আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, 3:57 PM
নেপালে আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই জনপ্রিয় নেতা একটি জোট গঠন করেছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে দেশটির রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা পুরোনো দলগুলোর জন্য তাদের এই জোট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) কর্মকর্তারা রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) জানিয়েছেন, কাঠমান্ডুর মেয়র ও সাবেক র্যাপার বলেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন’ নামে পরিচিত, এই দলের জোটসঙ্গী হয়েছেন। সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক ও রাজনীতিবিদ রবি লামিচানে দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
জোটের চুক্তি অনুযায়ী, ৫ মার্চের নির্বাচনে আরএসপি জয়ী হলে ৩৫ বছর বয়সি বালেন প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং ৪৮ বছর বয়সি লামিচানে দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন।
সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের পর বালেন আলোচনায় আসেন এবং তরুণদের ওই আন্দোলনের অলিখিত নেতা হিসেবে বিবেচিত হন। তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে ভূমিকা রাখেন, যে সরকার নির্বাচন তদারকি করবে।
তবে কিছু সমালোচক আন্দোলনের সময় বালেনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, তিনি খুব কমই প্রকাশ্যে এসেছেন এবং মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের উদ্দেশে কথা বলেছেন।
লামিচানে ২০২২ সালের নির্বাচনের আগে আরএসপি গঠন করেন এবং টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে দুর্নীতিবিরোধী প্রচারের জন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। অবশ্য বর্তমানে তিনি ক্ষুদ্র আমানতকারীদের কাছ থেকে সমবায়ভিত্তিক তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে উভয়েরই দাবি, দেশটিতে তরুণদের নেতৃত্বে সেপ্টেম্বর মাসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে হওয়া আন্দোলনে উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে কাজ করবেন। ওই আন্দোলনে ৭৭ জন নিহত হন এবং এর জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন কোটি জনসংখ্যার দেশ নেপালে প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ মানুষ নির্বাচনে ভোটার হওয়ার যোগ্য। আন্দোলনের পর প্রায় ১০ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই তরুণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিপিন অধিকারী বলেন, তরুণ ভোটার হারানোর আশঙ্কায় ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলো চাপে রয়েছে। (এই প্রেক্ষাপটে) বালেন ও তার তরুণ সমর্থকদের দলে টেনে নেওয়া আরএসপির জন্য অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত ও কৌশলগত পদক্ষেপ।
ওলির কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউনিফায়েড মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) বা ইউএমএল এবং মধ্যপন্থি নেপালি কংগ্রেস দল গত তিন দশকের বেশিরভাগ সময় ক্ষমতা ভাগাভাগি করে শাসন করেছে।
তবে নেপালি কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রকাশ শরণ মহত বলেন, বালেন ও লামিচানে উভয়েই “বিতর্কিত” নেতা এবং তাদের জোটের বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না। মানুষ শেষ পর্যন্ত পুরোনো ও অভিজ্ঞ দলগুলোকেই বেছে নেবে। আমি মনে করি না এই জোটে কোনও বড় রাজনৈতিক ওলটপালট হবে।
সূত্র: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, 3:57 PM
নেপালে আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই জনপ্রিয় নেতা একটি জোট গঠন করেছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে দেশটির রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা পুরোনো দলগুলোর জন্য তাদের এই জোট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) কর্মকর্তারা রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) জানিয়েছেন, কাঠমান্ডুর মেয়র ও সাবেক র্যাপার বলেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন’ নামে পরিচিত, এই দলের জোটসঙ্গী হয়েছেন। সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক ও রাজনীতিবিদ রবি লামিচানে দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
জোটের চুক্তি অনুযায়ী, ৫ মার্চের নির্বাচনে আরএসপি জয়ী হলে ৩৫ বছর বয়সি বালেন প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং ৪৮ বছর বয়সি লামিচানে দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন।
সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের পর বালেন আলোচনায় আসেন এবং তরুণদের ওই আন্দোলনের অলিখিত নেতা হিসেবে বিবেচিত হন। তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে ভূমিকা রাখেন, যে সরকার নির্বাচন তদারকি করবে।
তবে কিছু সমালোচক আন্দোলনের সময় বালেনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, তিনি খুব কমই প্রকাশ্যে এসেছেন এবং মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের উদ্দেশে কথা বলেছেন।
লামিচানে ২০২২ সালের নির্বাচনের আগে আরএসপি গঠন করেন এবং টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে দুর্নীতিবিরোধী প্রচারের জন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। অবশ্য বর্তমানে তিনি ক্ষুদ্র আমানতকারীদের কাছ থেকে সমবায়ভিত্তিক তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে উভয়েরই দাবি, দেশটিতে তরুণদের নেতৃত্বে সেপ্টেম্বর মাসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে হওয়া আন্দোলনে উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে কাজ করবেন। ওই আন্দোলনে ৭৭ জন নিহত হন এবং এর জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন কোটি জনসংখ্যার দেশ নেপালে প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ মানুষ নির্বাচনে ভোটার হওয়ার যোগ্য। আন্দোলনের পর প্রায় ১০ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই তরুণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিপিন অধিকারী বলেন, তরুণ ভোটার হারানোর আশঙ্কায় ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলো চাপে রয়েছে। (এই প্রেক্ষাপটে) বালেন ও তার তরুণ সমর্থকদের দলে টেনে নেওয়া আরএসপির জন্য অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত ও কৌশলগত পদক্ষেপ।
ওলির কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউনিফায়েড মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) বা ইউএমএল এবং মধ্যপন্থি নেপালি কংগ্রেস দল গত তিন দশকের বেশিরভাগ সময় ক্ষমতা ভাগাভাগি করে শাসন করেছে।
তবে নেপালি কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রকাশ শরণ মহত বলেন, বালেন ও লামিচানে উভয়েই “বিতর্কিত” নেতা এবং তাদের জোটের বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না। মানুষ শেষ পর্যন্ত পুরোনো ও অভিজ্ঞ দলগুলোকেই বেছে নেবে। আমি মনে করি না এই জোটে কোনও বড় রাজনৈতিক ওলটপালট হবে।
সূত্র: রয়টার্স