ইউসুফ আলী বাচ্চু
২৮ নভেম্বর, ২০২৫, 4:30 PM
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় নিজেদের উদ্যোগে 'বিমানবন্দর লিজ নীতিমালা' প্রণয়ন ও অনুমোদনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), বিমান বিশেষজ্ঞ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, স্টেকহোল্ডারদের মতামত ছাড়াই মাত্র দুই দিনের মধ্যে খসড়া তৈরির এই প্রচেষ্টা স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং গোপন বাণিজ্যিক স্বার্থের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে দেশের বিমান নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বেবিচকের আইনগত এখতিয়ার গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ খায়রুল আলম বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৭ অনুযায়ী বিমানবন্দরের সম্পত্তি অধিগ্রহণ, ব্যবস্থাপনা ও লিজ দেওয়ার ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সিএএবি’র (বেবিচক)-এর ওপর ন্যস্ত।
"এটি কোনও নীতি সংস্কারের উদ্যোগ নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ তথা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা। সিএএবি’র সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া সরাসরি আইনের লঙ্ঘন। এতে বিমানবন্দর পরিচালনায় বাণিজ্যিক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব বাড়তে পারে।"
১৯৯৬ সালের রুলস অব বিজনেসেও মন্ত্রণালয় কেবল নীতিগত দিকনির্দেশনার ক্ষমতা রাখে—সরাসরি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় নয়।
সিএএবি’র একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই নীতি তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটিই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এবং স্টেকহোল্ডারদের মত নেওয়ার কোনও সুযোগ ছাড়াই করা হচ্ছে, যা "গোপনে পাস করিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা" বলেই মনে হচ্ছে।
একজন সাবেক বিমান নিরাপত্তা পরিচালক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রস্তাবিত নীতিতে যদি সর্বোচ্চ দরদাতার ভিত্তিতে লিজ দেওয়া হয়, তবে এটি বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকা নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা বিধি এবং আইকাও’র (ICAO) আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের (অ্যানেক্স-৯, ১৪, ১৭ ও ১৯) সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
"বাণিজ্যিক লিজিং যদি নিয়ন্ত্রণহীন হয়, তবে সংরক্ষিত এলাকায় অননুমোদিত প্রবেশ, চোরাচালান ও নিরাপত্তা ভঙ্গের ঘটনা বাড়তে পারে। সিএএবি যদি অপারেশনাল ক্ষমতা হারায়—তাহলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতেও পড়তে পারে।"
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দোকান, লাউঞ্জ ও ডিউটি-ফ্রি শপ পরিচালনাকারী উদ্যোক্তারা এই নীতি নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কায় আছেন। তাদের মতে: নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে বড় দরদাতার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা ছোট উদ্যোক্তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে।
পুরো লিজ-সংক্রান্ত বিষয়টিই একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা ব্যবসায়িক কাঠামো ভেঙে পড়লে যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি দিয়ে বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছেন:
আইন অপরিবর্তিত রাখা: জনগণের স্বার্থে বর্তমান 'বেসামরিক বিমান চলাচল আইন, ২০১৭'-এর ১৪ ধারাটি অপরিবর্তিত রাখা উচিত, কারণ এই ধারায় চেয়ারম্যান দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম, যা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
স্বাধীনতার ঝুঁকি: সুপারিশে উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত সংশোধন কার্যকর হলে বেবিচকের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত হয়ে যাবে, যা আইকাও’র নিরীক্ষায় দেশের কার্যকারিতা দুর্বল করবে।
ব্যাপক বিনিয়োগ: বর্তমানে আটটি বিমানবন্দরে বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় প্রায় ২৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যেখানে শত কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ, বিশ্লেষক ও সিএএবি কর্মকর্তাদের অভিন্ন মত হলো, স্টেকহোল্ডারদের মতামত ছাড়া এ নীতি অনুমোদন করা হলে দেশের বিমান নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি এবং ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা চূড়ান্ত করার আগে স্বচ্ছতা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং স্টেকহোল্ডারদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইউসুফ আলী বাচ্চু
২৮ নভেম্বর, ২০২৫, 4:30 PM
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় নিজেদের উদ্যোগে 'বিমানবন্দর লিজ নীতিমালা' প্রণয়ন ও অনুমোদনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), বিমান বিশেষজ্ঞ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, স্টেকহোল্ডারদের মতামত ছাড়াই মাত্র দুই দিনের মধ্যে খসড়া তৈরির এই প্রচেষ্টা স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং গোপন বাণিজ্যিক স্বার্থের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে দেশের বিমান নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বেবিচকের আইনগত এখতিয়ার গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ খায়রুল আলম বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৭ অনুযায়ী বিমানবন্দরের সম্পত্তি অধিগ্রহণ, ব্যবস্থাপনা ও লিজ দেওয়ার ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সিএএবি’র (বেবিচক)-এর ওপর ন্যস্ত।
"এটি কোনও নীতি সংস্কারের উদ্যোগ নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ তথা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা। সিএএবি’র সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া সরাসরি আইনের লঙ্ঘন। এতে বিমানবন্দর পরিচালনায় বাণিজ্যিক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব বাড়তে পারে।"
১৯৯৬ সালের রুলস অব বিজনেসেও মন্ত্রণালয় কেবল নীতিগত দিকনির্দেশনার ক্ষমতা রাখে—সরাসরি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় নয়।
সিএএবি’র একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই নীতি তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটিই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এবং স্টেকহোল্ডারদের মত নেওয়ার কোনও সুযোগ ছাড়াই করা হচ্ছে, যা "গোপনে পাস করিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা" বলেই মনে হচ্ছে।
একজন সাবেক বিমান নিরাপত্তা পরিচালক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রস্তাবিত নীতিতে যদি সর্বোচ্চ দরদাতার ভিত্তিতে লিজ দেওয়া হয়, তবে এটি বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকা নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা বিধি এবং আইকাও’র (ICAO) আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের (অ্যানেক্স-৯, ১৪, ১৭ ও ১৯) সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
"বাণিজ্যিক লিজিং যদি নিয়ন্ত্রণহীন হয়, তবে সংরক্ষিত এলাকায় অননুমোদিত প্রবেশ, চোরাচালান ও নিরাপত্তা ভঙ্গের ঘটনা বাড়তে পারে। সিএএবি যদি অপারেশনাল ক্ষমতা হারায়—তাহলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতেও পড়তে পারে।"
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দোকান, লাউঞ্জ ও ডিউটি-ফ্রি শপ পরিচালনাকারী উদ্যোক্তারা এই নীতি নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কায় আছেন। তাদের মতে: নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে বড় দরদাতার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা ছোট উদ্যোক্তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে।
পুরো লিজ-সংক্রান্ত বিষয়টিই একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা ব্যবসায়িক কাঠামো ভেঙে পড়লে যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি দিয়ে বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছেন:
আইন অপরিবর্তিত রাখা: জনগণের স্বার্থে বর্তমান 'বেসামরিক বিমান চলাচল আইন, ২০১৭'-এর ১৪ ধারাটি অপরিবর্তিত রাখা উচিত, কারণ এই ধারায় চেয়ারম্যান দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম, যা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
স্বাধীনতার ঝুঁকি: সুপারিশে উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত সংশোধন কার্যকর হলে বেবিচকের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত হয়ে যাবে, যা আইকাও’র নিরীক্ষায় দেশের কার্যকারিতা দুর্বল করবে।
ব্যাপক বিনিয়োগ: বর্তমানে আটটি বিমানবন্দরে বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় প্রায় ২৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যেখানে শত কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ, বিশ্লেষক ও সিএএবি কর্মকর্তাদের অভিন্ন মত হলো, স্টেকহোল্ডারদের মতামত ছাড়া এ নীতি অনুমোদন করা হলে দেশের বিমান নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি এবং ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা চূড়ান্ত করার আগে স্বচ্ছতা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং স্টেকহোল্ডারদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।