আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩১ অক্টোবর, ২০২৫, 5:58 PM
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র আগামী ১০ বছরের জন্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে একটি কাঠামোগত চুক্তি সই করেছে। বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিকে বিশেষজ্ঞরা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের দ্বিতীয় অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
হেগসেথ এক্সে জানান, নতুন চুক্তিটি সমন্বয়, তথ্য আদান-প্রদান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদারে ভূমিকা রাখবে।
চুক্তিটি এমন সময়ে হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং রুশ তেল ও অস্ত্র কেনার কারণে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ জরিমানা আরোপ করেছেন। এই শুল্ক সংকট মেটাতে দুই দেশ বর্তমানে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে।
রাজনাথ সিং এক্সে বলেন, এই চুক্তি আমাদের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সমন্বয়ের প্রতীক। এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন যুগের সূচনা করবে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আমাদের সম্পর্কের মূল স্তম্ভ হয়ে থাকবে। মুক্ত, উন্মুক্ত ও নিয়মভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিশ্চিতে আমাদের অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইউরেশিয়া গ্রুপের থিংক ট্যাংকের বিশ্লেষক প্রমিত পাল চৌধুরী জানান, চুক্তিটি মূলত জুলাই-আগস্ট মাসে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। তবে ট্রাম্পের পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত সমাধানে নিজের ভূমিকা নিয়ে করা মন্তব্যে ভারতের অসন্তোষের কারণে এটি বিলম্বিত হয়।
চৌধুরী বলেছেন, এই চুক্তি দুই দেশের সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমে আন্তসম্পর্ক বাড়াতে, ভারতকে উন্নত প্রযুক্তি পেতে এবং দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের যৌথ কাজ সহজ করতে সহায়তা করবে। তিন ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ক্রমেই প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রতিরক্ষা ইস্যু ছিল আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। ওই সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের কাছে বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করবে, যা এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান সরবরাহের পথ প্রশস্ত করতে পারে।
তবে এরপর থেকেই ভারতের রাশিয়ার ওপর জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা নির্ভরতা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। যদিও রাশিয়া এখনও ভারতের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো থেকে অস্ত্র ক্রয় কমছে। এর পেছনে কারণ হলো দিল্লি একদিকে আমদানিতে বৈচিত্র্য আনছে, অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে চাচ্ছে।
ভারত ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ক্রয় বাড়াতে আগ্রহী। নভেম্বরের মধ্যেই দুই দেশ একটি বহুল প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩১ অক্টোবর, ২০২৫, 5:58 PM
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র আগামী ১০ বছরের জন্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে একটি কাঠামোগত চুক্তি সই করেছে। বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিকে বিশেষজ্ঞরা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের দ্বিতীয় অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
হেগসেথ এক্সে জানান, নতুন চুক্তিটি সমন্বয়, তথ্য আদান-প্রদান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদারে ভূমিকা রাখবে।
চুক্তিটি এমন সময়ে হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং রুশ তেল ও অস্ত্র কেনার কারণে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ জরিমানা আরোপ করেছেন। এই শুল্ক সংকট মেটাতে দুই দেশ বর্তমানে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে।
রাজনাথ সিং এক্সে বলেন, এই চুক্তি আমাদের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সমন্বয়ের প্রতীক। এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন যুগের সূচনা করবে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আমাদের সম্পর্কের মূল স্তম্ভ হয়ে থাকবে। মুক্ত, উন্মুক্ত ও নিয়মভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিশ্চিতে আমাদের অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইউরেশিয়া গ্রুপের থিংক ট্যাংকের বিশ্লেষক প্রমিত পাল চৌধুরী জানান, চুক্তিটি মূলত জুলাই-আগস্ট মাসে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। তবে ট্রাম্পের পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত সমাধানে নিজের ভূমিকা নিয়ে করা মন্তব্যে ভারতের অসন্তোষের কারণে এটি বিলম্বিত হয়।
চৌধুরী বলেছেন, এই চুক্তি দুই দেশের সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমে আন্তসম্পর্ক বাড়াতে, ভারতকে উন্নত প্রযুক্তি পেতে এবং দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের যৌথ কাজ সহজ করতে সহায়তা করবে। তিন ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ক্রমেই প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রতিরক্ষা ইস্যু ছিল আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। ওই সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের কাছে বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করবে, যা এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান সরবরাহের পথ প্রশস্ত করতে পারে।
তবে এরপর থেকেই ভারতের রাশিয়ার ওপর জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা নির্ভরতা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। যদিও রাশিয়া এখনও ভারতের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো থেকে অস্ত্র ক্রয় কমছে। এর পেছনে কারণ হলো দিল্লি একদিকে আমদানিতে বৈচিত্র্য আনছে, অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে চাচ্ছে।
ভারত ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ক্রয় বাড়াতে আগ্রহী। নভেম্বরের মধ্যেই দুই দেশ একটি বহুল প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।