নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, 5:09 PM
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়গুলোকে কেন্দ্রস্থলে রেখে সমন্বিত ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। তিনি সতর্ক করে বলেন, "রাস্তা বা অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব হলেও একটি সুন্দরবন কিংবা একটি নদী নতুন করে সৃষ্টি করা যায় না।"
বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত “ওয়ান হেলথ কার্যক্রম: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কৌশল” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তাঁর বক্তব্যে পরিবেশ ও উন্নয়নের সম্পর্কের বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।
প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ মানুষ: তিনি মনে করিয়ে দেন যে মানুষ প্রকৃতির মালিক নয়, বরং এর অংশ। জলবায়ু পরিবর্তন ও মহামারি আমাদের বারবার প্রকৃতির গুরুত্ব মনে করিয়ে দিচ্ছে।
বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা: ওয়ান হেলথ কার্যক্রম বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াভিত্তিক জটিলতা, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ঘাটতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতাকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।
কমিটি ও ফোকাল পয়েন্ট: এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে কার্যকর পরামর্শক কমিটি গঠন এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে সুস্পষ্ট ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
প্রকল্পের গতি বৃদ্ধি: জনবল বৃদ্ধি এবং অনলাইন প্রক্রিয়ার সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াতেই অনেক প্রকল্পের দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়ে যায়, যা থেকে উত্তরণ জরুরি।
সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ: উপদেষ্টা বলেন, "বন্যপ্রাণী রক্ষা এবং প্রকৃতিনির্ভর উন্নয়ন কেন প্রয়োজন, তা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে স্পষ্ট করতে হবে। সামাজিক মূল্যবোধ ছাড়া কোনো উন্নয়নই টেকসই হয় না।"
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার আহ্বান
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, জনস্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে একটি সাধারণ লক্ষ্য নিয়ে একসাথে কাজ করতে হবে।
সেমিনারে অন্যান্য বক্তা
সেমিনারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমানসহ পরিবেশ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আইইডিসিআর-এর পরিচালক এবং বন অধিদপ্তরের উপপ্রধান বন সংরক্ষক তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।
মুক্ত আলোচনা পর্বে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা 'ওয়ান হেলথ' ফ্রেমওয়ার্কের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, 5:09 PM
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়গুলোকে কেন্দ্রস্থলে রেখে সমন্বিত ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। তিনি সতর্ক করে বলেন, "রাস্তা বা অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব হলেও একটি সুন্দরবন কিংবা একটি নদী নতুন করে সৃষ্টি করা যায় না।"
বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত “ওয়ান হেলথ কার্যক্রম: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কৌশল” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তাঁর বক্তব্যে পরিবেশ ও উন্নয়নের সম্পর্কের বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।
প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ মানুষ: তিনি মনে করিয়ে দেন যে মানুষ প্রকৃতির মালিক নয়, বরং এর অংশ। জলবায়ু পরিবর্তন ও মহামারি আমাদের বারবার প্রকৃতির গুরুত্ব মনে করিয়ে দিচ্ছে।
বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা: ওয়ান হেলথ কার্যক্রম বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াভিত্তিক জটিলতা, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ঘাটতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতাকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।
কমিটি ও ফোকাল পয়েন্ট: এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে কার্যকর পরামর্শক কমিটি গঠন এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে সুস্পষ্ট ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
প্রকল্পের গতি বৃদ্ধি: জনবল বৃদ্ধি এবং অনলাইন প্রক্রিয়ার সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াতেই অনেক প্রকল্পের দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়ে যায়, যা থেকে উত্তরণ জরুরি।
সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ: উপদেষ্টা বলেন, "বন্যপ্রাণী রক্ষা এবং প্রকৃতিনির্ভর উন্নয়ন কেন প্রয়োজন, তা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে স্পষ্ট করতে হবে। সামাজিক মূল্যবোধ ছাড়া কোনো উন্নয়নই টেকসই হয় না।"
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার আহ্বান
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, জনস্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে একটি সাধারণ লক্ষ্য নিয়ে একসাথে কাজ করতে হবে।
সেমিনারে অন্যান্য বক্তা
সেমিনারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমানসহ পরিবেশ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আইইডিসিআর-এর পরিচালক এবং বন অধিদপ্তরের উপপ্রধান বন সংরক্ষক তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।
মুক্ত আলোচনা পর্বে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা 'ওয়ান হেলথ' ফ্রেমওয়ার্কের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।