CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০২ জানুয়ারি, ২০২৬

দেড় দশকের ভাঙা সংসার , সন্তানের জন্য বাবার স্নেহ ও সম্পর্কের অধিকারের লড়াই

#
news image

প্রায় দেড় দশকের দাম্পত্য জীবন ও ছয় বছরের এক নাবালিকা কন্যা সন্তানকে সঙ্গী করে এক নারী বর্তমানে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন—একমাত্র এই আশায় যে তাঁর সন্তান যেন বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত না হয় এবং ভাঙা সংসারটি যেন জোড়া লাগে। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে তালাকের নোটিশ পাঠালেও নানা নির্যাতন ও প্রতারণার অভিযোগের মধ্যেও তিনি সম্পর্ক রক্ষার শেষ চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, প্রেমের সম্পর্ক থেকে ১৬ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে এবং তিনি জানতে পারেন তাঁর স্বামী সালাউদ্দিন সেতু গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। গত ২৮ জানুয়ারি তিনি স্বামী সালাউদ্দিন সেতুর বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় নারী নির্যাতন ও প্রতারণার মামলা (ধারা: যাবজ্জীবন পর্যন্ত শাস্তিযোগ্য) করেন।

গ্রেফতার ও জামিন: মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ জানুয়ারি সালাউদ্দিন সেতু গ্রেফতার হন এবং ৩৬ দিন কারাবন্দি থাকার পর হাইকোর্টের আদেশে জামিন পান।
শারীরিক নির্যাতন: এজাহারে ওই নারী অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। গত ২৫ জানুয়ারি তাকে ব্যাপক মারধর করলে তার একটি দাঁত ভেঙ্গে যায় এবং শরীরে সিগারেটের আগুনের ছ্যাঁকাও দেওয়া হয়।

মামলার গতি: মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আবু সাইদ চৌধুরী অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। গত ২৮ মে তিনি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত ১৮ নভেম্বর আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে অভিযোগ গঠন করে মামলাটি বিচারাধীন রেখেছেন। অভিযোগকারী নারীকে আগামী বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি সাক্ষী নিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সালাউদ্দিন সেতু তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও সাজানো বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের মানসিক নির্যাতনে বাধ্য হয়ে তিনি তালাকের সিদ্ধান্ত নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় নোটিশ পাঠিয়েছেন।

সালাউদ্দিন সেতু বলেন, "আমার মেয়ের দায়িত্ব অবশ্যই আমার। তাতে আমার সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করতে হবে এমন কোনও বাধ্যকাধকতা নেই। আইন অনুযায়ী তালাক দেওয়ার অধিকার আমার আছে।"

অন্যদিকে, তালাকের নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও ওই নারী নিজেকে এখনও 'স্ত্রী' হিসেবেই মনে করেন। তাঁর দাবি, "আমি নোটিশ পাইনি। আর পেলেও আমি সংসারটা ভাঙতে চাই না। আমার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত লড়ছি।"

ওই নারীর আইনজীবী আব্দুস সালাম জানান, মামলায় আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য রেখেছেন আদালত। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যদি আসামি তাঁর সন্তানের পরিচয় এবং স্ত্রীকে মেনে নেয় ও সবকিছুর দায়ভার বহন করে, তবে "এ মামলা আর চলবে না। এটাই স্বাভাবিক। আমিও চাই সংসারটা টিকে যাক।"

দাম্পত্য জীবনের দ্বন্দ্ব যখন আদালতের কাঠগড়ায়, তখনও এক মা কেবল সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সংসারটিকে আবার আগের মতো করে ফিরে পাওয়ার শেষ চেষ্টা করছেন। তাঁর এই লড়াই এখন বিচারাধীন মামলার পাশাপাশি এক মানবিক আবেদন তৈরি করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫,  4:46 PM

news image

প্রায় দেড় দশকের দাম্পত্য জীবন ও ছয় বছরের এক নাবালিকা কন্যা সন্তানকে সঙ্গী করে এক নারী বর্তমানে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন—একমাত্র এই আশায় যে তাঁর সন্তান যেন বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত না হয় এবং ভাঙা সংসারটি যেন জোড়া লাগে। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে তালাকের নোটিশ পাঠালেও নানা নির্যাতন ও প্রতারণার অভিযোগের মধ্যেও তিনি সম্পর্ক রক্ষার শেষ চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, প্রেমের সম্পর্ক থেকে ১৬ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে এবং তিনি জানতে পারেন তাঁর স্বামী সালাউদ্দিন সেতু গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। গত ২৮ জানুয়ারি তিনি স্বামী সালাউদ্দিন সেতুর বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় নারী নির্যাতন ও প্রতারণার মামলা (ধারা: যাবজ্জীবন পর্যন্ত শাস্তিযোগ্য) করেন।

গ্রেফতার ও জামিন: মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ জানুয়ারি সালাউদ্দিন সেতু গ্রেফতার হন এবং ৩৬ দিন কারাবন্দি থাকার পর হাইকোর্টের আদেশে জামিন পান।
শারীরিক নির্যাতন: এজাহারে ওই নারী অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। গত ২৫ জানুয়ারি তাকে ব্যাপক মারধর করলে তার একটি দাঁত ভেঙ্গে যায় এবং শরীরে সিগারেটের আগুনের ছ্যাঁকাও দেওয়া হয়।

মামলার গতি: মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আবু সাইদ চৌধুরী অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। গত ২৮ মে তিনি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত ১৮ নভেম্বর আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে অভিযোগ গঠন করে মামলাটি বিচারাধীন রেখেছেন। অভিযোগকারী নারীকে আগামী বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি সাক্ষী নিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সালাউদ্দিন সেতু তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও সাজানো বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের মানসিক নির্যাতনে বাধ্য হয়ে তিনি তালাকের সিদ্ধান্ত নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় নোটিশ পাঠিয়েছেন।

সালাউদ্দিন সেতু বলেন, "আমার মেয়ের দায়িত্ব অবশ্যই আমার। তাতে আমার সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করতে হবে এমন কোনও বাধ্যকাধকতা নেই। আইন অনুযায়ী তালাক দেওয়ার অধিকার আমার আছে।"

অন্যদিকে, তালাকের নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও ওই নারী নিজেকে এখনও 'স্ত্রী' হিসেবেই মনে করেন। তাঁর দাবি, "আমি নোটিশ পাইনি। আর পেলেও আমি সংসারটা ভাঙতে চাই না। আমার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত লড়ছি।"

ওই নারীর আইনজীবী আব্দুস সালাম জানান, মামলায় আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য রেখেছেন আদালত। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যদি আসামি তাঁর সন্তানের পরিচয় এবং স্ত্রীকে মেনে নেয় ও সবকিছুর দায়ভার বহন করে, তবে "এ মামলা আর চলবে না। এটাই স্বাভাবিক। আমিও চাই সংসারটা টিকে যাক।"

দাম্পত্য জীবনের দ্বন্দ্ব যখন আদালতের কাঠগড়ায়, তখনও এক মা কেবল সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সংসারটিকে আবার আগের মতো করে ফিরে পাওয়ার শেষ চেষ্টা করছেন। তাঁর এই লড়াই এখন বিচারাধীন মামলার পাশাপাশি এক মানবিক আবেদন তৈরি করছে।