায়ী নয়।’
তিনি বলেন, ‘নৌকার ভোটদাতা এখন দেখবে কোন দল ইশতেহার কি দিয়েছে, কার চরিত্র সৎ, কারা নিরাপদ।’ জামায়াত হিন্দু ভোটারদের জন্যও তৎপর, গোলাম পরওয়ার নিজ নির্বাচনী এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সমাবেশ করেছেন।
অপরদিকে বড় দল হিসেবে বিএনপি আত্মবিশ্বাসী। বিভিন্ন স্থানে নেতারা নৌকা ভোট নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ভোটব্যাংক কোনো দিকের নয়; আমাদের প্রোগ্রাম দেশের সব মানুষের জন্য।’ তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সংখ্যালঘুরাও গুরুত্ব পাচ্ছেন।
বিএনপির নেতা বলেন, ‘আমরা পার্টিকুলার ধর্ম বা গোষ্ঠীর জন্য রাজনীতি করি না। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করি। কোনো বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে রাজনীতি হতো না; আমরা রাজনীতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে চাই।’
রাজনৈক বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকারের জন্য পরিস্থিতি মোটেও সহজ হবে না। বর্তমানে দেশের সার্বিক অবস্থা নাজুক। অর্থনীতি নড়বড়ে, শিল্প-বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি সর্বক্ষেত্রে সংকট, দেনার দায় বেড়েই চলেছে, বিনিয়োগ প্রায় শূন্যের কোঠায়। এই পরিস্থিতিতে, নতুন সরকারের ‘হানিমুন করার সুযোগ’ থাকবে না।
সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের স্থিতিশীলতা বহুলাংশে নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত এবং সেই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তী সরকারের কৌশল ও পদক্ষেপের ওপর।
ইউসুফ আলী বাচ্চু
২৬ নভেম্বর, ২০২৫, 5:40 PM
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে এই ধারণা জোরালো হচ্ছে যে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক বা না করুক, দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা দলটির বিশাল ভোট ব্যাংকই নির্বাচনের জয়-পরাজয় নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। দেশের সার্বিক নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অনভিজ্ঞতার কারণে সৃষ্ট সংকট আওয়ামী লীগের অনুকূলে কাজ করছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা একমত যে, ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করলেও, ক্ষমতার অন্ধ নেশায় বিরুদ্ধ মত দমন, সুশাসনের অভাব এবং ব্যাপক দুর্নীতির কারণে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল। সুযোগসন্ধানী মহল সুকৌশলে এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। তবে, জুলাই-আগস্ট গণ-আন্দোলনের ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সময়েও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, চাঁদাবাজি এবং মব সন্ত্রাস জনমনে অস্বস্তি সৃষ্টি করছে। যার ফলে, দিন যত যাচ্ছে, জনগণ রাজনীতির প্রতি ততই বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ছে।
বিএনপি’র নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন: অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি’র মূল নেতা তারেক জিয়া দেশে ফিরে কেন দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও প্রবাস থেকে দলের নেতৃত্ব দেওয়া নিয়ে সমালোচনা আছে।
অন্যান্য দলের পরিস্থিতি: বর্তমানে বিরাজমান পরিস্থিতিতে জামায়াত বা সরকার সমর্থিত তরুণদের দল এনসিপি নির্বাচনে জিতে দেশ শাসন করবে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব সবসময় ছিল, আছে এবং থাকবে। প্রকাশ্যে ভারতবিরোধী রূপ ধারণ করলেও, অন্তরালে সকল রাজনৈতিক দল ভারতের কাছে দেন দরবার করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যে দল বা জোটই সরকার গঠন করুক না কেন, ভারতের শুভ দৃষ্টি ছাড়া সেই সরকার স্থায়ী হবে বলে মনে হয় না।
শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে থাকবে কি না। যদি আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেয়, তবে নির্বাচনী সমীকরণ পাল্টে যাবে। কিন্তু যদি দলটিকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়, তবে সেই নির্বাচন আদৌ গ্রহণযোগ্যতা পাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকবে।
তাছাড়া, বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগের বিশাল ভোট ব্যাংককে বাইরে রেখে নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না।
এদিকে দল হিসাবে নির্বাচনের বাইরে থাকার সম্ভাবনায় নৌকা সমর্থক ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন দলের মাঠপর্যায়ে তৎপরতা বেড়েছে। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে নৌকা সমর্থকদের নিরাপত্তা, মামলা, হামলা বা হয়রানি থেকে রক্ষা করার নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।
জনসমর্থন ও ভোটারের দিক থেকে গোপালগঞ্জকে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাতীয় নির্বাচনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখানে তিনটি আসনেই নৌকা মার্কা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়। নৌকার বিপরীত প্রার্থীদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনা রয়েছে।
গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবার প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে। গোপালগঞ্জ-২ সদর আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী আজমল হোসেন সরদার, পেশায় আইনজীবী, ১৯৯৬ সালে গোপালগঞ্জ-২ থেকে শেষবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে থাকবে না ধরে নিয়ে তিনি নৌকার সমর্থকদের ভোট নিজের পক্ষে নিতে মাঠে কাজ করছেন।
গোপালগঞ্জে জামায়াতের পক্ষ থেকে নৌকা সমর্থকদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে এবং অজ্ঞাত মামলার নিরীহ আসামীদের ছাড়াতে সহায়তা করা হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর এবং এনসিপির সঙ্গে সংঘর্ষকে ঘিরে ২০-২৫টি মামলায় ৩০ হাজারের বেশি নামে-বেনামে আসামী হয়েছে। মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থাকলেও জামায়াত মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টার কথা বলছে।
জামায়তে ইসলামী আগামী নির্বাচনে নৌকার ভোটারদের নিজেদের পক্ষে নিতে সক্রিয়। সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকার বা আইনগত কারণে আমরা নির্বাচনে আসতে পারছি না, কিন্তু ভোটাররা রয়ে গেছে। যারা সাধারণ ভোটার, তারা আমাদের লক্ষ্য। আওয়ামী লীগের ক্ষমতাসীন নেতাদের অপরাধের জন্য সাধারণ ভোটার দায়ী নয়।’
তিনি বলেন, ‘নৌকার ভোটদাতা এখন দেখবে কোন দল ইশতেহার কি দিয়েছে, কার চরিত্র সৎ, কারা নিরাপদ।’ জামায়াত হিন্দু ভোটারদের জন্যও তৎপর, গোলাম পরওয়ার নিজ নির্বাচনী এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সমাবেশ করেছেন।
অপরদিকে বড় দল হিসেবে বিএনপি আত্মবিশ্বাসী। বিভিন্ন স্থানে নেতারা নৌকা ভোট নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ভোটব্যাংক কোনো দিকের নয়; আমাদের প্রোগ্রাম দেশের সব মানুষের জন্য।’ তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সংখ্যালঘুরাও গুরুত্ব পাচ্ছেন।
বিএনপির নেতা বলেন, ‘আমরা পার্টিকুলার ধর্ম বা গোষ্ঠীর জন্য রাজনীতি করি না। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করি। কোনো বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে রাজনীতি হতো না; আমরা রাজনীতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে চাই।’
রাজনৈক বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকারের জন্য পরিস্থিতি মোটেও সহজ হবে না। বর্তমানে দেশের সার্বিক অবস্থা নাজুক। অর্থনীতি নড়বড়ে, শিল্প-বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি সর্বক্ষেত্রে সংকট, দেনার দায় বেড়েই চলেছে, বিনিয়োগ প্রায় শূন্যের কোঠায়। এই পরিস্থিতিতে, নতুন সরকারের ‘হানিমুন করার সুযোগ’ থাকবে না।
সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের স্থিতিশীলতা বহুলাংশে নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত এবং সেই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তী সরকারের কৌশল ও পদক্ষেপের ওপর।