ইউসুফ আলী বাচ্চু
০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, 7:33 PM
জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতৃত্বে দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস দিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট আত্মপ্রকাশ করেছে। স্বাধীনতার মূলনীতি ও মূল্যবোধকে সামনে রেখে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে এই জোট গঠিত হয়েছে।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান (অথবা সেই সময়ের সর্বোচ্চ নেতা) এবং জোটভুক্ত সমমনা দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ সোমবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন প্ল্যাটফর্ম গঠনের ঘোষণা দেন।
জোট গঠনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য-
স্বাধীনতার মূলনীতি অনুসরণ: এই জোট ঘোষণা করেছে যে তারা জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতাসহ স্বাধীনতার মূলনীতিগুলোর প্রতি অবিচল থাকবে।
গণতান্ত্রিক ধারা শক্তিশালীকরণ: দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুস্থ ও কার্যকর গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরিয়ে আনতে তারা কাজ করবে।
সামাজিক ন্যায়বিচার: সমাজের সর্বস্তরে ন্যায়বিচার ও সমতা প্রতিষ্ঠাকে তারা অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছে।
অর্থনৈতিক মুক্তি: জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার জন্য সুদূরপ্রসারী নীতি গ্রহণ করবে।
জাপার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই জোট কেবল নির্বাচনী জোট নয়, এটি একটি নীতি ও আদর্শভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। নতুন জোটের বিস্তারিত কাঠামো, জোটভুক্ত দলের নাম এবং তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ ঘোষণা দেওয়া হবে।
এই নতুন জোট আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এদিকে জোটের প্রধান উপদেষ্টা হয়েছেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, মুখপাত্র জাতীয় পার্টির (একাংশ) মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, জোটের মহাসচিব জনতা পার্টি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার মিলন।
জোটের অন্য দলগুলো হলো- জনতা পার্টি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, জাতীয় ইসলামিক মহাজোট, জাতীয় সংস্কার জোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টি, বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি, বাংলাদেশ সর্বজনীন দল, বাংলাদেশ জনকল্যাণ পার্টি, অ্যাপ্লায়েড ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃত গণতান্ত্রিক রূপান্তর, বিরাজমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান আকাঙ্ক্ষার সমন্বয়ে আগামী দিনের রাষ্ট্র সংস্কার, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, মধ্যপন্থার উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি বেগবান করা, ইসলামি মূল্যবোধ এবং সর্বধর্ম সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা প্রবর্তন, ফ্যাসিবাদের চির অবসান এবং সুশাসন প্রত্যাশী জনগণের ম্রিয়মাণ কণ্ঠস্বরকে সোচ্চার করতে রাজনৈতিক জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি বলেন, জোটভুক্ত দলগুলো নিজ নিজ আদর্শ ও স্বকীয়তা বজায় রেখে উপযুক্ত নীতিমালা এবং কয়েকটি দাবির ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন ও রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। এর নাম হবে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট। এ সময় সাত দফা দাবি জানানো হয়। সেগুলো হলো-
ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় বৈষম্যহীন, নিরপেক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। অন্তর্বর্তী সরকারকে আগামী দুই মাসে নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারে পরিণত হতে হবে। ক) সব হয়রানিমূলক মামলা তুলে নিয়ে ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। খ) অন্তর্ভুক্তিমূলক ভোটের ব্যবস্থা জরুরি।
জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।
আইনের শাসন, সুস্থ, উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় জনগণের সম্মতিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা জরুরি, যার লক্ষ্য একটি ভয়হীন, নিরাপদ ও কার্যকর রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।
অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত ও দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ জরুরি। সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ, দখলবাজ যে দলেরই হোক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
নিত্যপণ্যের অসহনীয় মূল্যস্ফীতি রোধ করতে হবে।
স্বনির্ভর অর্থনীতি, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ওপর জরুরি মনোযোগ দিতে হবে।
দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
আনিসুল ইসলাম বলেন, সবার প্রশ্ন নির্বাচন হবে কি-না। অর্থাৎ সরকার এখনো নির্বাচনি পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি। এই নির্বাচন হতে যাচ্ছে মব কালচারের নির্বাচন। যদি না এই সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে না পারে। নির্বাচন যদি আমরা ঠিকভাবে না করতে পারি, অতীতের নির্বাচনগুলোর ভুল থেকে যদি শিক্ষা নিতে না পারি, তাহলে কিভাবে সম্ভব? বর্তমান যে অবস্থা চলছে সে অবস্থা থাকলে এটি প্রকৃত একটি মব কালচারের নির্বাচন হবে।
তিনি বলেন, আমাদের যে সুযোগ এসেছে -সেটিকে ভালোভাবে কাজে লাগানো উচিত। কারণ নির্বাচনই গণতন্ত্রের প্রথম ও প্রধান পাথেয়। নির্বাচন কমিশন বলছে তারা প্রস্তুত। কিন্তু আমরা এর কোন প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি না। আমরা আশা করি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করে নির্বাচনকে সঠিকভাবে আয়োজন করা হবে। যাতে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়।
জোট সম্পর্কে তিনি বলেন, ১৮টি দল একীভূত হয়ে আমরা আজ জোট করেছি। এই জোট কেবল নির্বাচনি জোট নয়, এটি রাজনৈতিক জোট। আমাদের জোটে অংশগ্রহণকারীরা এতে সম্মতি দিয়েই অংশগ্রহণ করছে। দেশ যে বিভাজনের মাঝে আছে আমরা সে বিভাজন দূর করে একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনীতি উপহার দিব।
সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মাত্র ৩ মাসের মধ্যেই আগের তত্ত্বাবধায়ক সরকারগুলো প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করে ফেলেছিল। ১৯৯২, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচন মানুষের কাছে এখনও গ্রহণযোগ্য। এরকম পরিবেশ কেন সৃষ্টি করা হচ্ছে না?
আনিসুল ইসলাম আরো বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি একটি শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন অর্থনীতির জন্য। আমরা অনেক ভুল করেছি। আমরা দলীয়ভাবে সেই ভুলের জন্য ক্ষমাও চেয়েছি। কিন্তু - একটা সরকারকে পালিয়ে যেতে হয় সেটি আমরা চাই না।
রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধপূর্ণ বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর আমরা দেখছি প্রধান দলগুলো একজন অপরজনের অতীত নিয়ে কথা বলছে। এটি আমরা চাই না। আমরা চাই ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা হোক। আমরা আমাদের প্রশাসন, পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নতি না করে ৭১-এ কে কী করেছে, কে আগে কী করেছে সেটা চিন্তা করছি। আমরা এসব চাই না। আমরা চাই পুরোনো সব ভুলে যেতে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটিশ হাই কমিশনের রাজনৈতিক কাউন্সিলর, মিঃ টিম ডাকেট মার্কিন দূতাবাস প্রতিনিধি কামরুল হাসান খান, ব্রুনাই মিশন প্রধান মি. রোজাইমি আবদুল্লাহ, ভারতীয় দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) মিস পুজা ঝাও
এফিসাস, কাজী শহীদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এসময় জোটের মুখপাত্র ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এদেশের শ্রেষ্ঠ সংস্কারক। তাকে বাদ দিয়ে দেশের ইতিহাস লেখা যাবে না। তিনি গণতন্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু করার জন্য ১৯৮৬ সালে নির্বাচন দিয়েছিলেন। কিন্তু সে কাঙ্খিত গণতন্ত্র এখনো দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এখনো আমাদের লড়াই করতে হচ্ছে।
হাওলদার বলেন, আমরা আশা করি, প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় ও তার সরকার সকল দলকে নিয়ে একটি সুস্থ নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূল নির্বাচন করবেন। কোনো দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করলে, সে নির্বাচনের পর গঠিত সরকার ক্ষণস্থায়ী হবে। অতীত থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। আমরা সেদিন মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। মুক্তিযুদ্ধে স্বাভাবিকভাবে হয় নাই। ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। যখন কেউ স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কথা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলেন,আমাদের হৃদয়ের রপ্ত করণ হয়। সশস্ত্র বাহিনী ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিল। কিন্তু সে সশস্ত্র বাহিনীকে ছোট করে, কটাক্ষ করে,তাদেরকে নানাভাবে হেশ প্রতিপন্ন করলে আমাদের হৃদয় রক্তক্ষরণ হয়। রাজনীতিতে কেউ চির শত্রু নয়,কেউ চির মিত্রও নয়। আমরা সকলে মিলে আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে পারি। যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল আমাদের নেতা এরশাদ।
ইউসুফ আলী বাচ্চু
০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, 7:33 PM
জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতৃত্বে দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস দিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট আত্মপ্রকাশ করেছে। স্বাধীনতার মূলনীতি ও মূল্যবোধকে সামনে রেখে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে এই জোট গঠিত হয়েছে।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান (অথবা সেই সময়ের সর্বোচ্চ নেতা) এবং জোটভুক্ত সমমনা দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ সোমবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন প্ল্যাটফর্ম গঠনের ঘোষণা দেন।
জোট গঠনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য-
স্বাধীনতার মূলনীতি অনুসরণ: এই জোট ঘোষণা করেছে যে তারা জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতাসহ স্বাধীনতার মূলনীতিগুলোর প্রতি অবিচল থাকবে।
গণতান্ত্রিক ধারা শক্তিশালীকরণ: দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুস্থ ও কার্যকর গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরিয়ে আনতে তারা কাজ করবে।
সামাজিক ন্যায়বিচার: সমাজের সর্বস্তরে ন্যায়বিচার ও সমতা প্রতিষ্ঠাকে তারা অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছে।
অর্থনৈতিক মুক্তি: জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার জন্য সুদূরপ্রসারী নীতি গ্রহণ করবে।
জাপার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই জোট কেবল নির্বাচনী জোট নয়, এটি একটি নীতি ও আদর্শভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। নতুন জোটের বিস্তারিত কাঠামো, জোটভুক্ত দলের নাম এবং তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ ঘোষণা দেওয়া হবে।
এই নতুন জোট আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এদিকে জোটের প্রধান উপদেষ্টা হয়েছেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, মুখপাত্র জাতীয় পার্টির (একাংশ) মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, জোটের মহাসচিব জনতা পার্টি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার মিলন।
জোটের অন্য দলগুলো হলো- জনতা পার্টি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, জাতীয় ইসলামিক মহাজোট, জাতীয় সংস্কার জোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টি, বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি, বাংলাদেশ সর্বজনীন দল, বাংলাদেশ জনকল্যাণ পার্টি, অ্যাপ্লায়েড ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃত গণতান্ত্রিক রূপান্তর, বিরাজমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান আকাঙ্ক্ষার সমন্বয়ে আগামী দিনের রাষ্ট্র সংস্কার, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, মধ্যপন্থার উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি বেগবান করা, ইসলামি মূল্যবোধ এবং সর্বধর্ম সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা প্রবর্তন, ফ্যাসিবাদের চির অবসান এবং সুশাসন প্রত্যাশী জনগণের ম্রিয়মাণ কণ্ঠস্বরকে সোচ্চার করতে রাজনৈতিক জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি বলেন, জোটভুক্ত দলগুলো নিজ নিজ আদর্শ ও স্বকীয়তা বজায় রেখে উপযুক্ত নীতিমালা এবং কয়েকটি দাবির ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন ও রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। এর নাম হবে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট। এ সময় সাত দফা দাবি জানানো হয়। সেগুলো হলো-
ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় বৈষম্যহীন, নিরপেক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। অন্তর্বর্তী সরকারকে আগামী দুই মাসে নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারে পরিণত হতে হবে। ক) সব হয়রানিমূলক মামলা তুলে নিয়ে ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। খ) অন্তর্ভুক্তিমূলক ভোটের ব্যবস্থা জরুরি।
জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।
আইনের শাসন, সুস্থ, উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় জনগণের সম্মতিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা জরুরি, যার লক্ষ্য একটি ভয়হীন, নিরাপদ ও কার্যকর রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।
অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত ও দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ জরুরি। সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ, দখলবাজ যে দলেরই হোক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
নিত্যপণ্যের অসহনীয় মূল্যস্ফীতি রোধ করতে হবে।
স্বনির্ভর অর্থনীতি, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ওপর জরুরি মনোযোগ দিতে হবে।
দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
আনিসুল ইসলাম বলেন, সবার প্রশ্ন নির্বাচন হবে কি-না। অর্থাৎ সরকার এখনো নির্বাচনি পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি। এই নির্বাচন হতে যাচ্ছে মব কালচারের নির্বাচন। যদি না এই সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে না পারে। নির্বাচন যদি আমরা ঠিকভাবে না করতে পারি, অতীতের নির্বাচনগুলোর ভুল থেকে যদি শিক্ষা নিতে না পারি, তাহলে কিভাবে সম্ভব? বর্তমান যে অবস্থা চলছে সে অবস্থা থাকলে এটি প্রকৃত একটি মব কালচারের নির্বাচন হবে।
তিনি বলেন, আমাদের যে সুযোগ এসেছে -সেটিকে ভালোভাবে কাজে লাগানো উচিত। কারণ নির্বাচনই গণতন্ত্রের প্রথম ও প্রধান পাথেয়। নির্বাচন কমিশন বলছে তারা প্রস্তুত। কিন্তু আমরা এর কোন প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি না। আমরা আশা করি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করে নির্বাচনকে সঠিকভাবে আয়োজন করা হবে। যাতে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়।
জোট সম্পর্কে তিনি বলেন, ১৮টি দল একীভূত হয়ে আমরা আজ জোট করেছি। এই জোট কেবল নির্বাচনি জোট নয়, এটি রাজনৈতিক জোট। আমাদের জোটে অংশগ্রহণকারীরা এতে সম্মতি দিয়েই অংশগ্রহণ করছে। দেশ যে বিভাজনের মাঝে আছে আমরা সে বিভাজন দূর করে একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনীতি উপহার দিব।
সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মাত্র ৩ মাসের মধ্যেই আগের তত্ত্বাবধায়ক সরকারগুলো প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করে ফেলেছিল। ১৯৯২, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচন মানুষের কাছে এখনও গ্রহণযোগ্য। এরকম পরিবেশ কেন সৃষ্টি করা হচ্ছে না?
আনিসুল ইসলাম আরো বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি একটি শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন অর্থনীতির জন্য। আমরা অনেক ভুল করেছি। আমরা দলীয়ভাবে সেই ভুলের জন্য ক্ষমাও চেয়েছি। কিন্তু - একটা সরকারকে পালিয়ে যেতে হয় সেটি আমরা চাই না।
রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধপূর্ণ বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর আমরা দেখছি প্রধান দলগুলো একজন অপরজনের অতীত নিয়ে কথা বলছে। এটি আমরা চাই না। আমরা চাই ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা হোক। আমরা আমাদের প্রশাসন, পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নতি না করে ৭১-এ কে কী করেছে, কে আগে কী করেছে সেটা চিন্তা করছি। আমরা এসব চাই না। আমরা চাই পুরোনো সব ভুলে যেতে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটিশ হাই কমিশনের রাজনৈতিক কাউন্সিলর, মিঃ টিম ডাকেট মার্কিন দূতাবাস প্রতিনিধি কামরুল হাসান খান, ব্রুনাই মিশন প্রধান মি. রোজাইমি আবদুল্লাহ, ভারতীয় দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) মিস পুজা ঝাও
এফিসাস, কাজী শহীদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এসময় জোটের মুখপাত্র ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এদেশের শ্রেষ্ঠ সংস্কারক। তাকে বাদ দিয়ে দেশের ইতিহাস লেখা যাবে না। তিনি গণতন্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু করার জন্য ১৯৮৬ সালে নির্বাচন দিয়েছিলেন। কিন্তু সে কাঙ্খিত গণতন্ত্র এখনো দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এখনো আমাদের লড়াই করতে হচ্ছে।
হাওলদার বলেন, আমরা আশা করি, প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় ও তার সরকার সকল দলকে নিয়ে একটি সুস্থ নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূল নির্বাচন করবেন। কোনো দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করলে, সে নির্বাচনের পর গঠিত সরকার ক্ষণস্থায়ী হবে। অতীত থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। আমরা সেদিন মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। মুক্তিযুদ্ধে স্বাভাবিকভাবে হয় নাই। ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। যখন কেউ স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কথা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলেন,আমাদের হৃদয়ের রপ্ত করণ হয়। সশস্ত্র বাহিনী ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিল। কিন্তু সে সশস্ত্র বাহিনীকে ছোট করে, কটাক্ষ করে,তাদেরকে নানাভাবে হেশ প্রতিপন্ন করলে আমাদের হৃদয় রক্তক্ষরণ হয়। রাজনীতিতে কেউ চির শত্রু নয়,কেউ চির মিত্রও নয়। আমরা সকলে মিলে আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে পারি। যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল আমাদের নেতা এরশাদ।