নিজস্ব প্রতিবেদ
০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, 6:56 PM
বাঁশখালীর লবণচাষি মুসলেম উদ্দিন। মাঠে ঘুরে ঘুরে দেখাচ্ছিলেন কিভাবে গর্ত করে আগের বছরের লবণ সংরক্ষণ করে রেখেছেন। মুখে তার রাজ্যের হতাশা। পুরো এক মৌসুম কেটে গেলেও এখনো অবিক্রিত সেই লবণ।
শুধু মুসলেম নন বাঁশখালীর অনেক লবণচাষির কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। আগের লবণ এখনও বিক্রি হয়নি, নতুন মৌসুমে লবণের দাম পাবেন তো? তবে লবণের পাইকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে লবণের দাম কম, তাই চাষিদের কাছ থেকেও তারা বেশি দামে কিনতে পারছেন না।
চাষিরা নিজেদের জমি বা লিজ নিয়ে লবণ চাষ করেন। অনেকে জমি মালিকের সঙ্গে চুক্তিতে চাষ করেন। লবণ চাষের আয়ে চলে অনেকের সারা বছরের খরচ। প্রতিবছর অগ্রহায়ণ মাসের শেষদিকে শুরু হয় লবণ মাঠ তৈরির কাজ। উৎপাদন চলে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত।
লবণ চাষিরা জানান, কাঠের রোলার দিয়ে মাঠ সমতল করার পর চারপাশে মাটির আইল দিয়ে ছোট ছোট প্লট তৈরি করা হয়। এরপর ছোট প্লটগুলো রোদে শুকিয়ে কালো বা নীল রঙের পলিথিন বিছিয়ে দেওয়া হয়।
জোয়ার এলে মাঠের মাঝখানে তৈরি করা নালা দিয়ে জমির প্লটে জমানো হয় সাগরের লবণাক্ত পানি। অনেকে ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিনও ব্যবহার করেন। এভাবে পানি সংগ্রহ করার পর ৪ থেকে ৫ দিন রোদে রাখা হয়।
কড়া রোদে পানি বাষ্পীভূত হয়ে চলে যায় আর লবণ পড়ে থাকে পলিথিনের ওপর। লবণ চাষ মূলত আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। একটু ঝড় বৃষ্টি হলেই উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। কুয়াশাও লবণের জন্য ক্ষতিকর।
উৎপাদিত লবণ থেকে পানি সরে গেলে ব্যাপারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই লবণ কিনে নিয়ে কারখানায় রিফাইনারি মেশিনের মাধ্যমে পরিশোধন শেষে বস্তা বা প্যাকেট ভর্তি করা হয়। পরে সেই লবণ চলে যায় বিভিন্ন স্থানে।
মাঠ পর্যায়ের লবণ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, বাঁশখালীর গণ্ডামারা, ছনুয়া, সরল, বড়ঘোনাসহ সাগর উপকূলীয় প্রায় ২৫ হাজার একর জমিতে এখন চলছে লবণ মাঠ তৈরির কাজ। দিন গড়িয়ে দুপুরে মাথার ওপর সূর্যের কড়া তাপ থাকলেও বসে থাকার উপায় নেই এই লবণ চাষীদের। পরিবারের সদস্যরাই নয়, দৈনিক মজুরিতে শ্রমিক রেখে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে লবণ উৎপাদনের এ কর্মযজ্ঞ।
স্থানীয় লবণ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আনোয়ার বলেন, গত কয়েক বছর ধরে প্রায় পানির দরেই লবণ বিক্রি করতে হয়েছে। কয়েক বছর ধরে সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে লাখ লাখ টন সোডিয়াম ক্লোরাইড (ভোজ্য লবণ) আমদানি হওয়ার ফলে মাঠে উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে উপকূলের লবণচাষিরা। চায়না থেকে আমদানির কারণে এখানে উৎপাদিত লবণের চাহিদা কমে গেছে। ফলে দাম পাওয়া যাচ্ছে না। কারখানায় এখানকার লবণ নিতে চায় না। আমদানি বন্ধ হলে চাষিরা উপকৃত হবেন।
প্রতি বছর বর্ষায় চিংড়ি ঘের এর উৎপাদন শেষে লবণ চাষে নামেন উপকূলের চাষিরা। ডিসেম্বর থেকে পরের বছরের জুন মাস পর্যন্ত চলে এই লবণ উৎপাদন মৌসুম। বর্তমানে প্রতি মণ লবণের বাজার মূল্য ২৪০ টাকা।
চলতি মৌসুমে ২৭ লাখ ১৫ হাজার টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিসিক। গত মৌসুমে চট্টগ্রামে ৬৯ হাজার ১৯৮ একর জমিতে লবণ উৎপাদন করেন ৪১ হাজার ৩৫৫ জন চাষী।
বিসিক লবণ সেলের প্রধান সরোয়ার হোসেন জানান, গত মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে উৎপাদন না হওয়ায় লবণের ঘাটতি রয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে সাড়ে তিন লাখ টন লবণ মজুদ রয়েছে। এরপরও ঝুঁকি না নিয়ে এক লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার।
নিজস্ব প্রতিবেদ
০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, 6:56 PM
বাঁশখালীর লবণচাষি মুসলেম উদ্দিন। মাঠে ঘুরে ঘুরে দেখাচ্ছিলেন কিভাবে গর্ত করে আগের বছরের লবণ সংরক্ষণ করে রেখেছেন। মুখে তার রাজ্যের হতাশা। পুরো এক মৌসুম কেটে গেলেও এখনো অবিক্রিত সেই লবণ।
শুধু মুসলেম নন বাঁশখালীর অনেক লবণচাষির কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। আগের লবণ এখনও বিক্রি হয়নি, নতুন মৌসুমে লবণের দাম পাবেন তো? তবে লবণের পাইকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে লবণের দাম কম, তাই চাষিদের কাছ থেকেও তারা বেশি দামে কিনতে পারছেন না।
চাষিরা নিজেদের জমি বা লিজ নিয়ে লবণ চাষ করেন। অনেকে জমি মালিকের সঙ্গে চুক্তিতে চাষ করেন। লবণ চাষের আয়ে চলে অনেকের সারা বছরের খরচ। প্রতিবছর অগ্রহায়ণ মাসের শেষদিকে শুরু হয় লবণ মাঠ তৈরির কাজ। উৎপাদন চলে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত।
লবণ চাষিরা জানান, কাঠের রোলার দিয়ে মাঠ সমতল করার পর চারপাশে মাটির আইল দিয়ে ছোট ছোট প্লট তৈরি করা হয়। এরপর ছোট প্লটগুলো রোদে শুকিয়ে কালো বা নীল রঙের পলিথিন বিছিয়ে দেওয়া হয়।
জোয়ার এলে মাঠের মাঝখানে তৈরি করা নালা দিয়ে জমির প্লটে জমানো হয় সাগরের লবণাক্ত পানি। অনেকে ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিনও ব্যবহার করেন। এভাবে পানি সংগ্রহ করার পর ৪ থেকে ৫ দিন রোদে রাখা হয়।
কড়া রোদে পানি বাষ্পীভূত হয়ে চলে যায় আর লবণ পড়ে থাকে পলিথিনের ওপর। লবণ চাষ মূলত আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। একটু ঝড় বৃষ্টি হলেই উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। কুয়াশাও লবণের জন্য ক্ষতিকর।
উৎপাদিত লবণ থেকে পানি সরে গেলে ব্যাপারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই লবণ কিনে নিয়ে কারখানায় রিফাইনারি মেশিনের মাধ্যমে পরিশোধন শেষে বস্তা বা প্যাকেট ভর্তি করা হয়। পরে সেই লবণ চলে যায় বিভিন্ন স্থানে।
মাঠ পর্যায়ের লবণ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, বাঁশখালীর গণ্ডামারা, ছনুয়া, সরল, বড়ঘোনাসহ সাগর উপকূলীয় প্রায় ২৫ হাজার একর জমিতে এখন চলছে লবণ মাঠ তৈরির কাজ। দিন গড়িয়ে দুপুরে মাথার ওপর সূর্যের কড়া তাপ থাকলেও বসে থাকার উপায় নেই এই লবণ চাষীদের। পরিবারের সদস্যরাই নয়, দৈনিক মজুরিতে শ্রমিক রেখে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে লবণ উৎপাদনের এ কর্মযজ্ঞ।
স্থানীয় লবণ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আনোয়ার বলেন, গত কয়েক বছর ধরে প্রায় পানির দরেই লবণ বিক্রি করতে হয়েছে। কয়েক বছর ধরে সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে লাখ লাখ টন সোডিয়াম ক্লোরাইড (ভোজ্য লবণ) আমদানি হওয়ার ফলে মাঠে উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে উপকূলের লবণচাষিরা। চায়না থেকে আমদানির কারণে এখানে উৎপাদিত লবণের চাহিদা কমে গেছে। ফলে দাম পাওয়া যাচ্ছে না। কারখানায় এখানকার লবণ নিতে চায় না। আমদানি বন্ধ হলে চাষিরা উপকৃত হবেন।
প্রতি বছর বর্ষায় চিংড়ি ঘের এর উৎপাদন শেষে লবণ চাষে নামেন উপকূলের চাষিরা। ডিসেম্বর থেকে পরের বছরের জুন মাস পর্যন্ত চলে এই লবণ উৎপাদন মৌসুম। বর্তমানে প্রতি মণ লবণের বাজার মূল্য ২৪০ টাকা।
চলতি মৌসুমে ২৭ লাখ ১৫ হাজার টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিসিক। গত মৌসুমে চট্টগ্রামে ৬৯ হাজার ১৯৮ একর জমিতে লবণ উৎপাদন করেন ৪১ হাজার ৩৫৫ জন চাষী।
বিসিক লবণ সেলের প্রধান সরোয়ার হোসেন জানান, গত মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে উৎপাদন না হওয়ায় লবণের ঘাটতি রয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে সাড়ে তিন লাখ টন লবণ মজুদ রয়েছে। এরপরও ঝুঁকি না নিয়ে এক লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার।