নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ অক্টোবর, ২০২৫, 2:45 PM
বাংলাদেশের বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন ৬০০ গ্রেড রিবারের (রড) ব্যবহার ও এর অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ৬০০ গ্রেড রিবারের ব্যবহার দেশের নির্মাণশিল্পে ব্যয় সাশ্রয়, দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বুয়েট বিশেষজ্ঞদের মূল বক্তব্য: ১০-২৫% পর্যন্ত ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব:
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. রাকিব আহসান। তিনি তাঁর ‘ইনহ্যাঞ্চিং ইকোনমি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি থ্রু হাই-স্ট্রেন্থ রিইনফোর্সমেন্ট ইন লার্জ স্কেল কংক্রিট স্ট্রাকচার’ শীর্ষক উপস্থাপনায় ৬০০ গ্রেড রিবারের অর্থনৈতিক সুবিধা তুলে ধরেন:
কম রড, বেশি শক্তি: উচ্চ শক্তিসম্পন্ন ৬০০ গ্রেড রড ব্যবহার করলে বৃহৎ কংক্রিট কাঠামোয় প্রয়োজনীয় রডের পরিমাণ কমে যায়, অথচ কাঠামোর ভারবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
খরচ হ্রাস ও পরিবেশবান্ধব সমাধান: তাঁর গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রচলিত রডের তুলনায় ৬০০ গ্রেডের রড ব্যবহারে ১০-২৫% পর্যন্ত রিবার সাশ্রয় সম্ভব, যা নির্মাণ খরচ কমাতে সহায়ক। কম ইস্পাত ব্যবহার হওয়ায় এটি পরিবেশের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ভবিষ্যতের পথ: ড. রাকিব আহসান জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণে এই হাই স্ট্রেন্থ রডের ব্যবহার হলে টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সাশ্রয় এবং দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে।
বুয়েটের প্রাক্তন অধ্যাপক ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষজ্ঞ ড. এম. শামিম জেড বসুনিয়া এই মতকে সমর্থন করে বলেন, মেগা প্রজেক্টগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের উপকরণ ব্যবহার না করলে কাঠামোগত ঝুঁকি থেকে যাবে। ৬০০ গ্রেড রিবার তার উন্নত বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে কাঠামোর টেকসই শক্তি নিশ্চিত করতে পারে, যা প্রকল্পগুলোর আয়ুষ্কাল বাড়াবে।
নির্মাণ প্রক্রিয়ার মান: ইনডাকশন ফার্নেসের দুর্বলতা:
গোলটেবিল আলোচনায় অভিজ্ঞ স্টিল ইন্ডাস্ট্রি পেশাজীবী ও মেটালার্জিস্ট ইঞ্জি. মো. সাইফুল ইসলাম রড উৎপাদনের প্রযুক্তিগত দিকটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্টিল নির্মাতারা ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস (ঊঅঋ) বা বেসিক অক্সিজেন ফার্নেস (ইঙঋ) ব্যবহার করার সুপারিশ করে, কিন্তু ইনডাকশন ফার্নেস (ওঋ) অনুমোদিত নয়।
বাংলাদেশের বাস্তবতা: তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ নির্মাতা এখনও ইনডাকশন ফার্নেস ব্যবহার করে, যা অনেক দেশে দুর্বল মান ও টেকসইতার সমস্যার কারণে বাতিল করার পরিকল্পনা চলছে।
আন্তর্জাতিক উদাহরণ: তিনি থাইল্যান্ডের উদাহরণ দেন, যেখানে ভূমিকম্প ও ভবন ধসের পর শিল্প মন্ত্রণালয় সব ইনডাকশন ফার্নেস-ভিত্তিক স্টিল উৎপাদন ইউনিট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, কারণ এগুলোর মান ধারাবাহিক নয়।
কোয়ালিটি কন্ট্রোল: তিনি জানান, অত্যাধুনিক কোয়ালিটি কন্ট্রোল থাকায় ঊঅঋ প্রক্রিয়ায় ৬০০ এমপিএ গ্রেড সহ উচ্চ শক্তির রড উৎপাদন সহজ এবং ধারাবাহিক মান নিশ্চিত করা সম্ভব।
ইঞ্জি. সাইফুল আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (ইইঅ) রড ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই উৎপাদন প্রক্রিয়ার ধরণ বিবেচনা করবে, যাতে মান, নিরাপত্তা ও টেকসইতার লক্ষ্য অর্জিত হয়।
সেতু কর্তৃপক্ষের অঙ্গীকার:
প্রধান অতিথি মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, দেশের অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর দ্রুত প্রসারের প্রেক্ষিতে টেকসই সমাধান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উচ্চ শক্তির রড ব্যবহারে নির্মাণ ব্যয় সাশ্রয় হবে এবং এর উচ্চ শক্তি ও স্থায়িত্ব দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমিয়ে আনবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ৬০০ গ্রেড রিবার তার অধিক স্থায়িত্ব, নমনীয়তা এবং ভারবহন ক্ষমতার কারণে কংক্রিট কাঠামোর শক্তি বৃদ্ধি করে এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমায়। গোলটেবিল আলোচনায় উপস্থিত বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বৃহৎ প্রকল্পে এই রডের ব্যবহার অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ অক্টোবর, ২০২৫, 2:45 PM
বাংলাদেশের বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন ৬০০ গ্রেড রিবারের (রড) ব্যবহার ও এর অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ৬০০ গ্রেড রিবারের ব্যবহার দেশের নির্মাণশিল্পে ব্যয় সাশ্রয়, দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বুয়েট বিশেষজ্ঞদের মূল বক্তব্য: ১০-২৫% পর্যন্ত ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব:
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. রাকিব আহসান। তিনি তাঁর ‘ইনহ্যাঞ্চিং ইকোনমি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি থ্রু হাই-স্ট্রেন্থ রিইনফোর্সমেন্ট ইন লার্জ স্কেল কংক্রিট স্ট্রাকচার’ শীর্ষক উপস্থাপনায় ৬০০ গ্রেড রিবারের অর্থনৈতিক সুবিধা তুলে ধরেন:
কম রড, বেশি শক্তি: উচ্চ শক্তিসম্পন্ন ৬০০ গ্রেড রড ব্যবহার করলে বৃহৎ কংক্রিট কাঠামোয় প্রয়োজনীয় রডের পরিমাণ কমে যায়, অথচ কাঠামোর ভারবহন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
খরচ হ্রাস ও পরিবেশবান্ধব সমাধান: তাঁর গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রচলিত রডের তুলনায় ৬০০ গ্রেডের রড ব্যবহারে ১০-২৫% পর্যন্ত রিবার সাশ্রয় সম্ভব, যা নির্মাণ খরচ কমাতে সহায়ক। কম ইস্পাত ব্যবহার হওয়ায় এটি পরিবেশের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ভবিষ্যতের পথ: ড. রাকিব আহসান জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণে এই হাই স্ট্রেন্থ রডের ব্যবহার হলে টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সাশ্রয় এবং দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে।
বুয়েটের প্রাক্তন অধ্যাপক ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষজ্ঞ ড. এম. শামিম জেড বসুনিয়া এই মতকে সমর্থন করে বলেন, মেগা প্রজেক্টগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের উপকরণ ব্যবহার না করলে কাঠামোগত ঝুঁকি থেকে যাবে। ৬০০ গ্রেড রিবার তার উন্নত বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে কাঠামোর টেকসই শক্তি নিশ্চিত করতে পারে, যা প্রকল্পগুলোর আয়ুষ্কাল বাড়াবে।
নির্মাণ প্রক্রিয়ার মান: ইনডাকশন ফার্নেসের দুর্বলতা:
গোলটেবিল আলোচনায় অভিজ্ঞ স্টিল ইন্ডাস্ট্রি পেশাজীবী ও মেটালার্জিস্ট ইঞ্জি. মো. সাইফুল ইসলাম রড উৎপাদনের প্রযুক্তিগত দিকটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্টিল নির্মাতারা ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস (ঊঅঋ) বা বেসিক অক্সিজেন ফার্নেস (ইঙঋ) ব্যবহার করার সুপারিশ করে, কিন্তু ইনডাকশন ফার্নেস (ওঋ) অনুমোদিত নয়।
বাংলাদেশের বাস্তবতা: তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ নির্মাতা এখনও ইনডাকশন ফার্নেস ব্যবহার করে, যা অনেক দেশে দুর্বল মান ও টেকসইতার সমস্যার কারণে বাতিল করার পরিকল্পনা চলছে।
আন্তর্জাতিক উদাহরণ: তিনি থাইল্যান্ডের উদাহরণ দেন, যেখানে ভূমিকম্প ও ভবন ধসের পর শিল্প মন্ত্রণালয় সব ইনডাকশন ফার্নেস-ভিত্তিক স্টিল উৎপাদন ইউনিট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, কারণ এগুলোর মান ধারাবাহিক নয়।
কোয়ালিটি কন্ট্রোল: তিনি জানান, অত্যাধুনিক কোয়ালিটি কন্ট্রোল থাকায় ঊঅঋ প্রক্রিয়ায় ৬০০ এমপিএ গ্রেড সহ উচ্চ শক্তির রড উৎপাদন সহজ এবং ধারাবাহিক মান নিশ্চিত করা সম্ভব।
ইঞ্জি. সাইফুল আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (ইইঅ) রড ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই উৎপাদন প্রক্রিয়ার ধরণ বিবেচনা করবে, যাতে মান, নিরাপত্তা ও টেকসইতার লক্ষ্য অর্জিত হয়।
সেতু কর্তৃপক্ষের অঙ্গীকার:
প্রধান অতিথি মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, দেশের অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর দ্রুত প্রসারের প্রেক্ষিতে টেকসই সমাধান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উচ্চ শক্তির রড ব্যবহারে নির্মাণ ব্যয় সাশ্রয় হবে এবং এর উচ্চ শক্তি ও স্থায়িত্ব দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমিয়ে আনবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ৬০০ গ্রেড রিবার তার অধিক স্থায়িত্ব, নমনীয়তা এবং ভারবহন ক্ষমতার কারণে কংক্রিট কাঠামোর শক্তি বৃদ্ধি করে এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমায়। গোলটেবিল আলোচনায় উপস্থিত বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বৃহৎ প্রকল্পে এই রডের ব্যবহার অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।