নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ নভেম্বর, ২০২৫, 6:16 PM
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) পদে মো. আব্দুল আউয়ালের নিয়োগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে নজিরবিহীন অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ডিপিএইচই’র একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্রায় পাঁচ কোটি টাকার বিনিময়ে ক্ষমতাসীন এক প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি বাগিয়ে নিয়েছেন।
গত ১৭ নভেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মো. আব্দুল আউয়ালকে প্রধান প্রকৌশলীর পদে বসানোর প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে তার চেয়ে অন্তত তিনজন সিনিয়র প্রকৌশলীকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই লেনদেনটি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর ঘনিষ্ঠ এক দালালের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
যোগ্য সিনিয়রদের বঞ্চিত করার অভিযোগ: ডিপিএইচইয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে ফরিদপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমানসহ আরও তিনজন সিনিয়র কর্মকর্তা ছিলেন প্রথম সারিতে।
গোয়েন্দা মূল্যায়ন এড়িয়ে যাওয়া: গত মে মাসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যে পাঁচজন কর্মকর্তার এনএসআই মূল্যায়ন প্রতিবেদন চেয়েছিল, সেই তালিকায় আব্দুল আউয়ালের নাম ছিল না। অথচ ১১ নভেম্বর প্রধান প্রকৌশলীর অবসরের পর নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রথম তিন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে চতুর্থ অবস্থানে থাকা আব্দুল আউয়ালকে নিয়োগ দেওয়া হয়— কোনো গোয়েন্দা মূল্যায়ন ছাড়াই।
দ্রুত নথি উপস্থাপন: একাধিক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানান, ৫ কোটি টাকা লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার পরই প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগের নথিটি "অস্বাভাবিক দ্রুততা ও নীরবতায়" উপস্থাপিত ও অনুমোদিত হয়। সিনিয়র কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে এনএসআই প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক হলেও "নেতিবাচক প্রতিবেদন আসা নিশ্চিত" হওয়ায় সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
সরকারি চাকরির প্রচলিত বিধি অনুযায়ী, নিজ জেলায় দীর্ঘকাল কর্মরত থাকা নিষিদ্ধ হলেও মো. আব্দুল আউয়াল বারবার এই বিধি লঙ্ঘন করেছেন: দীর্ঘ অবস্থান: তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে ময়মনসিংহে দুই বছর, চলতি দায়িত্বে সিলেটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দেড় বছর এবং এরপর আবারও ময়মনসিংহ সার্কেলে প্রায় পাঁচ বছর ধরে একই স্থানে কর্মরত ছিলেন। সিনিয়র কর্মকর্তারা তার এই দীর্ঘকাল নিজ জেলায় অবস্থানকে "নজিরবিহীন" বলে বর্ণনা করেছেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সিন্ডিকেট দুর্নীতির অভিযোগ
আউয়ালের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। স্থানীয়ভাবে তিনি নিজেকে ছাত্রলীগ/আওয়ামী লীগ পরিচয়ের বলে প্রচার করতেন। অভিযোগ আছে, সাবেক এমপি আব্দুস সাত্তার এবং সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ব্যবহার করে তিনি জেলার অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।
সিন্ডিকেট দুর্নীতি: ময়মনসিংহ ও নরসিংদীতে তাঁর বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, ঠিকাদারদের কমিশন আদায়, নিজের ভাতিজার নামে "ডামি" ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তকে ঘুষ দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নিয়োগের পেছনে 'নিজ এলাকার লোক' নাকি লেনদেন?
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী এবং প্রকৌশলী আউয়াল দুজনেই ময়মনসিংহের মানুষ হওয়ায় সচিবের ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করছে, "নিজ এলাকার লোক হওয়ায়" তাকে পদটি দিতে সচিব উপদেষ্টাকে রাজি করিয়েছিলেন। তবে ডিপিএইচইয়ের ভেতরের আরেক পক্ষ বলছে, "মূল কারণ রাজনৈতিক প্রভাব নয়, ৫ কোটি টাকার লেনদেন।"
ডিপিএইচইয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে এভাবে তদবির, অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কাউকে বসানো হলে তা পুরো প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ নভেম্বর, ২০২৫, 6:16 PM
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) পদে মো. আব্দুল আউয়ালের নিয়োগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে নজিরবিহীন অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ডিপিএইচই’র একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্রায় পাঁচ কোটি টাকার বিনিময়ে ক্ষমতাসীন এক প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি বাগিয়ে নিয়েছেন।
গত ১৭ নভেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মো. আব্দুল আউয়ালকে প্রধান প্রকৌশলীর পদে বসানোর প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে তার চেয়ে অন্তত তিনজন সিনিয়র প্রকৌশলীকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই লেনদেনটি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর ঘনিষ্ঠ এক দালালের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
যোগ্য সিনিয়রদের বঞ্চিত করার অভিযোগ: ডিপিএইচইয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে ফরিদপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমানসহ আরও তিনজন সিনিয়র কর্মকর্তা ছিলেন প্রথম সারিতে।
গোয়েন্দা মূল্যায়ন এড়িয়ে যাওয়া: গত মে মাসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যে পাঁচজন কর্মকর্তার এনএসআই মূল্যায়ন প্রতিবেদন চেয়েছিল, সেই তালিকায় আব্দুল আউয়ালের নাম ছিল না। অথচ ১১ নভেম্বর প্রধান প্রকৌশলীর অবসরের পর নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রথম তিন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে চতুর্থ অবস্থানে থাকা আব্দুল আউয়ালকে নিয়োগ দেওয়া হয়— কোনো গোয়েন্দা মূল্যায়ন ছাড়াই।
দ্রুত নথি উপস্থাপন: একাধিক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানান, ৫ কোটি টাকা লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার পরই প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগের নথিটি "অস্বাভাবিক দ্রুততা ও নীরবতায়" উপস্থাপিত ও অনুমোদিত হয়। সিনিয়র কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে এনএসআই প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক হলেও "নেতিবাচক প্রতিবেদন আসা নিশ্চিত" হওয়ায় সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
সরকারি চাকরির প্রচলিত বিধি অনুযায়ী, নিজ জেলায় দীর্ঘকাল কর্মরত থাকা নিষিদ্ধ হলেও মো. আব্দুল আউয়াল বারবার এই বিধি লঙ্ঘন করেছেন: দীর্ঘ অবস্থান: তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে ময়মনসিংহে দুই বছর, চলতি দায়িত্বে সিলেটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দেড় বছর এবং এরপর আবারও ময়মনসিংহ সার্কেলে প্রায় পাঁচ বছর ধরে একই স্থানে কর্মরত ছিলেন। সিনিয়র কর্মকর্তারা তার এই দীর্ঘকাল নিজ জেলায় অবস্থানকে "নজিরবিহীন" বলে বর্ণনা করেছেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সিন্ডিকেট দুর্নীতির অভিযোগ
আউয়ালের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। স্থানীয়ভাবে তিনি নিজেকে ছাত্রলীগ/আওয়ামী লীগ পরিচয়ের বলে প্রচার করতেন। অভিযোগ আছে, সাবেক এমপি আব্দুস সাত্তার এবং সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ব্যবহার করে তিনি জেলার অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।
সিন্ডিকেট দুর্নীতি: ময়মনসিংহ ও নরসিংদীতে তাঁর বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, ঠিকাদারদের কমিশন আদায়, নিজের ভাতিজার নামে "ডামি" ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তকে ঘুষ দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নিয়োগের পেছনে 'নিজ এলাকার লোক' নাকি লেনদেন?
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী এবং প্রকৌশলী আউয়াল দুজনেই ময়মনসিংহের মানুষ হওয়ায় সচিবের ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করছে, "নিজ এলাকার লোক হওয়ায়" তাকে পদটি দিতে সচিব উপদেষ্টাকে রাজি করিয়েছিলেন। তবে ডিপিএইচইয়ের ভেতরের আরেক পক্ষ বলছে, "মূল কারণ রাজনৈতিক প্রভাব নয়, ৫ কোটি টাকার লেনদেন।"
ডিপিএইচইয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে এভাবে তদবির, অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কাউকে বসানো হলে তা পুরো প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা।