CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০২ জানুয়ারি, ২০২৬

পাঠ্যবই ছাপার জামানত অর্থছাড়ে 'বকশিশ বাণিজ্য': তদন্ত কমিটি গঠন, প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

#
news image

পাঠ্যবই ছাপার কাজে ছাপাখানা মালিকদের কাছ থেকে জামানতের অর্থছাড়ে কথিত 'বকশিশ বাণিজ্য' নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটি এরই মধ্যে ১১৪টি ছাপাখানার মালিককে তলব করেছে।তবে তদন্ত কমিটি যে প্রক্রিয়ায় কাজ শুরু করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ ছাপাখানা মালিক ও এনসিটিবির কর্মকর্তারা। তারা এটিকে 'হয়রানিমূলক' ও 'লোক দেখানো' তদন্ত এবং 'দায় থেকে পরিত্রাণের কৌশল' বলে অভিযোগ করেছেন।১. অভিযোগের পটভূমিগত ২৯ নভেম্বর প্রকাশিত এক সংবাদে অভিযোগ করা হয়, বই ছাপার কাজ নিতে জামা রাখা জামানতের অর্থছাড়ে ছাপাখানা মালিকদের কাছ থেকে 'বকশিশের' নামে লটপ্রতি ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এতে শুধু ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৭০০ লট বইয়ের জামানতের প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই কৌশলী অনিয়মে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক ড. রিয়াদ চৌধুরীর দিকে সন্দেহের তীর ছুড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।২. তদন্ত কমিটি ও কার্যক্রমএনসিটিবির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চেয়ারম্যান গত রোববার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন:পদবিনামদায়িত্বআহ্বায়কঅধ্যাপক সাহাতাব উদ্দিনএনসিটিবি সচিবসদস্যআবুল খায়েরবিশেষজ্ঞ সদস্যসদস্যসচিবসিরাজুল ইসলামউপসচিবতদন্ত কমিটির সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাঁরা কাজ শুরু করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। কমিটি ২০২৫ সালে বই ছাপার কাজ করা ১১৪টি ছাপাখানার মালিককে আগামী মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে এনসিটিবি ভবনের হলরুমে ডেকেছে।৩. প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক: 'নামকাওয়াস্তে তদন্ত'তদন্তের প্রক্রিয়া নিয়েই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। ছাপাখানার মালিক ও এনসিটিবির কয়েকজন কর্মকর্তা এই প্রক্রিয়াকে দায়মুক্তির কৌশল হিসেবে দেখছেন:অভিযুক্ত স্বপদে বহাল: নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক এনসিটিবি কর্মকর্তা বলেন, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি স্বপদে বহাল। তাঁর সামনে বা হলরুমে সবার সামনে কোনো ব্যবসায়ী তাঁর বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য দেবেন না।ব্যবসায়িক ঝুঁকি: একজন ছাপাখানা মালিক নাম প্রকাশ না করে বলেন, লটপ্রতি ২০ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি কেউই হলরুমে বলবে না, কারণ অধ্যাপক রিয়াদ চৌধুরী বা তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সইয়েই তাদের বিল উঠবে এবং ভবিষ্যতে কাজ পেতে হবে।প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা: মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক এক নেতা বলেন, অভিযুক্তকে বহাল রেখে এবং তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত হলে তা স্পষ্টতই প্রভাবিত হবে।কর্মকর্তাদের মতে, প্রকৃত অপরাধী ধরতে চাইলে অভ্যন্তরীণ ও ব্যক্তিগতভাবে ছাপাখানা মালিকদের সঙ্গে কথা বলা জরুরি ছিল।তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলাম অবশ্য বলেছেন, কেউ চাইলে তাঁদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবেও কথা বলতে পারেন। তিনি সাংবাদিক, প্রেস মালিক বা প্রতিনিধি সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ ডিসেম্বর, ২০২৫,  8:11 PM

news image

পাঠ্যবই ছাপার কাজে ছাপাখানা মালিকদের কাছ থেকে জামানতের অর্থছাড়ে কথিত 'বকশিশ বাণিজ্য' নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটি এরই মধ্যে ১১৪টি ছাপাখানার মালিককে তলব করেছে।তবে তদন্ত কমিটি যে প্রক্রিয়ায় কাজ শুরু করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ ছাপাখানা মালিক ও এনসিটিবির কর্মকর্তারা। তারা এটিকে 'হয়রানিমূলক' ও 'লোক দেখানো' তদন্ত এবং 'দায় থেকে পরিত্রাণের কৌশল' বলে অভিযোগ করেছেন।১. অভিযোগের পটভূমিগত ২৯ নভেম্বর প্রকাশিত এক সংবাদে অভিযোগ করা হয়, বই ছাপার কাজ নিতে জামা রাখা জামানতের অর্থছাড়ে ছাপাখানা মালিকদের কাছ থেকে 'বকশিশের' নামে লটপ্রতি ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এতে শুধু ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৭০০ লট বইয়ের জামানতের প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই কৌশলী অনিয়মে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক ড. রিয়াদ চৌধুরীর দিকে সন্দেহের তীর ছুড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।২. তদন্ত কমিটি ও কার্যক্রমএনসিটিবির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চেয়ারম্যান গত রোববার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন:পদবিনামদায়িত্বআহ্বায়কঅধ্যাপক সাহাতাব উদ্দিনএনসিটিবি সচিবসদস্যআবুল খায়েরবিশেষজ্ঞ সদস্যসদস্যসচিবসিরাজুল ইসলামউপসচিবতদন্ত কমিটির সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাঁরা কাজ শুরু করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। কমিটি ২০২৫ সালে বই ছাপার কাজ করা ১১৪টি ছাপাখানার মালিককে আগামী মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে এনসিটিবি ভবনের হলরুমে ডেকেছে।৩. প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক: 'নামকাওয়াস্তে তদন্ত'তদন্তের প্রক্রিয়া নিয়েই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। ছাপাখানার মালিক ও এনসিটিবির কয়েকজন কর্মকর্তা এই প্রক্রিয়াকে দায়মুক্তির কৌশল হিসেবে দেখছেন:অভিযুক্ত স্বপদে বহাল: নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক এনসিটিবি কর্মকর্তা বলেন, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি স্বপদে বহাল। তাঁর সামনে বা হলরুমে সবার সামনে কোনো ব্যবসায়ী তাঁর বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য দেবেন না।ব্যবসায়িক ঝুঁকি: একজন ছাপাখানা মালিক নাম প্রকাশ না করে বলেন, লটপ্রতি ২০ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি কেউই হলরুমে বলবে না, কারণ অধ্যাপক রিয়াদ চৌধুরী বা তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সইয়েই তাদের বিল উঠবে এবং ভবিষ্যতে কাজ পেতে হবে।প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা: মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক এক নেতা বলেন, অভিযুক্তকে বহাল রেখে এবং তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত হলে তা স্পষ্টতই প্রভাবিত হবে।কর্মকর্তাদের মতে, প্রকৃত অপরাধী ধরতে চাইলে অভ্যন্তরীণ ও ব্যক্তিগতভাবে ছাপাখানা মালিকদের সঙ্গে কথা বলা জরুরি ছিল।তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলাম অবশ্য বলেছেন, কেউ চাইলে তাঁদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবেও কথা বলতে পারেন। তিনি সাংবাদিক, প্রেস মালিক বা প্রতিনিধি সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।