CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

এনসিপি কি বিএনপিতে বিলীন হয়ে যাবে?

#
news image

নবীন রাজনৈতিক দল এনসিপি বিএনপির জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় কনফার্ম । এমনকি বিএনপি কতটি আসন এনসিপিকে ছেড়ে দিবে তা নিয়েও মোটামুটি সমাঝোতা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে । অন্যদিকে প্রধান ইসলামিক দল জামায়াতের থেকে বেশি আসন পেয়েও নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে জামায়াতের চেয়ে বিএনপি বেশি ভূমিকা রাখবে বলে বিএনপির দিকেই ছুটছে বিপ্লবোত্তর দলটি ।
বিএনপি থেকে এনসিপি আসন চেয়েছে ৩০ টি । বিএনপি ঢাকার চারটি আসনসহ এনসিপিকে ১৫ টি আসন ছাড়তে ছেয়েছে । তবে বিএনপি শেষমেশ এনসিপিকে ২০ টি আসন ছাড়বে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে এমনটা শোনা যায় । অন্যদিকে এনসিপিও চাচ্ছে দরকষাকষি করে যদি ২৫ টি আসন নেয়া যায় ।
তবে এসব আসনে যে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না এমনটা নিশ্চয়তা নেই । বিএনপি কিছু আসনে নিশ্চয়তা দিতে পারলেও সব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকানোর সক্ষমতাও নেই । যেসব নেতাকর্মী দীর্ঘকাল আন্দোলন করেছে, বিগত রেজিমের অধিকাংশ সময় জেল-জুলুমে ছিল তারা খুব সহজেই মাঠ ছেড়ে দিবে ভাববার কারণ নেই। সে ক্ষেত্রে এনসিপি আদতে ১৫/২০ বা ২৫ যে কয়টি আসনই বিএনপি থেকে ছাড় পায় না কেনো তাদের জিতে আসা সহজ হবে না । এছাড়া এনসিপি বিএনপির আসন ছাড়ার পরেও আরো অন্তত ১০০ আসনে প্রার্থী দিবে বলে শোনা যায় । তারা ৫০/১০০ ভোট যাই পাক না কেনো । বিএনপিরও তাতে তেমন আপত্তি নাই ।
অন্যদিকে এনসিপি যদি জামাতের জোটে যায় সেক্ষেত্রে তাদের ডিমান্ড হচ্ছে ৫০ টি আসনে ছাড় । জামাত এনসিপিকে ২৫/৩০ টি আসন ছেড়ে দিত । এই জোটের সুবিধা ছিল যেসব আসন ছাড় দিবে সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকত না । তবে এনসিপি মনে করে, বিএনপি তাদের কয়েকটি আসনে বিজয় নিয়ে আসতে পারলেও জামাত সেটা পারবে না বা তাদের সে সক্ষমতা নেই । মূলত এনসিপি ভোটের মাঠে তাদের সক্ষমতা ও সাংগঠনিক অবস্থা জানে । তাদের দলের মূল যে ৪/৫ জনকে সংসদে যেতে হবে তাদের নির্বাচনী আসন নিয়ে চিন্তিত। কেননা সেসব নির্দিষ্ট আসনে জাময়াতের বিজয় ছিনিয়ে আনার সক্ষমতা নেই বলে মনে করে । তাই এসব আসনে আরো অধিক আস্থার জন্য বিএনপির দিকেই ঝুকছে এনসিপি । অন্তত এই ৪/৫ টি আসন তারা পাবে বলে তাদের বিশ্বাস । তবে এসব সবকিছুই দেখা যাবে ভোটের মাঠে । বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে পারে কিনা বা জামাতের প্রার্থী কতটা শক্তিশালী ।
এর বাইরেও নির্বাচনী মাঠে আরেকটি খেল সব সময় থাকে । বিশেষ করে ১৯৯১-২০০৮ নির্বাচনে দেখা গেছে মনোনয়ন না পেয়ে দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিজে বিদ্রোহী প্রার্থী না হলেও ভিন্ন দলের প্রার্থীকে নিজের সমর্থক গোষ্ঠীর সমর্থন । হয়ত এটা সবক্ষেত্রে দেখা যায় না কিন্তু ফলাফলে এমনটা হয়ে আসে ।
এনসিপিকে আবার জাতীয় পার্টির মত গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক হিসাব কষলেও হবে না । জাপাকে আম্লীগ আসন ছেড়ে দিত ২২-৩০ টি । এরপরেও বিনা ভোটের নির্বাচনে সব আসনে জাপা জিতে আসতে পারতো না । যেসব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকতো সেখানে কখনোই সম্ভব ছিল না । শুধুমাত্র আম্লীগের বিরোধীদল করার জন্য ফিক্সড যে কয়টি এমপি দরকার হত সে কয়টি ফিক্সড করে নিয়ে আসতো তারা । এরপরেও ২০১৮ নির্বাচনে জাপাকে আওমীলীগের ছেড়ে দেয়া আসন থেকে জাপাকে নির্বাচনের আগমুহূর্তে ২টি আসনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিতে দেখা গেছে । এরমধ্যে একজন সিটিং এমপি ছিলেন । আওমী বিদ্রোহীদের সঙ্গে অ-স্ত্রের সামনে রাতের আধারে টাকায় আসন ছেড়ে এলাকা ছেড়ে দেন তিনি ।
এনসিপি বিপ্লবে বিজয়ীদের দ্বারা সৃষ্টি একটি রাজনৈতিক দল । যাদের সম্মুখ সাড়ির নেতারাই হছিনাকে উৎখাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন । তাদের বিল্পবোত্তর সম্ভাবনা ছিল অপার । কিন্তু তাদের নেতাদের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে খুব দ্রুতই ছন্দপতন হয় । যে কারণে বিদ্যমান রাজনৈতিক দল বিএনপি-জামাতের বাইরে দেশের মানুষ ছত্রদের উপর সম্ভাবনা দেখলেও তা বেশিদিন টিকেনি । হয়ত এই বাস্তবতা ভেবেই এনসিপি টিকে থাকার লড়াই করছে । এখন দেখা যাক এই টিকে থাকার লড়াইয়ে আসলে এনসিপি বিএনপিতে বিলীন হয়ে যায় নাকি সাম্যবাদীর দিলিপ বড়ুয়া বা জেপির মঞ্জুর মত ওয়ান ম্যান পার্টি হয়ে টিকে থাকে ।

মুস্তাফিজুর রহমান

২৮ অক্টোবর, ২০২৫,  6:43 PM

news image

নবীন রাজনৈতিক দল এনসিপি বিএনপির জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় কনফার্ম । এমনকি বিএনপি কতটি আসন এনসিপিকে ছেড়ে দিবে তা নিয়েও মোটামুটি সমাঝোতা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে । অন্যদিকে প্রধান ইসলামিক দল জামায়াতের থেকে বেশি আসন পেয়েও নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে জামায়াতের চেয়ে বিএনপি বেশি ভূমিকা রাখবে বলে বিএনপির দিকেই ছুটছে বিপ্লবোত্তর দলটি ।
বিএনপি থেকে এনসিপি আসন চেয়েছে ৩০ টি । বিএনপি ঢাকার চারটি আসনসহ এনসিপিকে ১৫ টি আসন ছাড়তে ছেয়েছে । তবে বিএনপি শেষমেশ এনসিপিকে ২০ টি আসন ছাড়বে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে এমনটা শোনা যায় । অন্যদিকে এনসিপিও চাচ্ছে দরকষাকষি করে যদি ২৫ টি আসন নেয়া যায় ।
তবে এসব আসনে যে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না এমনটা নিশ্চয়তা নেই । বিএনপি কিছু আসনে নিশ্চয়তা দিতে পারলেও সব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকানোর সক্ষমতাও নেই । যেসব নেতাকর্মী দীর্ঘকাল আন্দোলন করেছে, বিগত রেজিমের অধিকাংশ সময় জেল-জুলুমে ছিল তারা খুব সহজেই মাঠ ছেড়ে দিবে ভাববার কারণ নেই। সে ক্ষেত্রে এনসিপি আদতে ১৫/২০ বা ২৫ যে কয়টি আসনই বিএনপি থেকে ছাড় পায় না কেনো তাদের জিতে আসা সহজ হবে না । এছাড়া এনসিপি বিএনপির আসন ছাড়ার পরেও আরো অন্তত ১০০ আসনে প্রার্থী দিবে বলে শোনা যায় । তারা ৫০/১০০ ভোট যাই পাক না কেনো । বিএনপিরও তাতে তেমন আপত্তি নাই ।
অন্যদিকে এনসিপি যদি জামাতের জোটে যায় সেক্ষেত্রে তাদের ডিমান্ড হচ্ছে ৫০ টি আসনে ছাড় । জামাত এনসিপিকে ২৫/৩০ টি আসন ছেড়ে দিত । এই জোটের সুবিধা ছিল যেসব আসন ছাড় দিবে সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকত না । তবে এনসিপি মনে করে, বিএনপি তাদের কয়েকটি আসনে বিজয় নিয়ে আসতে পারলেও জামাত সেটা পারবে না বা তাদের সে সক্ষমতা নেই । মূলত এনসিপি ভোটের মাঠে তাদের সক্ষমতা ও সাংগঠনিক অবস্থা জানে । তাদের দলের মূল যে ৪/৫ জনকে সংসদে যেতে হবে তাদের নির্বাচনী আসন নিয়ে চিন্তিত। কেননা সেসব নির্দিষ্ট আসনে জাময়াতের বিজয় ছিনিয়ে আনার সক্ষমতা নেই বলে মনে করে । তাই এসব আসনে আরো অধিক আস্থার জন্য বিএনপির দিকেই ঝুকছে এনসিপি । অন্তত এই ৪/৫ টি আসন তারা পাবে বলে তাদের বিশ্বাস । তবে এসব সবকিছুই দেখা যাবে ভোটের মাঠে । বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে পারে কিনা বা জামাতের প্রার্থী কতটা শক্তিশালী ।
এর বাইরেও নির্বাচনী মাঠে আরেকটি খেল সব সময় থাকে । বিশেষ করে ১৯৯১-২০০৮ নির্বাচনে দেখা গেছে মনোনয়ন না পেয়ে দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিজে বিদ্রোহী প্রার্থী না হলেও ভিন্ন দলের প্রার্থীকে নিজের সমর্থক গোষ্ঠীর সমর্থন । হয়ত এটা সবক্ষেত্রে দেখা যায় না কিন্তু ফলাফলে এমনটা হয়ে আসে ।
এনসিপিকে আবার জাতীয় পার্টির মত গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক হিসাব কষলেও হবে না । জাপাকে আম্লীগ আসন ছেড়ে দিত ২২-৩০ টি । এরপরেও বিনা ভোটের নির্বাচনে সব আসনে জাপা জিতে আসতে পারতো না । যেসব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকতো সেখানে কখনোই সম্ভব ছিল না । শুধুমাত্র আম্লীগের বিরোধীদল করার জন্য ফিক্সড যে কয়টি এমপি দরকার হত সে কয়টি ফিক্সড করে নিয়ে আসতো তারা । এরপরেও ২০১৮ নির্বাচনে জাপাকে আওমীলীগের ছেড়ে দেয়া আসন থেকে জাপাকে নির্বাচনের আগমুহূর্তে ২টি আসনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিতে দেখা গেছে । এরমধ্যে একজন সিটিং এমপি ছিলেন । আওমী বিদ্রোহীদের সঙ্গে অ-স্ত্রের সামনে রাতের আধারে টাকায় আসন ছেড়ে এলাকা ছেড়ে দেন তিনি ।
এনসিপি বিপ্লবে বিজয়ীদের দ্বারা সৃষ্টি একটি রাজনৈতিক দল । যাদের সম্মুখ সাড়ির নেতারাই হছিনাকে উৎখাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন । তাদের বিল্পবোত্তর সম্ভাবনা ছিল অপার । কিন্তু তাদের নেতাদের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে খুব দ্রুতই ছন্দপতন হয় । যে কারণে বিদ্যমান রাজনৈতিক দল বিএনপি-জামাতের বাইরে দেশের মানুষ ছত্রদের উপর সম্ভাবনা দেখলেও তা বেশিদিন টিকেনি । হয়ত এই বাস্তবতা ভেবেই এনসিপি টিকে থাকার লড়াই করছে । এখন দেখা যাক এই টিকে থাকার লড়াইয়ে আসলে এনসিপি বিএনপিতে বিলীন হয়ে যায় নাকি সাম্যবাদীর দিলিপ বড়ুয়া বা জেপির মঞ্জুর মত ওয়ান ম্যান পার্টি হয়ে টিকে থাকে ।