ধর্ম ডেস্ক
২২ ডিসেম্বর, ২০২৫, 4:38 PM
একজন বন্ধুই মানুষের ভালো হওয়া ও খারাপ হওয়ার মূল চালিকাশক্তি। এটি শুধু মুখের কথা নয়, বরং বাস্তবতা। এ দাবিটি আরও জোরালো হওয়ার প্রমাণ হলো ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’ প্রবাদটি। এ বাণীটি মানুষের জীবনধারায় ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। কারণ মানবসমাজে বসবাস করার জন্য বন্ধুর প্রয়োজন। এটি প্রাত্যহিক জীবনে মানবকুলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা.)-ও বন্ধু গ্রহণ করেছিলেন এবং স্বীয় উম্মতকেও সৎ ও নিষ্ঠাবান বন্ধু গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। আর অসৎ বন্ধু গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তিনি। এ ছাড়া পাপিষ্ঠ ও ভ্রষ্ট নেতার সঙ্গ পরিহার করার জন্যও আদেশ করেছেন রাসুল (সা.)।
কেয়ামত দিবসে অসৎ সঙ্গী ও ভ্রষ্ট নেতারা কোনো কাজে আসবে না। কেয়ামতের দিন তারা কোথাও পালানোর জায়গা পাবে না। এমনকি তারা স্বয়ং কাউকে সহযোগিতা করতে পারবে না এবং অন্য কোনো সঙ্গী দ্বারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না। কোনো শক্তিই অসৎ বন্ধু ও ভ্রষ্ট নেতাদের রক্ষা করতে পারবে না। সেই দিন তাদের বন্ধুরাও তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলবে। কেয়ামত দিবসে বন্ধুগণ বন্ধুদের পারস্পরিক বন্ধন উপেক্ষা করে চলবে।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, এক বন্ধু অপর বন্ধু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে না। অথচ তাদের সঙ্গে পরস্পর দেখা হচ্ছে (সুরা মাআরিজ : ১০-১১)।
তবে কেয়ামত দিবসে সৎ বন্ধুরা সঙ্গীহীন হয়ে পড়বে না। সৎ বন্ধুদের বন্ধন পরকালেও চির অটুট থাকবে। তাদের এ পবিত্র বন্ধন পরকালে জান্নাত লাভের অন্যতম পাথেয় হিসেবে ভূমিকা রাখবে। দুনিয়ায় আল্লাহভীরু ও সৎ বন্ধু গ্রহণের মহা পুরস্কার হলো পরকালেও তাদের হৃদ্যতার বন্ধন টিকে থাকা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ওই দিন এক বন্ধু অন্য বন্ধুর শত্রু হয়ে যাবে। তবে নেককারদের বন্ধুত্ব বলবৎ থাকবে (সুরা যুখরুফ : ৬৭)।
অধুনা পৃথিবীতে অনেক মুসলিম ভ্রষ্ট নেতারা নিজের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার লক্ষ্যে ইহুদি-খ্রিস্টানদের সহযোগিতায় ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে চলছে। ভ্রষ্ট নেতারা ক্ষমতার লোভে জালেম শাসকদের পক্ষে গর্জন দিচ্ছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্বদেশের ও স্বজাতির অধিকার হরণ করছে। কতিপয় মুসলিম ভ্রষ্ট নেতারা জালেম শাসকের পক্ষ অবলম্বন করে মুসলিম উম্মাহকে হত্যা, নির্যাতনসহ সমূহ ক্ষতি করে চলছে।
অথচ কেয়ামত দিবসে পৃথিবীর জালেম শাসকরা তাদের অনুসারীদের সাহায্য করবে না এবং সাহায্য করার ক্ষমতাও রাখবে না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, যখন নেতারা অনুসরণকারীদের থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়ে যাবে এবং তারা আজাব দেখবে ও তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। (সুরা বাকারা : ১৬৬)।
হাশরের ময়দানে জালেম, নাস্তিক, মুরতাদদের অনুসারীরা আফসোস করে বলবে, কেন আমরা ভ্রষ্ট নেতাদের অনুসরণ করেছি। আজ সমুদয় সাহায্য থেকে বঞ্চিত। এমনকি সেদিন অনুসারীরা ভ্রষ্ট নেতাদের প্রতি রাগান্বিত হয়ে যাবে। মহা প্রলয়ের দিন এই ভ্রান্ত অনুসারীদের আফসোস ছাড়া আর অবশিষ্ট কিছুই থাকবে না। এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা বলেন, অনুসারীরা বলবে হায় কতই না ভালো হতো যদি আমাদের দুনিয়াতে পুনরায় পাঠানো হতো। তা হলে আমরা তাদের থেকে বিমুখতা প্রমাণ করতাম যেরূপ আজ তারা আমাদের থেকে বিমুখতা প্রকাশ করেছে। মহান আল্লাহ এরূপভাবেই তাদের কৃতকর্মকে অনুতপ্ত হওয়ার জন্য দেখাবেন। আর তারা কখনো জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি পাবে না। (সুরা বাকারা : ১৬৭)
সাধারণত সঙ্গ থেকে সঙ্গী সৃষ্টি হয়। তাই সঙ্গ দেওয়ার আগে কাক্সিক্ষত ব্যক্তির স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত। নবীজি (সা.) সৎ বন্ধুকে আতর বহনকারীর সঙ্গে আর অসৎ বন্ধুকে কামারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। যাতে মুসলিম উম্মাহ সঙ্গী নির্বাচনে ভালো-মন্দ যাচাই-বাছাই করতে সহজ হয়। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, সৎ বন্ধু ও অসৎ বন্ধুর দৃষ্টান্ত- একজন আতর বহনকারী ও একজন কামারের মতো। আতর বহনকারী সে হয় তোমাকে আতর দেবে, অথবা তুমি তার থেকে খরিদ করবে অথবা কমপক্ষে তুমি তার থেকে সুঘ্রাণ পাবে। আর কামার সে হয় তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে অথবা তুমি তার থেকে দুর্গন্ধ অনুভব করবে (মুসলিম : ৬৮৬০)।
সুতরাং কেয়ামতের দিন নিজ মুক্তির জন্য আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও ধন-সম্পদ ইত্যাদি কোনো কাজে আসবে না। অপরাধীকে অবশ্যই আজাব ভোগ করতেই হবে। তাই আল্লাহ তায়ালা সবাইকে অসৎ বন্ধু গ্রহণ ও ভ্রষ্ট নেতার অনুসরণ থেকে হেফাজত করুন।
ধর্ম ডেস্ক
২২ ডিসেম্বর, ২০২৫, 4:38 PM
একজন বন্ধুই মানুষের ভালো হওয়া ও খারাপ হওয়ার মূল চালিকাশক্তি। এটি শুধু মুখের কথা নয়, বরং বাস্তবতা। এ দাবিটি আরও জোরালো হওয়ার প্রমাণ হলো ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’ প্রবাদটি। এ বাণীটি মানুষের জীবনধারায় ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। কারণ মানবসমাজে বসবাস করার জন্য বন্ধুর প্রয়োজন। এটি প্রাত্যহিক জীবনে মানবকুলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা.)-ও বন্ধু গ্রহণ করেছিলেন এবং স্বীয় উম্মতকেও সৎ ও নিষ্ঠাবান বন্ধু গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। আর অসৎ বন্ধু গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তিনি। এ ছাড়া পাপিষ্ঠ ও ভ্রষ্ট নেতার সঙ্গ পরিহার করার জন্যও আদেশ করেছেন রাসুল (সা.)।
কেয়ামত দিবসে অসৎ সঙ্গী ও ভ্রষ্ট নেতারা কোনো কাজে আসবে না। কেয়ামতের দিন তারা কোথাও পালানোর জায়গা পাবে না। এমনকি তারা স্বয়ং কাউকে সহযোগিতা করতে পারবে না এবং অন্য কোনো সঙ্গী দ্বারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না। কোনো শক্তিই অসৎ বন্ধু ও ভ্রষ্ট নেতাদের রক্ষা করতে পারবে না। সেই দিন তাদের বন্ধুরাও তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলবে। কেয়ামত দিবসে বন্ধুগণ বন্ধুদের পারস্পরিক বন্ধন উপেক্ষা করে চলবে।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, এক বন্ধু অপর বন্ধু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে না। অথচ তাদের সঙ্গে পরস্পর দেখা হচ্ছে (সুরা মাআরিজ : ১০-১১)।
তবে কেয়ামত দিবসে সৎ বন্ধুরা সঙ্গীহীন হয়ে পড়বে না। সৎ বন্ধুদের বন্ধন পরকালেও চির অটুট থাকবে। তাদের এ পবিত্র বন্ধন পরকালে জান্নাত লাভের অন্যতম পাথেয় হিসেবে ভূমিকা রাখবে। দুনিয়ায় আল্লাহভীরু ও সৎ বন্ধু গ্রহণের মহা পুরস্কার হলো পরকালেও তাদের হৃদ্যতার বন্ধন টিকে থাকা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ওই দিন এক বন্ধু অন্য বন্ধুর শত্রু হয়ে যাবে। তবে নেককারদের বন্ধুত্ব বলবৎ থাকবে (সুরা যুখরুফ : ৬৭)।
অধুনা পৃথিবীতে অনেক মুসলিম ভ্রষ্ট নেতারা নিজের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার লক্ষ্যে ইহুদি-খ্রিস্টানদের সহযোগিতায় ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে চলছে। ভ্রষ্ট নেতারা ক্ষমতার লোভে জালেম শাসকদের পক্ষে গর্জন দিচ্ছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্বদেশের ও স্বজাতির অধিকার হরণ করছে। কতিপয় মুসলিম ভ্রষ্ট নেতারা জালেম শাসকের পক্ষ অবলম্বন করে মুসলিম উম্মাহকে হত্যা, নির্যাতনসহ সমূহ ক্ষতি করে চলছে।
অথচ কেয়ামত দিবসে পৃথিবীর জালেম শাসকরা তাদের অনুসারীদের সাহায্য করবে না এবং সাহায্য করার ক্ষমতাও রাখবে না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, যখন নেতারা অনুসরণকারীদের থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়ে যাবে এবং তারা আজাব দেখবে ও তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। (সুরা বাকারা : ১৬৬)।
হাশরের ময়দানে জালেম, নাস্তিক, মুরতাদদের অনুসারীরা আফসোস করে বলবে, কেন আমরা ভ্রষ্ট নেতাদের অনুসরণ করেছি। আজ সমুদয় সাহায্য থেকে বঞ্চিত। এমনকি সেদিন অনুসারীরা ভ্রষ্ট নেতাদের প্রতি রাগান্বিত হয়ে যাবে। মহা প্রলয়ের দিন এই ভ্রান্ত অনুসারীদের আফসোস ছাড়া আর অবশিষ্ট কিছুই থাকবে না। এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা বলেন, অনুসারীরা বলবে হায় কতই না ভালো হতো যদি আমাদের দুনিয়াতে পুনরায় পাঠানো হতো। তা হলে আমরা তাদের থেকে বিমুখতা প্রমাণ করতাম যেরূপ আজ তারা আমাদের থেকে বিমুখতা প্রকাশ করেছে। মহান আল্লাহ এরূপভাবেই তাদের কৃতকর্মকে অনুতপ্ত হওয়ার জন্য দেখাবেন। আর তারা কখনো জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি পাবে না। (সুরা বাকারা : ১৬৭)
সাধারণত সঙ্গ থেকে সঙ্গী সৃষ্টি হয়। তাই সঙ্গ দেওয়ার আগে কাক্সিক্ষত ব্যক্তির স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত। নবীজি (সা.) সৎ বন্ধুকে আতর বহনকারীর সঙ্গে আর অসৎ বন্ধুকে কামারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। যাতে মুসলিম উম্মাহ সঙ্গী নির্বাচনে ভালো-মন্দ যাচাই-বাছাই করতে সহজ হয়। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, সৎ বন্ধু ও অসৎ বন্ধুর দৃষ্টান্ত- একজন আতর বহনকারী ও একজন কামারের মতো। আতর বহনকারী সে হয় তোমাকে আতর দেবে, অথবা তুমি তার থেকে খরিদ করবে অথবা কমপক্ষে তুমি তার থেকে সুঘ্রাণ পাবে। আর কামার সে হয় তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে অথবা তুমি তার থেকে দুর্গন্ধ অনুভব করবে (মুসলিম : ৬৮৬০)।
সুতরাং কেয়ামতের দিন নিজ মুক্তির জন্য আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও ধন-সম্পদ ইত্যাদি কোনো কাজে আসবে না। অপরাধীকে অবশ্যই আজাব ভোগ করতেই হবে। তাই আল্লাহ তায়ালা সবাইকে অসৎ বন্ধু গ্রহণ ও ভ্রষ্ট নেতার অনুসরণ থেকে হেফাজত করুন।