ইউসুফ আলী বাচ্চু
২১ অক্টোবর, ২০২৫, 4:09 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ততই শঙ্কা, হতাশা এবং ষড়যন্ত্রের আভাস নিয়ে নানান ধরনের কঠোর ও বিপরীতমুখী বক্তব্য শোনা যাচ্ছে। সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির দাবি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে অভিযোগ এবং সরকার ও বিরোধী দলের পরস্পরবিরোধী মন্তব্য সব মিলিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন জটিলতা তৈরি করেছে।
পিআর পদ্ধতি ও গণভোটের দাবিতে জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনের কর্মসূচি: জামায়াতে ইসলামী, চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনসহ সাত দল পিআর পদ্ধতির বিধান জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত করে নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে নতুন করে মাঠে নেমেছে।
কর্মসূচি: ১৪ অক্টোবর রাজধানী ঢাকা জুড়ে এবং ১৫ অক্টোবর দেশের সব জেলা শহরে মানববন্ধন করা হয়। ঢাকা মহানগর জামায়াত যাত্রাবাড়ী থেকে গাবতলী পর্যন্ত মানববন্ধন করে।
ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান অভিযোগ করেছেন, গণমিছিল ও স্মারকলিপি দেওয়ার পরও সরকার পাঁচ দফা দাবি নিয়ে সংবেদনশীলতা দেখাচ্ছে না। অন্যদিকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জনগণ রাজপথ ছাড়বে না।
পিআর পদ্ধতির দাবির ফয়সালা হওয়ার আগেই জামায়াত ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিয়ে নতুন করে আওয়াজ তুলেছে।
জামায়াতের অভিযোগ: সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে এখন পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি এবং এর জন্য তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদেরও দায়ী করেছেন।
সিইসি’র আশ্বাস: এর বিপরীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন স্বচ্ছ নির্বাচনের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, “আমরা একটি স্বচ্ছ নির্বাচন করতে চাই, রাতের অন্ধকারে গোপন কোনো নির্বাচন দিতে চাই না। আমরা ভোটারদের জন্য এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই, যাতে প্রতিটি বাংলাদেশি ভোট দিতে পারে।”
পরস্পরবিরোধী বক্তব্য: সন্দেহ ও ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের শক্ত অবস্থানের মধ্যেও প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের মন্তব্যে সন্দেহ ও ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে:
মির্জা ফখরুলের আশঙ্কা: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, “সংস্কার কমিশন নয়, বরং দুয়েকটি রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতির কথা বলে আন্দোলন করে নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে।”
রেজাউল করীমের পালটা অভিযোগ: অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপিকে চুপিসারে ক্ষমতায় আনতে চায়।
জাতীয় পার্টির সংশয়: জাতীয় পার্টির (জাপা) একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কথা বললেও দেশের সাধারণ মানুষ তা বিশ্বাস করছে না।
এনসিপি’র অভিযোগ: আলোচনার ঝড় তুলে এনসিপি’র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন অভিযোগ করেছেন, “এ ইন্টেরিম গভর্নমেন্টও আজ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেছে।”
গোপন বৈঠক ও আধিপত্য বিস্তারের শঙ্কা
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের মন্তব্যে ভেতরে ভেতরে রাজনৈতিক তোলপাড়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে:
গোপন মিটিং: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, “কউ জানে না, এমনও অনেক মিটিং হচ্ছে।”
বৈশ্বিক শক্তির আধিপত্য: স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ এক বিস্ফোরক মন্তব্যে বলেছেন, “পৃথিবীর তিনটি শক্তি, দুটি আঞ্চলিক ও একটি বৈশ্বিক শক্তি, এ অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। কিন্তু এদের প্রত্যেকের দ্বারাই আমাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
বিএনপি’র নীরবতা ও মাঠের নতুন আওয়াজ:
অন্তর্বর্তী সরকার যখন বলছে নির্বাচন কেউ ঠেকাতে পারবে না, তখন প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি’র চুপচাপ বসে থাকা এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের কোনো নড়াচড়া না থাকা অনেককে ভাবাচ্ছে। মাঠে এখন জোরেসোরে আওয়াজ তোলা হচ্ছে: ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।’ ‘লেবেল প্লেয়িং তৈরি করে সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সামনে শক্ত কোনো পদক্ষেপ আসছে?’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এসব প্রশ্ন কেবল কথার কথা নয়। তবে এর উত্তর পেতে আরও কিছুদিন অপেক্ষায় থাকতে হবে। এখন দেখা যাক শেষ পর্যন্ত মাঠের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকে।
ইউসুফ আলী বাচ্চু
২১ অক্টোবর, ২০২৫, 4:09 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ততই শঙ্কা, হতাশা এবং ষড়যন্ত্রের আভাস নিয়ে নানান ধরনের কঠোর ও বিপরীতমুখী বক্তব্য শোনা যাচ্ছে। সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির দাবি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে অভিযোগ এবং সরকার ও বিরোধী দলের পরস্পরবিরোধী মন্তব্য সব মিলিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন জটিলতা তৈরি করেছে।
পিআর পদ্ধতি ও গণভোটের দাবিতে জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনের কর্মসূচি: জামায়াতে ইসলামী, চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনসহ সাত দল পিআর পদ্ধতির বিধান জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত করে নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে নতুন করে মাঠে নেমেছে।
কর্মসূচি: ১৪ অক্টোবর রাজধানী ঢাকা জুড়ে এবং ১৫ অক্টোবর দেশের সব জেলা শহরে মানববন্ধন করা হয়। ঢাকা মহানগর জামায়াত যাত্রাবাড়ী থেকে গাবতলী পর্যন্ত মানববন্ধন করে।
ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান অভিযোগ করেছেন, গণমিছিল ও স্মারকলিপি দেওয়ার পরও সরকার পাঁচ দফা দাবি নিয়ে সংবেদনশীলতা দেখাচ্ছে না। অন্যদিকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জনগণ রাজপথ ছাড়বে না।
পিআর পদ্ধতির দাবির ফয়সালা হওয়ার আগেই জামায়াত ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিয়ে নতুন করে আওয়াজ তুলেছে।
জামায়াতের অভিযোগ: সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে এখন পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি এবং এর জন্য তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদেরও দায়ী করেছেন।
সিইসি’র আশ্বাস: এর বিপরীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন স্বচ্ছ নির্বাচনের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, “আমরা একটি স্বচ্ছ নির্বাচন করতে চাই, রাতের অন্ধকারে গোপন কোনো নির্বাচন দিতে চাই না। আমরা ভোটারদের জন্য এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই, যাতে প্রতিটি বাংলাদেশি ভোট দিতে পারে।”
পরস্পরবিরোধী বক্তব্য: সন্দেহ ও ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের শক্ত অবস্থানের মধ্যেও প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের মন্তব্যে সন্দেহ ও ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে:
মির্জা ফখরুলের আশঙ্কা: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, “সংস্কার কমিশন নয়, বরং দুয়েকটি রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতির কথা বলে আন্দোলন করে নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে।”
রেজাউল করীমের পালটা অভিযোগ: অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপিকে চুপিসারে ক্ষমতায় আনতে চায়।
জাতীয় পার্টির সংশয়: জাতীয় পার্টির (জাপা) একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কথা বললেও দেশের সাধারণ মানুষ তা বিশ্বাস করছে না।
এনসিপি’র অভিযোগ: আলোচনার ঝড় তুলে এনসিপি’র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন অভিযোগ করেছেন, “এ ইন্টেরিম গভর্নমেন্টও আজ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেছে।”
গোপন বৈঠক ও আধিপত্য বিস্তারের শঙ্কা
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের মন্তব্যে ভেতরে ভেতরে রাজনৈতিক তোলপাড়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে:
গোপন মিটিং: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, “কউ জানে না, এমনও অনেক মিটিং হচ্ছে।”
বৈশ্বিক শক্তির আধিপত্য: স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ এক বিস্ফোরক মন্তব্যে বলেছেন, “পৃথিবীর তিনটি শক্তি, দুটি আঞ্চলিক ও একটি বৈশ্বিক শক্তি, এ অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। কিন্তু এদের প্রত্যেকের দ্বারাই আমাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
বিএনপি’র নীরবতা ও মাঠের নতুন আওয়াজ:
অন্তর্বর্তী সরকার যখন বলছে নির্বাচন কেউ ঠেকাতে পারবে না, তখন প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি’র চুপচাপ বসে থাকা এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের কোনো নড়াচড়া না থাকা অনেককে ভাবাচ্ছে। মাঠে এখন জোরেসোরে আওয়াজ তোলা হচ্ছে: ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।’ ‘লেবেল প্লেয়িং তৈরি করে সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সামনে শক্ত কোনো পদক্ষেপ আসছে?’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এসব প্রশ্ন কেবল কথার কথা নয়। তবে এর উত্তর পেতে আরও কিছুদিন অপেক্ষায় থাকতে হবে। এখন দেখা যাক শেষ পর্যন্ত মাঠের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকে।