সুমন মোস্তফা
৩০ জুলাই, ২০২৫, 6:22 PM
নদীর বুকে গড়ে ওঠা নগর এখন নদীটাকেই গলাটিপে মারছে ঢাকা শহরের ইতিহাস শুরু হয়েছিল নদীর তীরে। বুড়িগঙ্গা ছিল প্রাণ, অর্থনীতি, জীবনযাত্রা ও যোগাযোগের মূলভিত্তি। এই নদী দিয়েই একসময় ঢাকায় ভিড়ত রাজকীয় বাণিজ্য-জাহাজ, বয়ে আসত পণ্য ও সংস্কৃতি। কিন্তু আজ সেই বুড়িগঙ্গা যেন ঢাকার অনাদরের প্রতীক, দূষণের বিষে কালো হয়ে যাওয়া এক মৃতপ্রায় নদী। আর মহানগর ঢাকা, যাকে রাজধানী বলা হয়, সেটি নিজেই যেন তার পরিবেশ ও ইতিহাসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
ঢাকা মহানগর: অগোছালো এক জগাখিচুড়ি
ঢাকা শহর এখন বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ মহানগর। প্রায় ২ কোটি মানুষের বসবাস এই ছোট্ট শহরে। গড়ে প্রতিদিন অন্তত ১২০০ মানুষ ঢাকায় আসছে গ্রাম থেকে। কিন্তু শহরের যে কাঠামো, পরিবেশ ও অবকাঠামো-তা এই ভিড় সামাল দিতে পুরোপুরি অক্ষম।
শহরের রাস্তা সংকুচিত, যত্রতত্র বাসস্ট্যান্ড, ফুটপাত দখলে, খোলা ড্রেন, এবং যানজট যেন নিত্যদিনের নিয়ম। এর মধ্যে ঢাকার দক্ষিণে সদরঘাট আর কামরাঙ্গীরচরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বুড়িগঙ্গা নদী যেন মৃত্যুর প্রহর গুনছে।
বুড়িগঙ্গা: ঢাকার ফুসফুস এখন বিষে ভরা শ্বাসনালী
বুড়িগঙ্গা একসময় ছিল ঢাকার প্রাণশক্তি। কিন্তু আজ এই নদীর পানি কালো, দুর্গন্ধযুক্ত, মৃতপ্রায়। শত শত শিল্প-কারখানার বর্জ্য, ট্যানারির বিষাক্ত রাসায়নিক, হাসপাতালের মেডিকেল বর্জ্য ও হাজারো ঘরের পয়ঃনিষ্কাশন সরাসরি এই নদীতে গিয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের রিপোর্ট বলছে, বুড়িগঙ্গার পানি এখন মানবদেহে ব্যবহারযোগ্য তো নয়ই, বরং ত্বকে লাগলেও চর্মরোগ হতে পারে। এই নদীর পানি বিশুদ্ধ করার কোনো চেষ্টাই বাস্তবিক অর্থে সফল হয়নি। যতবারই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, তার বেশিরভাগই হয়েছে দুর্নীতি, ধামাচাপা আর ফাইলবন্দি হিসাবরক্ষণের চৌহদ্দিতে।
বুড়িগঙ্গা ঘাট ও সদরঘাট: জীবনের ভিড়, নোংরার স্রোত
সদরঘাট নদীবন্দরে প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ মানুষ চলাচল করে। অথচ সেখানে নেই কোনো মানসম্মত পাবলিক টয়লেট, নেই আধুনিক ডাস্টবিন ব্যবস্থা। লঞ্চ থেকে পলিথিন, খাবারের প্যাকেট, বাদাম খোসা, এমনকি মানুষের বর্জ্যও সরাসরি নদীতে ফেলা হয়।
ঘাট এলাকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখানে নদী আছে কিন্তু নদীর কোনো মর্যাদা নাই। গরমকালে দুর্গন্ধে ভরা বাতাসে নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়, অথচ আশপাশে ৪-৫টি বড় হাসপাতাল, স্কুল, হোটেল, বাজার-সব কিছু চলছে এক অস্বাস্থ্যকর নরকে।
নদীর দখল: সরকারি নথিতে সংরক্ষিত, বাস্তবে হাঙরদের কবলে
বুড়িগঙ্গার মূল সমস্যার একটি হলো অবৈধ দখল। একের পর এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নদীর পাড় দখল করে স্থাপন করেছে মার্কেট, গুদাম, রেস্টুরেন্ট, এমনকি বাসাবাড়ি পর্যন্ত। নদীকে সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে খালে, খালকে ড্রেনে আর ড্রেনকে ময়লার ভাগাড়ে।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের বারবার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও, প্রতিদিন নতুন করে নদী দখল হচ্ছে। উচ্ছেদ অভিযানের নামে কিছু দোকান ভাঙা হয়, ছবি তোলা হয়, এরপর আবার সেই একই জায়গায় নতুন করে নির্মাণ হয়-ভিন্ন নামে, একই প্রভাবশালীর ছায়ায়।
বুড়িগঙ্গার স্বাস্থ্যহানি মানে ঢাকার মৃত্যুকামনা
ঢাকার জলাবদ্ধতা দিনদিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে পুরান ঢাকার মতিঝিল, গুলিস্তান, নারিন্দা, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর পানিতে থই থই করে। কারণ কী? বুড়িগঙ্গা তার স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়েছে, খালগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, পানি যেতে পারছে না।
বুড়িগঙ্গা যদি সত্যিই একদিন পুরোপুরি মৃত হয়ে যায়, তাহলে ঢাকার মানুষকে গলাধাক্কা খেতে হবে পানির স্রোতে নয়, বরং পানির অভাবে, দুর্যোগে, রোগে, ও মৃত্যুতে।
নগর পরিকল্পনা বনাম বাস্তবতা: কথা অনেক, কাজ নেই
ঢাকা শহরের জন্য অনেক মাস্টারপ্ল্যান হয়েছে রাজউক এর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ), ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি’র পৃথক নীতিমালা, ওয়াসা’র পানি ব্যবস্থাপনা প্রজেক্ট, সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ—সব আছে, কিন্তু সমন্বয় নেই।
রাজউক ডান দিকে রাস্তা কাটছে, ওয়াসা বাঁ দিকে পানি লাইন বসাচ্ছে, পিডিবি আবার মাঝখানে খুঁড়ছে। এই বিশৃঙ্খল সমন্বয়হীনতা শহরকে প্রতিদিন অকার্যকর করে তুলছে। তার চেয়েও বড় কথা, ঢাকার পরিকল্পনায় বুড়িগঙ্গা কোথাও নেই। যেন এই নদী অস্তিত্বহীন, অবাঞ্ছিত এক শরীর!
নগরবাসীর ভূমিকা: শুধু সরকার দোষ দিয়ে কি চলবে?
বুড়িগঙ্গার এই বেহাল দশা শুধু সরকারের অবহেলা নয়, আমাদের নাগরিক দায়িত্বহীনতারও ফল। আমরা নিজেরাই নদীতে ময়লা ফেলি, ওয়াশরুমের পানি ছেড়ে দেই, প্লাস্টিক-টিস্যু-খাবার ফেলে দেই অবলীলায়।
নদীকে ভালোবাসা মানে তার জন্য রাস্তায় নামা নয়, বরং প্রতিদিন তাকে রক্ষা করার ছোট ছোট সিদ্ধান্ত নেওয়া। যেমন: নদীর পাড়ে পিকনিক না করা, কোনো বর্জ্য না ফেলা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত চাপে রাখা।
পরিশেষে: শহরটা কি নদীর কবরের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে?
বুড়িগঙ্গা এখন আর কেবল নদী নয়, এটি বাংলাদেশের নগরায়নের একটি করুণ প্রতীক। একদিকে উন্নয়নের মোহ, অন্যদিকে জীবনের অস্বীকার। এই শহর দিনে দিনে উঁচু হচ্ছে, বড় হচ্ছে, কিন্তু তার প্রাকৃতিক শিকড় শুকিয়ে যাচ্ছে।
ঢাকা মহানগর যদি চায় টেকসই নগরায়ন, তাহলে তাকে তার শেকড়ের দিকে ফিরতে হবে। বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে হলে শুধু প্রকল্প নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, নাগরিক সচেতনতা ও আইনের বাস্তব প্রয়োগ। নইলে ঢাকা হয়তো থাকবে, কিন্তু তার প্রাণ থাকবে না-বুড়িগঙ্গার মতোই।
লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক
সুমন মোস্তফা
৩০ জুলাই, ২০২৫, 6:22 PM
নদীর বুকে গড়ে ওঠা নগর এখন নদীটাকেই গলাটিপে মারছে ঢাকা শহরের ইতিহাস শুরু হয়েছিল নদীর তীরে। বুড়িগঙ্গা ছিল প্রাণ, অর্থনীতি, জীবনযাত্রা ও যোগাযোগের মূলভিত্তি। এই নদী দিয়েই একসময় ঢাকায় ভিড়ত রাজকীয় বাণিজ্য-জাহাজ, বয়ে আসত পণ্য ও সংস্কৃতি। কিন্তু আজ সেই বুড়িগঙ্গা যেন ঢাকার অনাদরের প্রতীক, দূষণের বিষে কালো হয়ে যাওয়া এক মৃতপ্রায় নদী। আর মহানগর ঢাকা, যাকে রাজধানী বলা হয়, সেটি নিজেই যেন তার পরিবেশ ও ইতিহাসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
ঢাকা মহানগর: অগোছালো এক জগাখিচুড়ি
ঢাকা শহর এখন বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ মহানগর। প্রায় ২ কোটি মানুষের বসবাস এই ছোট্ট শহরে। গড়ে প্রতিদিন অন্তত ১২০০ মানুষ ঢাকায় আসছে গ্রাম থেকে। কিন্তু শহরের যে কাঠামো, পরিবেশ ও অবকাঠামো-তা এই ভিড় সামাল দিতে পুরোপুরি অক্ষম।
শহরের রাস্তা সংকুচিত, যত্রতত্র বাসস্ট্যান্ড, ফুটপাত দখলে, খোলা ড্রেন, এবং যানজট যেন নিত্যদিনের নিয়ম। এর মধ্যে ঢাকার দক্ষিণে সদরঘাট আর কামরাঙ্গীরচরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বুড়িগঙ্গা নদী যেন মৃত্যুর প্রহর গুনছে।
বুড়িগঙ্গা: ঢাকার ফুসফুস এখন বিষে ভরা শ্বাসনালী
বুড়িগঙ্গা একসময় ছিল ঢাকার প্রাণশক্তি। কিন্তু আজ এই নদীর পানি কালো, দুর্গন্ধযুক্ত, মৃতপ্রায়। শত শত শিল্প-কারখানার বর্জ্য, ট্যানারির বিষাক্ত রাসায়নিক, হাসপাতালের মেডিকেল বর্জ্য ও হাজারো ঘরের পয়ঃনিষ্কাশন সরাসরি এই নদীতে গিয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের রিপোর্ট বলছে, বুড়িগঙ্গার পানি এখন মানবদেহে ব্যবহারযোগ্য তো নয়ই, বরং ত্বকে লাগলেও চর্মরোগ হতে পারে। এই নদীর পানি বিশুদ্ধ করার কোনো চেষ্টাই বাস্তবিক অর্থে সফল হয়নি। যতবারই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, তার বেশিরভাগই হয়েছে দুর্নীতি, ধামাচাপা আর ফাইলবন্দি হিসাবরক্ষণের চৌহদ্দিতে।
বুড়িগঙ্গা ঘাট ও সদরঘাট: জীবনের ভিড়, নোংরার স্রোত
সদরঘাট নদীবন্দরে প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ মানুষ চলাচল করে। অথচ সেখানে নেই কোনো মানসম্মত পাবলিক টয়লেট, নেই আধুনিক ডাস্টবিন ব্যবস্থা। লঞ্চ থেকে পলিথিন, খাবারের প্যাকেট, বাদাম খোসা, এমনকি মানুষের বর্জ্যও সরাসরি নদীতে ফেলা হয়।
ঘাট এলাকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখানে নদী আছে কিন্তু নদীর কোনো মর্যাদা নাই। গরমকালে দুর্গন্ধে ভরা বাতাসে নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়, অথচ আশপাশে ৪-৫টি বড় হাসপাতাল, স্কুল, হোটেল, বাজার-সব কিছু চলছে এক অস্বাস্থ্যকর নরকে।
নদীর দখল: সরকারি নথিতে সংরক্ষিত, বাস্তবে হাঙরদের কবলে
বুড়িগঙ্গার মূল সমস্যার একটি হলো অবৈধ দখল। একের পর এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নদীর পাড় দখল করে স্থাপন করেছে মার্কেট, গুদাম, রেস্টুরেন্ট, এমনকি বাসাবাড়ি পর্যন্ত। নদীকে সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে খালে, খালকে ড্রেনে আর ড্রেনকে ময়লার ভাগাড়ে।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের বারবার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও, প্রতিদিন নতুন করে নদী দখল হচ্ছে। উচ্ছেদ অভিযানের নামে কিছু দোকান ভাঙা হয়, ছবি তোলা হয়, এরপর আবার সেই একই জায়গায় নতুন করে নির্মাণ হয়-ভিন্ন নামে, একই প্রভাবশালীর ছায়ায়।
বুড়িগঙ্গার স্বাস্থ্যহানি মানে ঢাকার মৃত্যুকামনা
ঢাকার জলাবদ্ধতা দিনদিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে পুরান ঢাকার মতিঝিল, গুলিস্তান, নারিন্দা, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর পানিতে থই থই করে। কারণ কী? বুড়িগঙ্গা তার স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়েছে, খালগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, পানি যেতে পারছে না।
বুড়িগঙ্গা যদি সত্যিই একদিন পুরোপুরি মৃত হয়ে যায়, তাহলে ঢাকার মানুষকে গলাধাক্কা খেতে হবে পানির স্রোতে নয়, বরং পানির অভাবে, দুর্যোগে, রোগে, ও মৃত্যুতে।
নগর পরিকল্পনা বনাম বাস্তবতা: কথা অনেক, কাজ নেই
ঢাকা শহরের জন্য অনেক মাস্টারপ্ল্যান হয়েছে রাজউক এর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ), ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি’র পৃথক নীতিমালা, ওয়াসা’র পানি ব্যবস্থাপনা প্রজেক্ট, সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ—সব আছে, কিন্তু সমন্বয় নেই।
রাজউক ডান দিকে রাস্তা কাটছে, ওয়াসা বাঁ দিকে পানি লাইন বসাচ্ছে, পিডিবি আবার মাঝখানে খুঁড়ছে। এই বিশৃঙ্খল সমন্বয়হীনতা শহরকে প্রতিদিন অকার্যকর করে তুলছে। তার চেয়েও বড় কথা, ঢাকার পরিকল্পনায় বুড়িগঙ্গা কোথাও নেই। যেন এই নদী অস্তিত্বহীন, অবাঞ্ছিত এক শরীর!
নগরবাসীর ভূমিকা: শুধু সরকার দোষ দিয়ে কি চলবে?
বুড়িগঙ্গার এই বেহাল দশা শুধু সরকারের অবহেলা নয়, আমাদের নাগরিক দায়িত্বহীনতারও ফল। আমরা নিজেরাই নদীতে ময়লা ফেলি, ওয়াশরুমের পানি ছেড়ে দেই, প্লাস্টিক-টিস্যু-খাবার ফেলে দেই অবলীলায়।
নদীকে ভালোবাসা মানে তার জন্য রাস্তায় নামা নয়, বরং প্রতিদিন তাকে রক্ষা করার ছোট ছোট সিদ্ধান্ত নেওয়া। যেমন: নদীর পাড়ে পিকনিক না করা, কোনো বর্জ্য না ফেলা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত চাপে রাখা।
পরিশেষে: শহরটা কি নদীর কবরের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে?
বুড়িগঙ্গা এখন আর কেবল নদী নয়, এটি বাংলাদেশের নগরায়নের একটি করুণ প্রতীক। একদিকে উন্নয়নের মোহ, অন্যদিকে জীবনের অস্বীকার। এই শহর দিনে দিনে উঁচু হচ্ছে, বড় হচ্ছে, কিন্তু তার প্রাকৃতিক শিকড় শুকিয়ে যাচ্ছে।
ঢাকা মহানগর যদি চায় টেকসই নগরায়ন, তাহলে তাকে তার শেকড়ের দিকে ফিরতে হবে। বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে হলে শুধু প্রকল্প নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, নাগরিক সচেতনতা ও আইনের বাস্তব প্রয়োগ। নইলে ঢাকা হয়তো থাকবে, কিন্তু তার প্রাণ থাকবে না-বুড়িগঙ্গার মতোই।
লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক