CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০২ জানুয়ারি, ২০২৬

ফরজে আইন ইলম অর্জনের নির্দেশনা

#
news image

পার্থিব জীবন আল্লাহর নির্দেশনা মোতাবেক পরিচালনা করার জন্য প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক। হাদিসে এসেছে, ‘প্রতিটি মুসলমানের ওপর ইলম শিক্ষা করা ফরজ’ (ইবনে মাজাহ : ২২৪)। প্রতিটি নর-নারীর ওপর জরুরি দ্বীনি ইলম শিক্ষা করা ফরজ। এর মধ্যে রয়েছে ওজু, গোসল, নামাজ-রোজার ইলম। যার নেসাব পরিমাণ মাল আছে তার জন্য জাকাতের ইলম শিক্ষা করাও ফরজ। 
যার ওপর হজ ফরজ তার হজের বিধানাবলি জানা ফরজ। ব্যবসায়ীর জন্য ব্যবসা-সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। যেন লেনদেনে নিষিদ্ধ ও হারাম বিষয় থেকে বেঁচে থাকতে পারে। এমনিভাবে প্রতিটি পেশাজীবীর জন্য তার পেশা-সংক্রান্ত শরয়ি ইলম শিক্ষা করা ফরজ।
ইসলামের মৌলিক পাঁচ স্তম্ভের ইলম অর্জন করা, ইখলাস সংক্রান্ত ইলম অর্জন করাও ফরজ। কারণ ইখলাসের ওপর আমল কবুল হওয়া নির্ভরশীল। হালাল ও হারাম সংক্রান্ত ইলম, লৌকিকতা তথা রিয়া সম্পর্কে জানাও জরুরি। কারণ রিয়ার কারণে মানুষ আমলের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়। হিংসা ও অহংকার সংক্রান্ত বিধিবিধান জানাও আবশ্যক। কারণ এ দুটি আমলকে ধ্বংস করে দেয়, যেমন আগুন কাষ্ঠখণ্ড পুড়িয়ে দেয়। যে ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয় বা বিয়েশাদি করতে চায়, তার জন্য ক্রয়-বিক্রয় ও বিয়ে সংক্রান্ত হুকুম জানাও ফরজ।
হারাম ও কুফরি বাক্যাবলি সম্পর্কিত ইলম থাকাও ফরজ। ইমাম ইবনে আবেদিন শামি (রহ.) বলেন, আমার জীবনের কসম! হারাম ও কুফরি বাক্য সম্পর্কিত ইলম বর্তমান সময়ের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি। কারণ অনেক মানুষ কুফরি কথা বলে তাদের অজ্ঞাতেই। এ কারণেই জাহেল লোকদের জন্য প্রতিদিন তার ঈমানকে নবায়ন করা উচিত। আর দুজন সাক্ষীর সামনে প্রতি দুয়েক মাস অন্তর অন্তর বিয়ে দোহরিয়ে নেওয়া উচিত। এমন কুফরি বক্তব্য পুরুষদের থেকে কম হলেও নারীদের থেকে অনেক হয়ে থাকে। (ফাতাওয়া শামি : ১/১২৬)
ইমাম গাজালি (রহ.) বলেন, তিন প্রকার ইলম শিক্ষা করা ফরজ- ১. ইলমুত তাওহিদ। ২. ইলমুস সির এবং ৩. ইলমুস শরিয়াহ। অর্থাৎ এতটুকু জ্ঞান রাখা তওহিদ সম্পর্কে, যা দ্বীনের মূলের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে এ জ্ঞান রাখা যে, তিনি জীবিত, সব কিছুর ওপর ক্ষমতাশালী, সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী, তাঁর কোনো শরিক নেই, সব গুণে গুণান্বিত, মাখলুকের সিফাত থেকে পবিত্র। হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল। 
দ্বিতীয় বিষয়, ইলমুস সির দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে- অন্তরকে নিষিদ্ধ বিষয় থেকে পবিত্র করা এবং কাম্য বস্তু দিয়ে ভরপুর করা। ইখলাস, নিয়ত, আমলের হেফাজত ইত্যাদি। আর ইলমুস শরিয়াহ বলতে উদ্দেশ্য হলো- ব্যক্তির জন্য যা কিছু আদায় করা ফরজ সে সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাও ফরজ। (মিনহাজুল আবেদিন ইলা জান্নাতি রাব্বিল আলামিন, ইমাম গাজালি : ৪৮-৪৯)
অতএব আমাদের পার্থিব জীবনকে সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও শরিয়তসম্মতভাবে পরিচালনার ফরজ পরিমাণ জ্ঞানার্জন করতে ও শিখতে হবে এবং সে অনুযায়ী আমল করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে ফরজ পরিমাণ জ্ঞানার্জন করে আমল করার তওফিক দান করুন।

 

ধর্ম ডেস্ক 

২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫,  5:49 PM

news image

পার্থিব জীবন আল্লাহর নির্দেশনা মোতাবেক পরিচালনা করার জন্য প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক। হাদিসে এসেছে, ‘প্রতিটি মুসলমানের ওপর ইলম শিক্ষা করা ফরজ’ (ইবনে মাজাহ : ২২৪)। প্রতিটি নর-নারীর ওপর জরুরি দ্বীনি ইলম শিক্ষা করা ফরজ। এর মধ্যে রয়েছে ওজু, গোসল, নামাজ-রোজার ইলম। যার নেসাব পরিমাণ মাল আছে তার জন্য জাকাতের ইলম শিক্ষা করাও ফরজ। 
যার ওপর হজ ফরজ তার হজের বিধানাবলি জানা ফরজ। ব্যবসায়ীর জন্য ব্যবসা-সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। যেন লেনদেনে নিষিদ্ধ ও হারাম বিষয় থেকে বেঁচে থাকতে পারে। এমনিভাবে প্রতিটি পেশাজীবীর জন্য তার পেশা-সংক্রান্ত শরয়ি ইলম শিক্ষা করা ফরজ।
ইসলামের মৌলিক পাঁচ স্তম্ভের ইলম অর্জন করা, ইখলাস সংক্রান্ত ইলম অর্জন করাও ফরজ। কারণ ইখলাসের ওপর আমল কবুল হওয়া নির্ভরশীল। হালাল ও হারাম সংক্রান্ত ইলম, লৌকিকতা তথা রিয়া সম্পর্কে জানাও জরুরি। কারণ রিয়ার কারণে মানুষ আমলের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়। হিংসা ও অহংকার সংক্রান্ত বিধিবিধান জানাও আবশ্যক। কারণ এ দুটি আমলকে ধ্বংস করে দেয়, যেমন আগুন কাষ্ঠখণ্ড পুড়িয়ে দেয়। যে ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয় বা বিয়েশাদি করতে চায়, তার জন্য ক্রয়-বিক্রয় ও বিয়ে সংক্রান্ত হুকুম জানাও ফরজ।
হারাম ও কুফরি বাক্যাবলি সম্পর্কিত ইলম থাকাও ফরজ। ইমাম ইবনে আবেদিন শামি (রহ.) বলেন, আমার জীবনের কসম! হারাম ও কুফরি বাক্য সম্পর্কিত ইলম বর্তমান সময়ের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি। কারণ অনেক মানুষ কুফরি কথা বলে তাদের অজ্ঞাতেই। এ কারণেই জাহেল লোকদের জন্য প্রতিদিন তার ঈমানকে নবায়ন করা উচিত। আর দুজন সাক্ষীর সামনে প্রতি দুয়েক মাস অন্তর অন্তর বিয়ে দোহরিয়ে নেওয়া উচিত। এমন কুফরি বক্তব্য পুরুষদের থেকে কম হলেও নারীদের থেকে অনেক হয়ে থাকে। (ফাতাওয়া শামি : ১/১২৬)
ইমাম গাজালি (রহ.) বলেন, তিন প্রকার ইলম শিক্ষা করা ফরজ- ১. ইলমুত তাওহিদ। ২. ইলমুস সির এবং ৩. ইলমুস শরিয়াহ। অর্থাৎ এতটুকু জ্ঞান রাখা তওহিদ সম্পর্কে, যা দ্বীনের মূলের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে এ জ্ঞান রাখা যে, তিনি জীবিত, সব কিছুর ওপর ক্ষমতাশালী, সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী, তাঁর কোনো শরিক নেই, সব গুণে গুণান্বিত, মাখলুকের সিফাত থেকে পবিত্র। হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল। 
দ্বিতীয় বিষয়, ইলমুস সির দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে- অন্তরকে নিষিদ্ধ বিষয় থেকে পবিত্র করা এবং কাম্য বস্তু দিয়ে ভরপুর করা। ইখলাস, নিয়ত, আমলের হেফাজত ইত্যাদি। আর ইলমুস শরিয়াহ বলতে উদ্দেশ্য হলো- ব্যক্তির জন্য যা কিছু আদায় করা ফরজ সে সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাও ফরজ। (মিনহাজুল আবেদিন ইলা জান্নাতি রাব্বিল আলামিন, ইমাম গাজালি : ৪৮-৪৯)
অতএব আমাদের পার্থিব জীবনকে সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও শরিয়তসম্মতভাবে পরিচালনার ফরজ পরিমাণ জ্ঞানার্জন করতে ও শিখতে হবে এবং সে অনুযায়ী আমল করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে ফরজ পরিমাণ জ্ঞানার্জন করে আমল করার তওফিক দান করুন।