CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য

#
news image

বেলা ১১টা। চুলায় হাঁড়িতে ভাত ফুটছে, উঠোনে খেলছে দেড় বছরের ছোট্ট ফারিয়া। বাবা জাকারিয়া রোজগারের তাগিদে বাইরে, মা সালমা ঘরের কাজে ব্যস্ত। হঠাৎ খেয়াল করলেন– ফারিয়া উঠোনে নেই! ব্যাকুল হয়ে এদিক-ওদিক খুঁজতে লাগলেন। চোখে পড়ল উঠোনে পড়ে থাকা এক পাটি ছোট জুতা। তারপর ঘরের লাগোয়া পুকুরে ভেসে উঠল প্রিয় লাল জামা পরা ফারিয়ার দেহ। ছুটে গিয়ে মা তুলে আনলেন মেয়ের ছোট্ট, শান্ত, নিথর শরীর। মুহূর্তের মধ্যেই শেষ হয়ে গেল মা-বাবার ভালোবাসা, স্বপ্ন আর সম্ভাবনার সব পথচলা। 
ফারিয়ার মৃত্যু কেবল সালমা-জাকারিয়া দম্পতির একক বেদনা নয়, বরং বাংলাদেশের নির্মম বাস্তবতা। প্রতিদিন অসংখ্য পরিবার একই শোকের ভার বয়ে বেড়ায়। বাংলাদেশ হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে ২০২৩-এর তথ্য বলছে– প্রতিদিন গড়ে ৫২ জন মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়, যাদের মধ্যে প্রায় ৪০ জনই শিশু। অথচ এই অকালমৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য, যদি আমরা সচেতন হই এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারি।
ফারিয়ার মতো অগণিত শিশুকে আমরা হারিয়েছি। অথচ প্রত্যেক শিশুর বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। তারা অকালে পানিতে ডুবে প্রাণ হারাচ্ছে। তবে আশার আলোও আছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) গবেষণায় প্রমাণিত– শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে রাখলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি ৮২ শতাংশ কমে যায়। একইভাবে ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের স্থানীয়ভাবে সহজ পদ্ধতিতে জীবন রক্ষাকারী সাঁতার শেখানো হলে মৃত্যুঝুঁকি ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পায়। 
বাংলাদেশ সরকারও ‘সমাজভিত্তিক সমন্বিত শিশুযত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ ও সুরক্ষা এবং সাঁতার সুবিধা প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করছে, যা ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল এবং বর্তমানে আরও এক বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু শিশুদের জন্য সাঁতারের সুযোগই তৈরি হয়নি, বরং পরিবার ও সমাজ পর্যায়ে শিশুদের সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে পানিতে ডোবা প্রতিরোধে জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও অনুমোদন একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। কেননা, নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে পানিতে ডোবা প্রতিরোধ কাজকে একটি জাতীয় ইস্যু হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে নীতিমালা প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজন পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ, দক্ষ জনবল তৈরি, স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ। সরকার ও বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠী, অভিভাবক এবং স্কুলগুলোকেও এই প্রয়াসে সম্পৃক্ত  করতে হবে।
লেখক: উপপরিচালক, সিআইপিআরবি

মো. আবুল বরকাত

০৮ অক্টোবর, ২০২৫,  5:07 PM

news image

বেলা ১১টা। চুলায় হাঁড়িতে ভাত ফুটছে, উঠোনে খেলছে দেড় বছরের ছোট্ট ফারিয়া। বাবা জাকারিয়া রোজগারের তাগিদে বাইরে, মা সালমা ঘরের কাজে ব্যস্ত। হঠাৎ খেয়াল করলেন– ফারিয়া উঠোনে নেই! ব্যাকুল হয়ে এদিক-ওদিক খুঁজতে লাগলেন। চোখে পড়ল উঠোনে পড়ে থাকা এক পাটি ছোট জুতা। তারপর ঘরের লাগোয়া পুকুরে ভেসে উঠল প্রিয় লাল জামা পরা ফারিয়ার দেহ। ছুটে গিয়ে মা তুলে আনলেন মেয়ের ছোট্ট, শান্ত, নিথর শরীর। মুহূর্তের মধ্যেই শেষ হয়ে গেল মা-বাবার ভালোবাসা, স্বপ্ন আর সম্ভাবনার সব পথচলা। 
ফারিয়ার মৃত্যু কেবল সালমা-জাকারিয়া দম্পতির একক বেদনা নয়, বরং বাংলাদেশের নির্মম বাস্তবতা। প্রতিদিন অসংখ্য পরিবার একই শোকের ভার বয়ে বেড়ায়। বাংলাদেশ হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে ২০২৩-এর তথ্য বলছে– প্রতিদিন গড়ে ৫২ জন মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়, যাদের মধ্যে প্রায় ৪০ জনই শিশু। অথচ এই অকালমৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য, যদি আমরা সচেতন হই এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারি।
ফারিয়ার মতো অগণিত শিশুকে আমরা হারিয়েছি। অথচ প্রত্যেক শিশুর বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। তারা অকালে পানিতে ডুবে প্রাণ হারাচ্ছে। তবে আশার আলোও আছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) গবেষণায় প্রমাণিত– শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে রাখলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি ৮২ শতাংশ কমে যায়। একইভাবে ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের স্থানীয়ভাবে সহজ পদ্ধতিতে জীবন রক্ষাকারী সাঁতার শেখানো হলে মৃত্যুঝুঁকি ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পায়। 
বাংলাদেশ সরকারও ‘সমাজভিত্তিক সমন্বিত শিশুযত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ ও সুরক্ষা এবং সাঁতার সুবিধা প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করছে, যা ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল এবং বর্তমানে আরও এক বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু শিশুদের জন্য সাঁতারের সুযোগই তৈরি হয়নি, বরং পরিবার ও সমাজ পর্যায়ে শিশুদের সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে পানিতে ডোবা প্রতিরোধে জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও অনুমোদন একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। কেননা, নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে পানিতে ডোবা প্রতিরোধ কাজকে একটি জাতীয় ইস্যু হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে নীতিমালা প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজন পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ, দক্ষ জনবল তৈরি, স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ। সরকার ও বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠী, অভিভাবক এবং স্কুলগুলোকেও এই প্রয়াসে সম্পৃক্ত  করতে হবে।
লেখক: উপপরিচালক, সিআইপিআরবি