CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

বোরকা কোনকালেই মুসলমানদের নিজস্ব পোশাক ছিলো না

#
news image

বোরকা কোনকালেই মুসলমানদের নিজস্ব পোশাক ছিলো না। পর্তুগাল সহ বেশ কিছু দেশে বোরকা নিষিদ্ধ হওয়ায় মুসলমানরা খুব ব্যাথিত ও উত্তেজিত।এরা কিসের জন্য এত উত্তেজনা বোধ করে তা বোধহয় এরা নিজেরাও জানে না। ইহুদি ও খ্রিস্টানদের রীতিনীতি অনুসরণ করে একদল “ আমার আমার” বলে মানুষ হত্যা করতেও পর্যন্ত উদ্ধত হয়।আমার কাছে এরা আহম্মক ছাড়া আর কিছুই নয়। ইসলাম ধর্মে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মতো পর্দার কথা বলা আছে। “ বোরকা” শব্দের উল্লেখ আপনি কোথাও দেখাতে পারবেন না।
ইহুদীদের হেরেদী সম্প্রদায়ের একটি ঐতিহ্যবাহী পোশাক হচ্ছে বোরকা। ইদানিং কালে একদল মুসলমান বোরকাকে নিজেদের ধর্মীয় পোশাক দাবী করে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে। পৃথিবীতে ইসলাম আগমনের ৩৫০ বছর পূর্বে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের নারীদের বোরকা পরার প্রথা প্রচলন ছিল।বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ছিল রোমান সাম্রাজ্যের শেষাংশ, যা প্রায় এক হাজার বছর স্থায়ী ছিলো।বোরকা কখনোই মুসলমানদের ধর্মীয় পোশাক নয়।
ঐতিহ্যগতভাবেই যিশু খ্রিস্টের জন্মের প্রায় ৫৫০ বছর পূর্ব থেকেই তথা ইসলাম পৃথিবীতে আসার ১৫০০ বছর আগে থেকেই পারস্যর নারীরা বোরকা পরিধান করতো। পৃথিবীতে বোরকা ইসলাম নিয়ে আসেনি এটাও তার একটা বড় প্রমাণ। পারস্যর মানুষ জরাথ্রুষ্টবাদ ধর্মের অনুসারী ছিলো। পৃথিবীতে খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্ম আসার বহু আগে থেকেই এই ধর্মের অনুসারী নারীরা বোরকা পরিধান করতো।এরা এক সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করতো। খ্রিষ্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতকে দারিয়ুস দ্য গ্রেটের শাসনামলে পারস্য সাম্রাজ্য ৫৫ লক্ষ বর্গকিলোমিটার আয়তনে তুরস্ক, ইরাক, ইরান , মিশর , আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে জুড়ে বিস্তৃত ছিলো। এদের কেউ তখন মুসলমান ছিলো না। জরাথ্রুষ্টবাদ ছাড়াও পারস্য সমাজে ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মের প্রচলন ছিলো। তখনও পারস্য সাম্রাজ্যের নারীরা বোরকা পরিধান করতো।বোরকা মুসলমানদের ধর্মীয় পোশাক, এটা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছাড়া আর কিছুই নয়।
পৃথিবীতে যে ধর্মগ্রন্থগুলো দেখতে পান তা একটা আরেকটার কার্বন কপি। ইহুদি ( হালাচা) আইন অনুসারে , “ ইহুদি নারীদের বিয়ের পর চুল ঢেকে রাখতে হবে। পিতা - মাতা, ভাই - বোন ও স্বামী ছাড়া এই চুল কেউ দেখতে পারবে না।” ইহুদীদের হালাচা আইন অনুসরণ করে অনেক মুসলমান বক্তাকেও মেয়েদের হাত , পা , চুল এসব নিয়ে অনেক গালগল্প ও ফতোয়াবাজি করতে দেখা যায়। পৃথিবীতে ইসলাম আসার দুই হাজার বছর আগে থেকেই ইহুদি নারীরা বোরকা পরিধান করতো। ইহুদীদের তোরাহ গ্রন্থে পর্দা প্রথার কথা বলা হয়েছে।এমনকি ইসলাম ধর্মের প্রায় ছয়শো বছর আগে পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া খ্রিস্টান ধর্মের ক্যাথলিক, পূর্ব অর্থোডক্স, পূর্ব লুথারান ঐতিহ্যগতভাবে নারীরা বোরকা পরিধান করতো, পর্দা প্রথা পালন করতো।সবকিছুই অমুক ধর্মগ্রন্থ থেকে এসেছে এসব বানোয়াট গালগল্প ছাড়া আর কিছুই নয়।
আজ থেকে ৪৫০০ বছর আগেও প্রাচীন ইরাকের মেসোপটেমিয়া সভ্যতায় পর্দা যুক্ত নারীর মূর্তি আবিষ্কার হয়েছে।ওয়াজের নামে বিভিন্ন তিন ফুটি বক্তা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারলেও ইতিহাস মুছে ফেলা সম্ভব নয়। যিশু খ্রিস্টের জন্মের ১৩ শ বছর আগেও অ্যাসিরিয় সভ্যতার আইনে ধর্মের চিহ্ন হিসেবে মাথা ঢেকে রাখার আইন ছিলো। ইরাকের মূর্তিপূজারীরা পর্দা প্রথাকে আজ থেকে ৪৫০০ বছর আগেই সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছিলো।তখন ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলমান কোন ধর্মের পৃথিবীতে জন্ম হয়নি।
আরব দেশগুলো প্রচন্ড গরম ও ধুলো বালুর সমস্যা হওয়ায় আরবের নারী ও পুরুষরা বহু আগে থেকেই এসব পর্দা প্রথা পালন করে এসেছেন রোদ ও ধুলাবালু থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য।এটি একটি জলবায়ুগত সমস্যা। আজকের যে আধুনিক বোরকা তার উৎপত্তি ১৮ শতকে ভারতের গুজরাটে।ধর্মকে পোশাকের সাথে মিলিয়ে যে জগাখিচুড়ী মার্কা গল্প প্রচার করে বাঙালি সংস্কৃতিকে ধ্বংসের চক্রান্ত হচ্ছে তার মূল কারিগররা ১৯৯০ এর দশক থেকে বাংলাদেশে বোরকা ও হিজাব নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ওয়াজের নামে। আমাদের দাদী ও নানীরা বোরকা পরা ছাড়াই কবরে চলে গেছেন। হাজার হাজার বছর ধরে এই অঞ্চলের নারীরা শাড়ি পরেছেন এবং শাড়ি পরিহিত অবস্থায় কবরে চলে গেছেন। এদের জান্নাত ও জাহান্নাম নির্ধারণ করার এই কাঠমোল্লারা কে? 
বোরকা পরার কারণে শরীরে ভিটামিন ডি এর সংকট হয় , যা নারীদের বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার তৈরি করে। হিজাবের কারণে মুখে অক্সিজেনের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।এর ফলে মস্তিষ্কে কম অক্সিজেন প্রবাহিত হয়ে নারীদের শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হয়। প্রচণ্ড গরমে বোরকা পরিধান করার কারণে মহিলারা হিটস্ট্রোক হয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারেন। আরবের জলবায়ু ও ধুলোবালি সমস্যা আর বাংলাদেশের সমস্যা এক নয়। বাংলাদেশ হচ্ছে পলিমাটির দেশ , মরুভূমির দেশ নয়।বোরকা মহিলাদের চোখ ও মস্তিস্কের ভয়াবহ ক্ষতি করে। বোরকা নামক সামাজিক ব্যাধি আমাদের সমাজে চালু হওয়ার পর থেকেই ৮৫ ভাগ ধর্ষণ বেড়ে গেছে। আগে যখন এত বোরকা প্রথা ছিলো না তখন যে পরিমাণ ধর্ষণ হতো , বর্তমানে তা যেন কয়েকশো গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের বেশীরভাগ নারীই তাদের নিকটাত্মীয় ধারা শিশুকালেই ধর্ষণের শিকার হোন। বোরকা বাংলাদেশে ধর্ষণ কয়েক শত গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বোরকার কারণে ধর্ষণ বন্ধ হয়েছে এটা ভয়াবহ মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়।
গ্রীক ও রোমান সমাজেও পর্দা প্রথার প্রচলন ছিলো। পরবর্তীকালে জুদায়ো- খ্রিষ্টিয়ান সংস্কৃতির হাত ধরে এই বোরকা প্রথা ইসলামিক সংস্কৃতিতে প্রবেশ করেছে। বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীতে এসে মুসলমরা এই পর্দা প্রথার জন্য যেন রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে। তুরস্কের জাতির জনক কামাল আতাতুর্ক তুরস্কে নারীদের জন্য বোরকা ও হিজাব নিষিদ্ধ করেছিলেন। মুসলিম দেশে মিশরে বোরকা ও হিজাব নিষিদ্ধ হয়েছে। তিউনিসিয়া সহ পৃথিবীর অসংখ্য মুসলিম দেশে হিজাব নিষিদ্ধ।বোরকাকে হাতিয়ার বানিয়ে পাকিস্তান , আফগানিস্তান , বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে মুসলিম নারীদের জ-ঙ্গী বানিয়ে বোমা বিস্ফোরণের ইতিহাস কি আমরা ভুলে যাচ্ছি? বোরকা কে একদল  মুসলমানরা মানুষ হত্যার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বোরকা পরিহিত নারীরা বিভিন্ন সময় বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যা করেছেন। বোরকা পরিহিত নারীরা ২০০৫ সালের ১৭ ই আগষ্ট সমগ্র বাংলাদেশে সিরিজ বোমা বিস্ফোরণে অংশগ্রহণ করেছিল।সারা বিশ্বের মানুষের কাছে বোরকা আজ এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আফগানিস্তানে বোরকাকে বলা হয় চাদরি বা চাদর, মধ্যে এশিয়ার মানুষ এটিকে বলে পরাঞ্জা ও রাশিয়ায় এটি তারার নামে পরিচিত।আরবীরা কালো রঙের যে বোরকা পরিধান করে তা হচ্ছে বোশিয়া।বোরকা ও নিকাব এই দুটোও এক বিষয় নয়।বোরকা হচ্ছে মাথার চুড়া থেকে শুরু করে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ঢেকে দেওয়া আর নিকাব হচ্ছে একটা মুখ ঢাকা পর্দা ছাড়া আর কিছুই নয়। 
বোরকা দিয়ে শরীর ঢেকে রাজনীতি করার এই প্রক্রিয়া বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল ২০১২ সাল থেকে। ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কিছু নারীরা বোরকা ও হিজাব আন্দোলন শুরু করে।অথচ ইরান ও জর্ডানের গবেষণায় বোরকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর বলা হয়েছে।
বোরকা পরার কারণে মহিলাদের ভিটামিন ডি এর অভাবে অস্টিওম্যালেসিয়া ও অস্টিওপোরেসিস হাড় রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিস , হৃদরোগে আমাদের মায়েরা আক্রান্ত হচ্ছেন।অতীতে আমাদের দাদী ও নানীরা যখন বোরকা ছাড়া শাড়ি পড়ে খোলা মাঠে কৃষি কাজ করেছেন , প্রকৃতির আলো ও বাতাসে নাচতে নাচতে বড় হয়েছেন এবং শতায়ু হয়েছেন , সেখানে এখন বাংলাদেশের নারীরা অতিরিক্ত বোরকা প্রীতির কারণে চল্লিশের পর থেকেই হাড় সহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন।বোরকা পরার কারণে নিজের অজান্তেই বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার মুখোমুখি হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন অনেকেই। আপনার শরীরে আলো ও বাতাস বন্ধ করে যারা বোরকা ও হিজাবের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলছেন, “ বোরকা ধর্ষণ কমায় ও বোরকা পরলে নারীরা নিরাপদ এবং নুনুভুতি খাড়াবে না! তাদের স্পষ্ট করে বলছি , “ ছোট বেলায় যখন নিজের মায়ের দুধ মুখে দিয়ে বড় হয়েছেন তখন কাম সুত্র জাগেনি? 
নিজেদের চরিত্র ঠিক করেন আগে। নৈতিকতাবোধ সম্পন্ন মানুষ হোন। পুরুষের যেমন শরীর আছে নারীদেরও শরীর আছে।এসব প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট হয়েছে। নিজেদের যৌন নীপিড়ক যন্ত্রকে ইসলামী পোশাক আখ্যা দিয়ে নারীদের উপর চাপিয়ে দিবেন না।এতে মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসে। কিন্তু সমাজ, সামাজিকতা ও ধর্মের ভয়ে নারীরা এসবের প্রতিবাদ করতে না পেরে ধুকে ধুকে মরছেন। ইরানের মতো দেশে নারীরা বোরকা পরতে না চাইলে মাত্র এক সাপ্তাহে ৯৬ জন নারীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। অন্যর পোশাককে নিজেদের ধর্মীয় পোশাক বলে মিথ্যা প্রচারণা এখনি বন্ধ করুন। পোশাক কখনোই মানুষের ধর্মীয় পরিচয় হয়নি, হতে পারে না। এসব ভণ্ডামি এখনি নিজ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে বন্ধ করুন। সত্য সবসময় সুন্দর ।

 

সোস্যাল মিডিয়া

২৭ অক্টোবর, ২০২৫,  2:36 PM

news image

বোরকা কোনকালেই মুসলমানদের নিজস্ব পোশাক ছিলো না। পর্তুগাল সহ বেশ কিছু দেশে বোরকা নিষিদ্ধ হওয়ায় মুসলমানরা খুব ব্যাথিত ও উত্তেজিত।এরা কিসের জন্য এত উত্তেজনা বোধ করে তা বোধহয় এরা নিজেরাও জানে না। ইহুদি ও খ্রিস্টানদের রীতিনীতি অনুসরণ করে একদল “ আমার আমার” বলে মানুষ হত্যা করতেও পর্যন্ত উদ্ধত হয়।আমার কাছে এরা আহম্মক ছাড়া আর কিছুই নয়। ইসলাম ধর্মে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মতো পর্দার কথা বলা আছে। “ বোরকা” শব্দের উল্লেখ আপনি কোথাও দেখাতে পারবেন না।
ইহুদীদের হেরেদী সম্প্রদায়ের একটি ঐতিহ্যবাহী পোশাক হচ্ছে বোরকা। ইদানিং কালে একদল মুসলমান বোরকাকে নিজেদের ধর্মীয় পোশাক দাবী করে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে। পৃথিবীতে ইসলাম আগমনের ৩৫০ বছর পূর্বে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের নারীদের বোরকা পরার প্রথা প্রচলন ছিল।বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ছিল রোমান সাম্রাজ্যের শেষাংশ, যা প্রায় এক হাজার বছর স্থায়ী ছিলো।বোরকা কখনোই মুসলমানদের ধর্মীয় পোশাক নয়।
ঐতিহ্যগতভাবেই যিশু খ্রিস্টের জন্মের প্রায় ৫৫০ বছর পূর্ব থেকেই তথা ইসলাম পৃথিবীতে আসার ১৫০০ বছর আগে থেকেই পারস্যর নারীরা বোরকা পরিধান করতো। পৃথিবীতে বোরকা ইসলাম নিয়ে আসেনি এটাও তার একটা বড় প্রমাণ। পারস্যর মানুষ জরাথ্রুষ্টবাদ ধর্মের অনুসারী ছিলো। পৃথিবীতে খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্ম আসার বহু আগে থেকেই এই ধর্মের অনুসারী নারীরা বোরকা পরিধান করতো।এরা এক সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করতো। খ্রিষ্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতকে দারিয়ুস দ্য গ্রেটের শাসনামলে পারস্য সাম্রাজ্য ৫৫ লক্ষ বর্গকিলোমিটার আয়তনে তুরস্ক, ইরাক, ইরান , মিশর , আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে জুড়ে বিস্তৃত ছিলো। এদের কেউ তখন মুসলমান ছিলো না। জরাথ্রুষ্টবাদ ছাড়াও পারস্য সমাজে ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মের প্রচলন ছিলো। তখনও পারস্য সাম্রাজ্যের নারীরা বোরকা পরিধান করতো।বোরকা মুসলমানদের ধর্মীয় পোশাক, এটা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছাড়া আর কিছুই নয়।
পৃথিবীতে যে ধর্মগ্রন্থগুলো দেখতে পান তা একটা আরেকটার কার্বন কপি। ইহুদি ( হালাচা) আইন অনুসারে , “ ইহুদি নারীদের বিয়ের পর চুল ঢেকে রাখতে হবে। পিতা - মাতা, ভাই - বোন ও স্বামী ছাড়া এই চুল কেউ দেখতে পারবে না।” ইহুদীদের হালাচা আইন অনুসরণ করে অনেক মুসলমান বক্তাকেও মেয়েদের হাত , পা , চুল এসব নিয়ে অনেক গালগল্প ও ফতোয়াবাজি করতে দেখা যায়। পৃথিবীতে ইসলাম আসার দুই হাজার বছর আগে থেকেই ইহুদি নারীরা বোরকা পরিধান করতো। ইহুদীদের তোরাহ গ্রন্থে পর্দা প্রথার কথা বলা হয়েছে।এমনকি ইসলাম ধর্মের প্রায় ছয়শো বছর আগে পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া খ্রিস্টান ধর্মের ক্যাথলিক, পূর্ব অর্থোডক্স, পূর্ব লুথারান ঐতিহ্যগতভাবে নারীরা বোরকা পরিধান করতো, পর্দা প্রথা পালন করতো।সবকিছুই অমুক ধর্মগ্রন্থ থেকে এসেছে এসব বানোয়াট গালগল্প ছাড়া আর কিছুই নয়।
আজ থেকে ৪৫০০ বছর আগেও প্রাচীন ইরাকের মেসোপটেমিয়া সভ্যতায় পর্দা যুক্ত নারীর মূর্তি আবিষ্কার হয়েছে।ওয়াজের নামে বিভিন্ন তিন ফুটি বক্তা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারলেও ইতিহাস মুছে ফেলা সম্ভব নয়। যিশু খ্রিস্টের জন্মের ১৩ শ বছর আগেও অ্যাসিরিয় সভ্যতার আইনে ধর্মের চিহ্ন হিসেবে মাথা ঢেকে রাখার আইন ছিলো। ইরাকের মূর্তিপূজারীরা পর্দা প্রথাকে আজ থেকে ৪৫০০ বছর আগেই সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছিলো।তখন ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলমান কোন ধর্মের পৃথিবীতে জন্ম হয়নি।
আরব দেশগুলো প্রচন্ড গরম ও ধুলো বালুর সমস্যা হওয়ায় আরবের নারী ও পুরুষরা বহু আগে থেকেই এসব পর্দা প্রথা পালন করে এসেছেন রোদ ও ধুলাবালু থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য।এটি একটি জলবায়ুগত সমস্যা। আজকের যে আধুনিক বোরকা তার উৎপত্তি ১৮ শতকে ভারতের গুজরাটে।ধর্মকে পোশাকের সাথে মিলিয়ে যে জগাখিচুড়ী মার্কা গল্প প্রচার করে বাঙালি সংস্কৃতিকে ধ্বংসের চক্রান্ত হচ্ছে তার মূল কারিগররা ১৯৯০ এর দশক থেকে বাংলাদেশে বোরকা ও হিজাব নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ওয়াজের নামে। আমাদের দাদী ও নানীরা বোরকা পরা ছাড়াই কবরে চলে গেছেন। হাজার হাজার বছর ধরে এই অঞ্চলের নারীরা শাড়ি পরেছেন এবং শাড়ি পরিহিত অবস্থায় কবরে চলে গেছেন। এদের জান্নাত ও জাহান্নাম নির্ধারণ করার এই কাঠমোল্লারা কে? 
বোরকা পরার কারণে শরীরে ভিটামিন ডি এর সংকট হয় , যা নারীদের বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার তৈরি করে। হিজাবের কারণে মুখে অক্সিজেনের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।এর ফলে মস্তিষ্কে কম অক্সিজেন প্রবাহিত হয়ে নারীদের শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হয়। প্রচণ্ড গরমে বোরকা পরিধান করার কারণে মহিলারা হিটস্ট্রোক হয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারেন। আরবের জলবায়ু ও ধুলোবালি সমস্যা আর বাংলাদেশের সমস্যা এক নয়। বাংলাদেশ হচ্ছে পলিমাটির দেশ , মরুভূমির দেশ নয়।বোরকা মহিলাদের চোখ ও মস্তিস্কের ভয়াবহ ক্ষতি করে। বোরকা নামক সামাজিক ব্যাধি আমাদের সমাজে চালু হওয়ার পর থেকেই ৮৫ ভাগ ধর্ষণ বেড়ে গেছে। আগে যখন এত বোরকা প্রথা ছিলো না তখন যে পরিমাণ ধর্ষণ হতো , বর্তমানে তা যেন কয়েকশো গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের বেশীরভাগ নারীই তাদের নিকটাত্মীয় ধারা শিশুকালেই ধর্ষণের শিকার হোন। বোরকা বাংলাদেশে ধর্ষণ কয়েক শত গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বোরকার কারণে ধর্ষণ বন্ধ হয়েছে এটা ভয়াবহ মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়।
গ্রীক ও রোমান সমাজেও পর্দা প্রথার প্রচলন ছিলো। পরবর্তীকালে জুদায়ো- খ্রিষ্টিয়ান সংস্কৃতির হাত ধরে এই বোরকা প্রথা ইসলামিক সংস্কৃতিতে প্রবেশ করেছে। বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীতে এসে মুসলমরা এই পর্দা প্রথার জন্য যেন রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে। তুরস্কের জাতির জনক কামাল আতাতুর্ক তুরস্কে নারীদের জন্য বোরকা ও হিজাব নিষিদ্ধ করেছিলেন। মুসলিম দেশে মিশরে বোরকা ও হিজাব নিষিদ্ধ হয়েছে। তিউনিসিয়া সহ পৃথিবীর অসংখ্য মুসলিম দেশে হিজাব নিষিদ্ধ।বোরকাকে হাতিয়ার বানিয়ে পাকিস্তান , আফগানিস্তান , বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে মুসলিম নারীদের জ-ঙ্গী বানিয়ে বোমা বিস্ফোরণের ইতিহাস কি আমরা ভুলে যাচ্ছি? বোরকা কে একদল  মুসলমানরা মানুষ হত্যার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বোরকা পরিহিত নারীরা বিভিন্ন সময় বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যা করেছেন। বোরকা পরিহিত নারীরা ২০০৫ সালের ১৭ ই আগষ্ট সমগ্র বাংলাদেশে সিরিজ বোমা বিস্ফোরণে অংশগ্রহণ করেছিল।সারা বিশ্বের মানুষের কাছে বোরকা আজ এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আফগানিস্তানে বোরকাকে বলা হয় চাদরি বা চাদর, মধ্যে এশিয়ার মানুষ এটিকে বলে পরাঞ্জা ও রাশিয়ায় এটি তারার নামে পরিচিত।আরবীরা কালো রঙের যে বোরকা পরিধান করে তা হচ্ছে বোশিয়া।বোরকা ও নিকাব এই দুটোও এক বিষয় নয়।বোরকা হচ্ছে মাথার চুড়া থেকে শুরু করে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ঢেকে দেওয়া আর নিকাব হচ্ছে একটা মুখ ঢাকা পর্দা ছাড়া আর কিছুই নয়। 
বোরকা দিয়ে শরীর ঢেকে রাজনীতি করার এই প্রক্রিয়া বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল ২০১২ সাল থেকে। ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কিছু নারীরা বোরকা ও হিজাব আন্দোলন শুরু করে।অথচ ইরান ও জর্ডানের গবেষণায় বোরকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর বলা হয়েছে।
বোরকা পরার কারণে মহিলাদের ভিটামিন ডি এর অভাবে অস্টিওম্যালেসিয়া ও অস্টিওপোরেসিস হাড় রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিস , হৃদরোগে আমাদের মায়েরা আক্রান্ত হচ্ছেন।অতীতে আমাদের দাদী ও নানীরা যখন বোরকা ছাড়া শাড়ি পড়ে খোলা মাঠে কৃষি কাজ করেছেন , প্রকৃতির আলো ও বাতাসে নাচতে নাচতে বড় হয়েছেন এবং শতায়ু হয়েছেন , সেখানে এখন বাংলাদেশের নারীরা অতিরিক্ত বোরকা প্রীতির কারণে চল্লিশের পর থেকেই হাড় সহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন।বোরকা পরার কারণে নিজের অজান্তেই বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার মুখোমুখি হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন অনেকেই। আপনার শরীরে আলো ও বাতাস বন্ধ করে যারা বোরকা ও হিজাবের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলছেন, “ বোরকা ধর্ষণ কমায় ও বোরকা পরলে নারীরা নিরাপদ এবং নুনুভুতি খাড়াবে না! তাদের স্পষ্ট করে বলছি , “ ছোট বেলায় যখন নিজের মায়ের দুধ মুখে দিয়ে বড় হয়েছেন তখন কাম সুত্র জাগেনি? 
নিজেদের চরিত্র ঠিক করেন আগে। নৈতিকতাবোধ সম্পন্ন মানুষ হোন। পুরুষের যেমন শরীর আছে নারীদেরও শরীর আছে।এসব প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট হয়েছে। নিজেদের যৌন নীপিড়ক যন্ত্রকে ইসলামী পোশাক আখ্যা দিয়ে নারীদের উপর চাপিয়ে দিবেন না।এতে মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসে। কিন্তু সমাজ, সামাজিকতা ও ধর্মের ভয়ে নারীরা এসবের প্রতিবাদ করতে না পেরে ধুকে ধুকে মরছেন। ইরানের মতো দেশে নারীরা বোরকা পরতে না চাইলে মাত্র এক সাপ্তাহে ৯৬ জন নারীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। অন্যর পোশাককে নিজেদের ধর্মীয় পোশাক বলে মিথ্যা প্রচারণা এখনি বন্ধ করুন। পোশাক কখনোই মানুষের ধর্মীয় পরিচয় হয়নি, হতে পারে না। এসব ভণ্ডামি এখনি নিজ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে বন্ধ করুন। সত্য সবসময় সুন্দর ।