CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০২ জানুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশের পোশাক রফতানি প্রবৃদ্ধি প্রায় 'শূন্যে'

#
news image

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG) রফতানি প্রবৃদ্ধি কার্যত থমকে গেছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) আরএমজি রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ১৬.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মাত্র ০.০৯ শতাংশ বেশি। এটি দেশের প্রধান রফতানি খাতটির জন্য প্রায় শূন্য প্রবৃদ্ধির অবস্থা নির্দেশ করছে।খাতভিত্তিক পার্থক্য: নিটওয়্যারে পতন, ওভেনে সামান্য ভরসাপাঁচ মাসের রফতানি বিশ্লেষণে খাতভিত্তিক পার্থক্য বেশ স্পষ্ট:খাতরফতানি আয় (বিলিয়ন ডলার)প্রবৃদ্ধি/হ্রাস (%)নিটওয়্যার৮.৮৬↓ ১.০০% (হ্রাস)ওভেন৭.২৮↑ ১.৪৪% (প্রবৃদ্ধি)বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU), যুক্তরাষ্ট্র (US) এবং যুক্তরাজ্য (UK) সহ প্রধান বাজারগুলোতে ভোক্তাদের চাহিদা দুর্বল হওয়ায় নিটওয়্যার (শীতকালীন পণ্যের বড় অংশ) খাতে অর্ডার হ্রাস সরাসরি আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।নভেম্বরে রফতানিতে ৫% পতননভেম্বর ২০২৫ মাসে রফতানি আয় হয়েছে ৩.১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় ৫ শতাংশ কম। খাতভিত্তিক পতন ছিল:নিটওয়্যার: ৬.৮৯% হ্রাসওভেন: ২.৯০% হ্রাসবাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, "নিটওয়্যার খাতে অর্ডার কমে যাওয়া আমাদের স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিচ্ছে—নতুন বাজার, নতুন পণ্য এবং প্রযুক্তি বিনিয়োগ ছাড়া ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হবে।"মন্দার কারণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জবিশ্লেষকদের মতে, রফতানির এই মন্থর গতির পেছনে কয়েকটি আন্তর্জাতিক কারণ দায়ী:বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ও খুচরা বাজারে ধাক্কা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে চলমান উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি নতুন পোশাক কেনার প্রবণতা কমিয়ে দিয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা বড় অর্ডারের বদলে ছোট এবং সতর্ক ক্রয়ের দিকে ঝুঁকছেন।নতুন শুল্ক নীতি ও বাণিজ্য উত্তেজনা: যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কনীতির প্রভাব এবং চীনের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা পোশাক বাজারে পুনর্বিন্যাস তৈরি করেছে। বড় ক্রেতারা অর্ডার দিতে বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছেন।প্রতিযোগীর প্রণোদনা: ভিয়েতনাম, ভারত, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া ইউরোপ-আমেরিকায় রফতানি বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, যা বাংলাদেশের বাজারের একটি অংশ হারানোর ঝুঁকি বাড়িয়েছে।উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি: বিশ্বব্যাপী সমুদ্রভাড়া ও কাঁচামালের দাম স্থিতিশীল না হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে।টিকে থাকার কৌশল ও ভবিষ্যতের পথখাতসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, উন্নত কারখানা পরিবেশ, সবুজ শিল্পের প্রসার এবং প্রোডাকশন স্কেল বড় হওয়ায় খরচ প্রতিযোগিতা বজায় রেখে বাংলাদেশ এখনও বাজারে টিকে আছে। তবে স্থবিরতা দীর্ঘায়িত হলে বিনিয়োগ ব্যাহত হতে পারে।রফতানির গতি ফেরাতে ব্যবসায়ীরা যেসব কৌশলগত পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন:উন্নতমানের, উচ্চমূল্যের পণ্য বৈচিত্র্য।নতুন বাজার, বিশেষত ল্যাটিন আমেরিকা ও পূর্ব ইউরোপে প্রবেশ।উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি উন্নয়ন।লজিস্টিক খরচ কমাতে সরকারি সহায়তা।যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ-এর সঙ্গে নীতিনির্ধারণী আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা।বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতি আরও কয়েক মাস দুর্বল থাকতে পারে। তবে, ০.০৯ শতাংশের সামান্য প্রবৃদ্ধি দেখালেও এই খাতটি এখনো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক হিসেবে তার অবস্থান ধরে রেখেছে—যা বাংলাদেশের জন্য একটি আশার জায়গা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ ডিসেম্বর, ২০২৫,  7:18 PM

news image

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG) রফতানি প্রবৃদ্ধি কার্যত থমকে গেছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) আরএমজি রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ১৬.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মাত্র ০.০৯ শতাংশ বেশি। এটি দেশের প্রধান রফতানি খাতটির জন্য প্রায় শূন্য প্রবৃদ্ধির অবস্থা নির্দেশ করছে।খাতভিত্তিক পার্থক্য: নিটওয়্যারে পতন, ওভেনে সামান্য ভরসাপাঁচ মাসের রফতানি বিশ্লেষণে খাতভিত্তিক পার্থক্য বেশ স্পষ্ট:খাতরফতানি আয় (বিলিয়ন ডলার)প্রবৃদ্ধি/হ্রাস (%)নিটওয়্যার৮.৮৬↓ ১.০০% (হ্রাস)ওভেন৭.২৮↑ ১.৪৪% (প্রবৃদ্ধি)বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU), যুক্তরাষ্ট্র (US) এবং যুক্তরাজ্য (UK) সহ প্রধান বাজারগুলোতে ভোক্তাদের চাহিদা দুর্বল হওয়ায় নিটওয়্যার (শীতকালীন পণ্যের বড় অংশ) খাতে অর্ডার হ্রাস সরাসরি আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।নভেম্বরে রফতানিতে ৫% পতননভেম্বর ২০২৫ মাসে রফতানি আয় হয়েছে ৩.১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় ৫ শতাংশ কম। খাতভিত্তিক পতন ছিল:নিটওয়্যার: ৬.৮৯% হ্রাসওভেন: ২.৯০% হ্রাসবাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, "নিটওয়্যার খাতে অর্ডার কমে যাওয়া আমাদের স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিচ্ছে—নতুন বাজার, নতুন পণ্য এবং প্রযুক্তি বিনিয়োগ ছাড়া ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হবে।"মন্দার কারণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জবিশ্লেষকদের মতে, রফতানির এই মন্থর গতির পেছনে কয়েকটি আন্তর্জাতিক কারণ দায়ী:বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ও খুচরা বাজারে ধাক্কা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে চলমান উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি নতুন পোশাক কেনার প্রবণতা কমিয়ে দিয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা বড় অর্ডারের বদলে ছোট এবং সতর্ক ক্রয়ের দিকে ঝুঁকছেন।নতুন শুল্ক নীতি ও বাণিজ্য উত্তেজনা: যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কনীতির প্রভাব এবং চীনের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা পোশাক বাজারে পুনর্বিন্যাস তৈরি করেছে। বড় ক্রেতারা অর্ডার দিতে বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছেন।প্রতিযোগীর প্রণোদনা: ভিয়েতনাম, ভারত, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া ইউরোপ-আমেরিকায় রফতানি বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, যা বাংলাদেশের বাজারের একটি অংশ হারানোর ঝুঁকি বাড়িয়েছে।উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি: বিশ্বব্যাপী সমুদ্রভাড়া ও কাঁচামালের দাম স্থিতিশীল না হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে।টিকে থাকার কৌশল ও ভবিষ্যতের পথখাতসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, উন্নত কারখানা পরিবেশ, সবুজ শিল্পের প্রসার এবং প্রোডাকশন স্কেল বড় হওয়ায় খরচ প্রতিযোগিতা বজায় রেখে বাংলাদেশ এখনও বাজারে টিকে আছে। তবে স্থবিরতা দীর্ঘায়িত হলে বিনিয়োগ ব্যাহত হতে পারে।রফতানির গতি ফেরাতে ব্যবসায়ীরা যেসব কৌশলগত পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন:উন্নতমানের, উচ্চমূল্যের পণ্য বৈচিত্র্য।নতুন বাজার, বিশেষত ল্যাটিন আমেরিকা ও পূর্ব ইউরোপে প্রবেশ।উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি উন্নয়ন।লজিস্টিক খরচ কমাতে সরকারি সহায়তা।যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ-এর সঙ্গে নীতিনির্ধারণী আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা।বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতি আরও কয়েক মাস দুর্বল থাকতে পারে। তবে, ০.০৯ শতাংশের সামান্য প্রবৃদ্ধি দেখালেও এই খাতটি এখনো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক হিসেবে তার অবস্থান ধরে রেখেছে—যা বাংলাদেশের জন্য একটি আশার জায়গা।