সেলিম প্রধান
৩০ জুলাই, ২০২৫, 3:54 PM
আমরা প্রতিনিয়ত চারপাশে চাঁদাবাজির গল্প শুনছি। প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদার জন্য হামলা হচ্ছে, দোকানে গিয়ে ভাঙচুর করা হচ্ছে। এসব ঘটনা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। জুলাই গণঅভ্যুল্থানের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই অবণতি হয়েছে যে, চাঁদাবাজ কিংবা অপরাধীদের কোনোভাবেই দমানো যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয়ভাবে ব্যবহার করে পুরো ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছিলো পতিত আওয়ামী লীগ সরকার। তবে আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছে। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পরিবর্তন করে দেশের মানুষের সেবায় কিভাবে নিয়োজিত করা যায় সেই আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। শুধু তাই নয়, দেশ এবং দেশের মানুষের কল্যাণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এটা আমাদের জন্য ভালো। আমরাও চাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণের জন্য কাজ করুক। জানি না এই প্রচেষ্টা কতটা কার্যকর হবে? কারণ, একটি গোষ্ঠি দেশের নানা অপরাধের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে। অন্তর্বর্তাকীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানাভাবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় তারা। তারা দেশের মানুষের ভালো চায় না। দেশের ভালো চায় না। আমরা বুঝেও না বোঝার চেষ্টা করছি। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা এখনও সবাই এক হতে পারলাম না। এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক। রাজনৈতিক দলগুলো এখনও তারা একে-অপরের প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ণ। অথচ হওয়ার কথা ছিল; রাজনীতি দলের স্বার্থে করলেও, দেশের স্বার্থে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আমরা কি সেই ঐক্যবদ্ধ হতে পেরেছি?
এখন আসি মূলকথায়। চাঁদাবাজদের কাজের ফিরিস্তি বলে শেষ করা যাবে না। প্রায় সময়ই চাঁদার জন্য এলাকাভিত্তিক নির্মাণকাজের জন্য নির্ধারিত এলাকার নিরাপত্তা, উচ্চমূল্যে পণ্য সরবরাহ, নিজেদের লোককে চাকরি দিতে বাধ্য করা, বড় নেতাদের সংবর্ধনা, তাদের জন্য হোন্ডা, গুন্ডা, ব্যানার, বাস ও পিকআপ নিয়ে শোভাযাত্রা, টেন্ডার ঠেকানো, জমি দখল ও পুনরুদ্ধার, পোস্টার লাগানো, সর্বোপরি ভোটের সময় আধিপত্য বিস্তারসহ ইত্যাদি। কত কিছু তারা করেন। এছাড়াও বালুমহাল, ট্রাক স্ট্যান্ড, বাস স্ট্যান্ড, টেম্পো স্ট্যান্ড, বড় বড় আড়ত, পাইকারি বাজার চাঁদাবাজদের প্রিয় বিচরণক্ষেত্র। শুধু তাই নয় নিজের এলাকাকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চান চাঁদাবাজরা, যেন তারাই এলাকার মা-বাবা। নিম্নআয়ের মানুষ কিংবা খেটে খাওয়া দিনমজুর; চাঁদাবাজদের কথা না শুনলেই নির্যাতন, ব্যবসার স্থান গুড়িয়ে দেওয়াসহ কি নেই তারা করেন না। বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান হাতিয়ার ছিলো এমন কর্মকাণ্ড। নেতাকর্মীদের দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা, আধিপত্য বিস্তার করাই ছিলো নিত্যদিনের কাজ। দীর্ঘদিন মানুষের মনে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ২৪’এর গণঅভ্যুল্থান। এই গণঅভ্যুত্থানকে দেশব্যাপী উৎসাহ এবং আশার বাতিঘর হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে যে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, তা এখনো দেশকে তার কালো ছায়ায় ঢেকে রেখেছে। অপ্রিয় হলেও সত্য, দেশে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও টেন্ডারবাজির জন্য দায়ী মূলত রাজনীতির বর্তমান ধারা। লেজুড়বৃত্তির রাজনীতির কারণে কোনো দল ক্ষমতাসীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সমর্থিত বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের দৌরাত্ম্য মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। বলা বাহুল্য, এ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা হয় অস্ত্র ও পেশিশক্তি দ্বারা। চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলে শাসনব্যবস্থা ও আইনের প্রতি দেশের মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, যা অনভিপ্রেত।
চাঁদাবাজি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক জীবনে এক দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। বর্তমানে সমাজের এক ভয়াবহ সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে চাঁদাবাজি। এটি শুধু ব্যক্তি বা ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করে না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং আইনশৃঙ্খলার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্বাধীনতার পর থেকেই এ সমস্যা বেড়ে চলেছে। এই চাঁদাবাজির ফলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রা ক্রমাগত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। চাঁদাবাজি সাধারণত অপরাধী চক্র, সন্ত্রাসী গ্রুপ, রাজনৈতিক কর্মী, ভুয়া সংগঠন, দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য, এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারা সংগঠিত হয়ে থাকে। সার্বিক বিষয়ে বিবেচনায় আমরা বলবো চাঁদাবাজি একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা, যা একদিনে সমাধান সম্ভব নয়। আমাদের দরকার ঐক্য। দলমত নির্বিশেষে আমাদের সবার দায়িত্ব চাঁদাবাজ ও দুর্নীতির কালো ছায়া দেশকে মুক্ত করা। আমরা একটি চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই।
লেখক : প্রধান উপদেষ্টা, বাংলাদেশ রিপাবলিক পার্টি
সেলিম প্রধান
৩০ জুলাই, ২০২৫, 3:54 PM
আমরা প্রতিনিয়ত চারপাশে চাঁদাবাজির গল্প শুনছি। প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদার জন্য হামলা হচ্ছে, দোকানে গিয়ে ভাঙচুর করা হচ্ছে। এসব ঘটনা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। জুলাই গণঅভ্যুল্থানের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই অবণতি হয়েছে যে, চাঁদাবাজ কিংবা অপরাধীদের কোনোভাবেই দমানো যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয়ভাবে ব্যবহার করে পুরো ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছিলো পতিত আওয়ামী লীগ সরকার। তবে আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছে। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পরিবর্তন করে দেশের মানুষের সেবায় কিভাবে নিয়োজিত করা যায় সেই আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। শুধু তাই নয়, দেশ এবং দেশের মানুষের কল্যাণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এটা আমাদের জন্য ভালো। আমরাও চাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণের জন্য কাজ করুক। জানি না এই প্রচেষ্টা কতটা কার্যকর হবে? কারণ, একটি গোষ্ঠি দেশের নানা অপরাধের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে। অন্তর্বর্তাকীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানাভাবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় তারা। তারা দেশের মানুষের ভালো চায় না। দেশের ভালো চায় না। আমরা বুঝেও না বোঝার চেষ্টা করছি। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা এখনও সবাই এক হতে পারলাম না। এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক। রাজনৈতিক দলগুলো এখনও তারা একে-অপরের প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ণ। অথচ হওয়ার কথা ছিল; রাজনীতি দলের স্বার্থে করলেও, দেশের স্বার্থে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আমরা কি সেই ঐক্যবদ্ধ হতে পেরেছি?
এখন আসি মূলকথায়। চাঁদাবাজদের কাজের ফিরিস্তি বলে শেষ করা যাবে না। প্রায় সময়ই চাঁদার জন্য এলাকাভিত্তিক নির্মাণকাজের জন্য নির্ধারিত এলাকার নিরাপত্তা, উচ্চমূল্যে পণ্য সরবরাহ, নিজেদের লোককে চাকরি দিতে বাধ্য করা, বড় নেতাদের সংবর্ধনা, তাদের জন্য হোন্ডা, গুন্ডা, ব্যানার, বাস ও পিকআপ নিয়ে শোভাযাত্রা, টেন্ডার ঠেকানো, জমি দখল ও পুনরুদ্ধার, পোস্টার লাগানো, সর্বোপরি ভোটের সময় আধিপত্য বিস্তারসহ ইত্যাদি। কত কিছু তারা করেন। এছাড়াও বালুমহাল, ট্রাক স্ট্যান্ড, বাস স্ট্যান্ড, টেম্পো স্ট্যান্ড, বড় বড় আড়ত, পাইকারি বাজার চাঁদাবাজদের প্রিয় বিচরণক্ষেত্র। শুধু তাই নয় নিজের এলাকাকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চান চাঁদাবাজরা, যেন তারাই এলাকার মা-বাবা। নিম্নআয়ের মানুষ কিংবা খেটে খাওয়া দিনমজুর; চাঁদাবাজদের কথা না শুনলেই নির্যাতন, ব্যবসার স্থান গুড়িয়ে দেওয়াসহ কি নেই তারা করেন না। বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান হাতিয়ার ছিলো এমন কর্মকাণ্ড। নেতাকর্মীদের দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা, আধিপত্য বিস্তার করাই ছিলো নিত্যদিনের কাজ। দীর্ঘদিন মানুষের মনে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ২৪’এর গণঅভ্যুল্থান। এই গণঅভ্যুত্থানকে দেশব্যাপী উৎসাহ এবং আশার বাতিঘর হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে যে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, তা এখনো দেশকে তার কালো ছায়ায় ঢেকে রেখেছে। অপ্রিয় হলেও সত্য, দেশে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও টেন্ডারবাজির জন্য দায়ী মূলত রাজনীতির বর্তমান ধারা। লেজুড়বৃত্তির রাজনীতির কারণে কোনো দল ক্ষমতাসীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সমর্থিত বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের দৌরাত্ম্য মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। বলা বাহুল্য, এ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা হয় অস্ত্র ও পেশিশক্তি দ্বারা। চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলে শাসনব্যবস্থা ও আইনের প্রতি দেশের মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, যা অনভিপ্রেত।
চাঁদাবাজি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক জীবনে এক দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। বর্তমানে সমাজের এক ভয়াবহ সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে চাঁদাবাজি। এটি শুধু ব্যক্তি বা ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করে না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং আইনশৃঙ্খলার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্বাধীনতার পর থেকেই এ সমস্যা বেড়ে চলেছে। এই চাঁদাবাজির ফলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রা ক্রমাগত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। চাঁদাবাজি সাধারণত অপরাধী চক্র, সন্ত্রাসী গ্রুপ, রাজনৈতিক কর্মী, ভুয়া সংগঠন, দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য, এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারা সংগঠিত হয়ে থাকে। সার্বিক বিষয়ে বিবেচনায় আমরা বলবো চাঁদাবাজি একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা, যা একদিনে সমাধান সম্ভব নয়। আমাদের দরকার ঐক্য। দলমত নির্বিশেষে আমাদের সবার দায়িত্ব চাঁদাবাজ ও দুর্নীতির কালো ছায়া দেশকে মুক্ত করা। আমরা একটি চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই।
লেখক : প্রধান উপদেষ্টা, বাংলাদেশ রিপাবলিক পার্টি