CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

FPTP নির্বাচন পদ্ধতির গুরুত্ব ও সুবিধা এবং PR পদ্ধতির অসুবিধা:একটি বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি

#
news image

গণতন্ত্রে জনগণের ভোটই হলো সর্বোচ্চ শক্তি। তাদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয় প্রতিনিধি যারা দেশের জন্য নীতি নির্ধারণ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বর্তমান বিশ্বে নির্বাচন পদ্ধতির অনেক রূপ রয়েছে, যার মধ্যে First-Past-The-Post (FPTP) পদ্ধতি অন্যতম জনপ্রিয় ও কার্যকর পদ্ধতি। এটি মূলত সরলতা, স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতার কারণে বিশ্বব্যাপী বেশিরভাগ গণতান্ত্রিক দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই প্রবন্ধে FPTP পদ্ধতির গুরুত্ব, সুবিধা ও বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য এর প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা হলো।

FPTP পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য:

FPTP বা সরাসরি প্রার্থী ভিত্তিক ভোটদান পদ্ধতিতে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় যিনি সর্বোচ্চ ভোট পান, তিনি নির্বাচিত হন। এতে ভোটার সরাসরি দলীয় বিবেচনা ছাড়াও  তাদের পছন্দের যোগ্য  প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। 

FPTP পদ্ধতির সুবিধাসমূহ:

১) সরলতা ও স্বচ্ছতা:
বিকল্প পদ্ধতির তুলনায় FPTP ভোটদান ও গণনা প্রক্রিয়া অনেক সহজ। ভোটারদের জন্য বোঝা সহজ, ভোট গণনা দ্রুত এবং ফলাফল স্পষ্ট হয়। এটি ভোটারদের বিভ্রান্তি কমায় ও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

২) স্থিতিশীল সরকার গঠন:
FPTP পদ্ধতিতে সাধারণত একটি বৃহত্তর দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে একক সরকার গঠন করে, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। এ ধরনের সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হয়, যা দেশের উন্নয়নে সহায়ক।

৩) প্রতিনিধিত্বের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা:
ভোটাররা সরাসরি তাদের পছন্দের  প্রার্থীকে ভোট দেয়, তাই নির্বাচিত সাংসদ ভোটারদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে। ভোটাররা সহজেই তাদের প্রতিনিধি’র সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, যা একজন সংসদ সদস্যকে  আরো জবাবদিহি হতে বাধ্য করে।

৪) স্থানীয় সমস্যা ও দাবির প্রতিফলন:
প্রতিটি ছোট নির্বাচনী এলাকা থাকায় স্থানীয় জনগণের সমস্যা ও চাহিদা সহজে সংসদে পৌঁছে যায়। সাংসদগণ নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখে, যা উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৫) রাজনৈতিক সংস্কৃতির সহজ গ্রহণযোগ্যতা:
FPTP পদ্ধতি বাংলাদেশের মতো দেশের সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য ও গ্রহণযোগ্য, যা রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

FPTP পদ্ধতির বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা:

বাংলাদেশের ভৌগোলিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামো বিবেচনায় FPTP পদ্ধতি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে গতিশীল, জনপ্রিয় ও কার্যকর করে তোলে। জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এ পদ্ধতি দেশের গণতন্ত্র  প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালীর অবিচ্ছেদ্য অংশ।

FPTP পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা ও তা মোকাবিলার উপায়:

যদিও FPTP পদ্ধতির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যেমন একটি বৃহত্তর দলের পক্ষপাতিত্ব এবং ছোট দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব সীমিত হওয়া, কিন্তু সেগুলো দূরীকরণের জন্য রাজনৈতিক সংস্কৃতি জোরদার করা, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা এবং নির্বাচনী প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই কার্যকর উপায়।

Professional Representation(PR)  পদ্ধতির নির্বাচনে সার্বিক অসুবিধা:

১) প্রশাসনিক জটিলতা: ভোট গণনা ও আসন বণ্টন প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ।

২) দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া: ভোটার সরাসরি প্রার্থী নয়, দলকে ভোট দেয়, যা ব্যক্তিগত জবাবদিহিতা কমাতে পারে ও ভোটার দলের বাহিরে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে না। 

৩) জোট সরকার ও অস্থিরতা: PR পদ্ধতিতে একক সরকার গঠন কঠিন, ফলে জোট সরকারগুলো দেশের স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে।

৪) ভোটার বিভ্রান্তি: PR পদ্ধতি বুঝতে না পারায় ভোটার বিভ্রান্ত হতে পারে এবং ভুল ভোট দিতে পারে।পাশাপাশি ভোটের প্রতি ভোটারের আগ্রহ কমে যেতে পারে।যেহেতু সে দল ছাড়া তার পছন্দের প্রার্থীকে  ভোট দিতে পারবে না। 

৫) দলীয় নেতৃত্বের আধিপত্য: দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ন্ত্রণ বেশি, যা নির্বাচকের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও স্থানীয় স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করা ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্বৈরাচারী কায়দায় অবতীর্ণ হতে পারে। 

৬) প্রতিনিধিত্বের দুর্বলতা: ভোটার এবং নির্বাচিত সদস্যের সরাসরি সম্পর্ক কম থাকে, যা জবাবদিহিতা হ্রাস করে।এতে জনগণ তারকাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। 

বিশ্বে PR পদ্ধতির প্রয়োগ ও সৃষ্ট সমস্যা:

PR পদ্ধতি বেশ কিছু উন্নত ও গণতান্ত্রিক দেশে ব্যবহৃত হলেও, এর কারণে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে:

১) জার্মানি: PR পদ্ধতিতে জোট সরকার গঠনের ফলে রাজনৈতিক নেতৃত্বে মাঝে মাঝে দীর্ঘ সময় ধরে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে  ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হয়। যার ফলে রাষ্ট্র,জনগণ ও উন্নয়ন  ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

২) নেদারল্যান্ডস: একাধিক ছোট দল থাকায় সরকার গঠনে জটিলতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দেরিতে বাজেট অনুমোদনের ঘটনা ঘটে।

৩) ইস্রায়েল: PR পদ্ধতির কারণে অসংখ্য রাজনৈতিক দল সংসদে আসার ফলে জোট সরকার দীর্ঘদিন টিকতে পারেনা এবং সরকারের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়।

৪) দক্ষিণ আফ্রিকা : প্রাথমিকভাবে PR পদ্ধতি গণতন্ত্রের বিস্তারে সহায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদে দলীয় ভেদাভেদ ও জোট সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে।

৫) নিউজিল্যান্ড: PR পদ্ধতি ক্ষমতার ভাগাভাগি এবং অপ্রচলিত দলগুলোর উত্থান ঘটিয়েছে, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

এসব দেশের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, PR পদ্ধতির বিস্তর  অবশ্যম্ভাবী সমস্যা রয়েছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জবাবদিহিতার সংকট।

সবশেষে বলা যায়, FPTP পদ্ধতি নির্বাচনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই পদ্ধতিতে ভোটার সরাসরি তাদের প্রতিনিধিকে ভোট দিয়ে তার প্রতি দায়বদ্ধ রাখে, যা নির্বাচিত ব্যক্তির সঙ্গে ভোটারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং প্রতিনিধি সহজেই তাদের দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হয়। দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ পায় সরকার, যা দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সহায়ক।

বাংলাদেশের মত বহু সংস্কৃতির, ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের এবং সামাজিক কাঠামোর দেশে, যেখানে জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা ক্রমবর্ধমান, FPTP পদ্ধতি সবার কাছে সহজবোধ্য ও গ্রহণযোগ্য। এটি আমাদের গণতন্ত্রকে মজবুত ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করে এবং একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করে।
অপরদিকে, PR পদ্ধতি আমাদের দেশের জন্য বর্তমানে একটি জটিল ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জ।  এই পদ্ধতির প্রয়োগে অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন, যা এই মুহূর্তে  আমাদের দেশে শূন্যের কোটায়।

 তাই প্রশাসনিক জটিলতা, ভোটার বিভ্রান্তি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার ঝুঁকি বিবেচনায়, PR পদ্ধতি দাবী কোনভাবেই সমচীন  নয়। 

সুতরাং, আমাদের উচিত বর্তমান FPTP পদ্ধতির যথাযথ ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী, নিরপেক্ষ এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ হয়। 
যদি সরকার ও রাজনৈতিক সদ ইচ্ছা থাকে।তাহলে পূর্ব অভিজ্ঞতা,দক্ষ জনবলের কারণে   FPTP পদ্ধতিতে আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা অধিকতর কার্যকর, জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ী ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করা কঠিন কোন কাজ নয় ।

দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি বিএসপি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী  পরিষদ। 

মো: ইব্রাহিম মিয়া 

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫,  2:58 PM

news image

গণতন্ত্রে জনগণের ভোটই হলো সর্বোচ্চ শক্তি। তাদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয় প্রতিনিধি যারা দেশের জন্য নীতি নির্ধারণ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বর্তমান বিশ্বে নির্বাচন পদ্ধতির অনেক রূপ রয়েছে, যার মধ্যে First-Past-The-Post (FPTP) পদ্ধতি অন্যতম জনপ্রিয় ও কার্যকর পদ্ধতি। এটি মূলত সরলতা, স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতার কারণে বিশ্বব্যাপী বেশিরভাগ গণতান্ত্রিক দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই প্রবন্ধে FPTP পদ্ধতির গুরুত্ব, সুবিধা ও বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য এর প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা হলো।

FPTP পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য:

FPTP বা সরাসরি প্রার্থী ভিত্তিক ভোটদান পদ্ধতিতে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় যিনি সর্বোচ্চ ভোট পান, তিনি নির্বাচিত হন। এতে ভোটার সরাসরি দলীয় বিবেচনা ছাড়াও  তাদের পছন্দের যোগ্য  প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। 

FPTP পদ্ধতির সুবিধাসমূহ:

১) সরলতা ও স্বচ্ছতা:
বিকল্প পদ্ধতির তুলনায় FPTP ভোটদান ও গণনা প্রক্রিয়া অনেক সহজ। ভোটারদের জন্য বোঝা সহজ, ভোট গণনা দ্রুত এবং ফলাফল স্পষ্ট হয়। এটি ভোটারদের বিভ্রান্তি কমায় ও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

২) স্থিতিশীল সরকার গঠন:
FPTP পদ্ধতিতে সাধারণত একটি বৃহত্তর দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে একক সরকার গঠন করে, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। এ ধরনের সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হয়, যা দেশের উন্নয়নে সহায়ক।

৩) প্রতিনিধিত্বের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা:
ভোটাররা সরাসরি তাদের পছন্দের  প্রার্থীকে ভোট দেয়, তাই নির্বাচিত সাংসদ ভোটারদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে। ভোটাররা সহজেই তাদের প্রতিনিধি’র সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, যা একজন সংসদ সদস্যকে  আরো জবাবদিহি হতে বাধ্য করে।

৪) স্থানীয় সমস্যা ও দাবির প্রতিফলন:
প্রতিটি ছোট নির্বাচনী এলাকা থাকায় স্থানীয় জনগণের সমস্যা ও চাহিদা সহজে সংসদে পৌঁছে যায়। সাংসদগণ নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখে, যা উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৫) রাজনৈতিক সংস্কৃতির সহজ গ্রহণযোগ্যতা:
FPTP পদ্ধতি বাংলাদেশের মতো দেশের সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য ও গ্রহণযোগ্য, যা রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

FPTP পদ্ধতির বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা:

বাংলাদেশের ভৌগোলিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামো বিবেচনায় FPTP পদ্ধতি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে গতিশীল, জনপ্রিয় ও কার্যকর করে তোলে। জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এ পদ্ধতি দেশের গণতন্ত্র  প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালীর অবিচ্ছেদ্য অংশ।

FPTP পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা ও তা মোকাবিলার উপায়:

যদিও FPTP পদ্ধতির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যেমন একটি বৃহত্তর দলের পক্ষপাতিত্ব এবং ছোট দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব সীমিত হওয়া, কিন্তু সেগুলো দূরীকরণের জন্য রাজনৈতিক সংস্কৃতি জোরদার করা, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা এবং নির্বাচনী প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই কার্যকর উপায়।

Professional Representation(PR)  পদ্ধতির নির্বাচনে সার্বিক অসুবিধা:

১) প্রশাসনিক জটিলতা: ভোট গণনা ও আসন বণ্টন প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ।

২) দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া: ভোটার সরাসরি প্রার্থী নয়, দলকে ভোট দেয়, যা ব্যক্তিগত জবাবদিহিতা কমাতে পারে ও ভোটার দলের বাহিরে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে না। 

৩) জোট সরকার ও অস্থিরতা: PR পদ্ধতিতে একক সরকার গঠন কঠিন, ফলে জোট সরকারগুলো দেশের স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে।

৪) ভোটার বিভ্রান্তি: PR পদ্ধতি বুঝতে না পারায় ভোটার বিভ্রান্ত হতে পারে এবং ভুল ভোট দিতে পারে।পাশাপাশি ভোটের প্রতি ভোটারের আগ্রহ কমে যেতে পারে।যেহেতু সে দল ছাড়া তার পছন্দের প্রার্থীকে  ভোট দিতে পারবে না। 

৫) দলীয় নেতৃত্বের আধিপত্য: দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ন্ত্রণ বেশি, যা নির্বাচকের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও স্থানীয় স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করা ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্বৈরাচারী কায়দায় অবতীর্ণ হতে পারে। 

৬) প্রতিনিধিত্বের দুর্বলতা: ভোটার এবং নির্বাচিত সদস্যের সরাসরি সম্পর্ক কম থাকে, যা জবাবদিহিতা হ্রাস করে।এতে জনগণ তারকাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। 

বিশ্বে PR পদ্ধতির প্রয়োগ ও সৃষ্ট সমস্যা:

PR পদ্ধতি বেশ কিছু উন্নত ও গণতান্ত্রিক দেশে ব্যবহৃত হলেও, এর কারণে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে:

১) জার্মানি: PR পদ্ধতিতে জোট সরকার গঠনের ফলে রাজনৈতিক নেতৃত্বে মাঝে মাঝে দীর্ঘ সময় ধরে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে  ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হয়। যার ফলে রাষ্ট্র,জনগণ ও উন্নয়ন  ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

২) নেদারল্যান্ডস: একাধিক ছোট দল থাকায় সরকার গঠনে জটিলতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দেরিতে বাজেট অনুমোদনের ঘটনা ঘটে।

৩) ইস্রায়েল: PR পদ্ধতির কারণে অসংখ্য রাজনৈতিক দল সংসদে আসার ফলে জোট সরকার দীর্ঘদিন টিকতে পারেনা এবং সরকারের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়।

৪) দক্ষিণ আফ্রিকা : প্রাথমিকভাবে PR পদ্ধতি গণতন্ত্রের বিস্তারে সহায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদে দলীয় ভেদাভেদ ও জোট সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে।

৫) নিউজিল্যান্ড: PR পদ্ধতি ক্ষমতার ভাগাভাগি এবং অপ্রচলিত দলগুলোর উত্থান ঘটিয়েছে, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

এসব দেশের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, PR পদ্ধতির বিস্তর  অবশ্যম্ভাবী সমস্যা রয়েছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জবাবদিহিতার সংকট।

সবশেষে বলা যায়, FPTP পদ্ধতি নির্বাচনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই পদ্ধতিতে ভোটার সরাসরি তাদের প্রতিনিধিকে ভোট দিয়ে তার প্রতি দায়বদ্ধ রাখে, যা নির্বাচিত ব্যক্তির সঙ্গে ভোটারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং প্রতিনিধি সহজেই তাদের দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হয়। দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ পায় সরকার, যা দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সহায়ক।

বাংলাদেশের মত বহু সংস্কৃতির, ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের এবং সামাজিক কাঠামোর দেশে, যেখানে জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা ক্রমবর্ধমান, FPTP পদ্ধতি সবার কাছে সহজবোধ্য ও গ্রহণযোগ্য। এটি আমাদের গণতন্ত্রকে মজবুত ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করে এবং একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করে।
অপরদিকে, PR পদ্ধতি আমাদের দেশের জন্য বর্তমানে একটি জটিল ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জ।  এই পদ্ধতির প্রয়োগে অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন, যা এই মুহূর্তে  আমাদের দেশে শূন্যের কোটায়।

 তাই প্রশাসনিক জটিলতা, ভোটার বিভ্রান্তি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার ঝুঁকি বিবেচনায়, PR পদ্ধতি দাবী কোনভাবেই সমচীন  নয়। 

সুতরাং, আমাদের উচিত বর্তমান FPTP পদ্ধতির যথাযথ ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী, নিরপেক্ষ এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ হয়। 
যদি সরকার ও রাজনৈতিক সদ ইচ্ছা থাকে।তাহলে পূর্ব অভিজ্ঞতা,দক্ষ জনবলের কারণে   FPTP পদ্ধতিতে আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা অধিকতর কার্যকর, জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ী ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করা কঠিন কোন কাজ নয় ।

দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি বিএসপি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী  পরিষদ।