ধর্ম ডেস্ক
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, 5:57 PM
জীবনকে সুন্দর ও গতিশীল করতে হলে ভারসাম্য রক্ষা করা খুব জরুরি। ইসলাম মানুষকে এ কথাই বলে। কোনো বিষয়ে বাড়াবাড়ি বা ছাড়াছাড়ির স্থান ইসলামে নেই। ইসলাম গুরুত্ব দেয় বাড়াবাড়ি এবং ছাড়াছাড়ির মাঝে মধ্যমপন্থাকে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের মধ্যপন্থি জাতি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং সব ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতে বলেছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন ‘তুমি তোমার চলার ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো এবং তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো; নিশ্চয় সুরের মধ্যে গর্দভের সুরই সবচেয়ে অপ্রীতিকর’ (সুরা লোকমান : ১৯)। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় দ্বীন সহজ। যে ব্যক্তি অহেতুক দ্বীনকে কঠিন বানাবে, তার ওপর দ্বীন জয়ী হয়ে যাবে। (অর্থাৎ মানুষ পরাজিত হয়ে আমল ছেড়ে দেবে) সুতরাং তোমরা সোজা পথে থাকো এবং (ইবাদতে) মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো। তোমরা সুসংবাদ নাও। আর সকাল-সন্ধ্যা ও রাতের কিছু অংশে ইবাদত করার মাধ্যমে সাহায্য নাও।’ (বুখারি : ৩৯)
ইসলাম কোনো ইবাদতের ক্ষেত্রে কঠিন তথা বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছে। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনজন লোক রাসুল (সা.)-এর স্ত্রীদের ঘরে আসল। তারা রাসুল (সা.)-এর ইবাদত-বন্দেগি সম্পর্কে জানতে চাইল। যখন তাদের এ সম্পর্কে জানানো হলো, তখন তারা যেন এটাকে অপ্রতুল মনে করল। আর বলল, রাসুল (সা.) কোথায় আর আমরা কোথায়? তাঁর আগে-পরের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। তাদের একজন বলল, আমি সারারাত নামাজ পড়তে থাকব। আরেকজন বলল, আমি সারাজীবন রোজা রাখব। কখনো রোজা ছাড়ব না। আরেকজন বলল, আমি নারীদের থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখব, কখনো বিয়ে করব না। ইতিমধ্যে রাসুল (সা.) তাদের কাছে এলেন। আর বললেন, তোমরা তো এ রকম সে রকম কথা বলেছ। আল্লাহর কসম! তোমাদের চেয়ে আমি আল্লাহকে বেশি ভয় করি। তার সম্পর্কে বেশি তাকওয়া অবলম্বন করি। কিন্তু আমি রোজা রাখি আবার রোজা ছেড়ে দিই। আমি নামাজ পড়ি আবার নিদ্রা যাই। আর বিয়েশাদিও করি। যে আমার এসব আদর্শ থেকে মখু ফিরিয়ে নেবে সে আমার দলভুক্ত নয়। (বুখারি ও মুসলিম)
আমাদের যেহেতু সাধারণ মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে সৃষ্টি করা হয়েছে তাই আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশিত সব কাজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সম্পাদন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। তাই আমাদের উচিত মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা। হজরত হাকাম বিন হাযন কুলাফী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে মানবকুল! তোমাদের যেসব কর্মের আদেশ করা হয়, তার প্রত্যেকটাই পালন করতে তোমরা কখনই সক্ষম হবে না। তবে তোমরা মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো এবং সুসংবাদ নাও।’ (আবু দাউদ : ১০৯৮)
তাই আমাদের উচিত আকিদা থেকে শুরু করে ইবাদত, চরিত্র-মাধুর্য, বিচার-ফয়সালা, সাক্ষ্যদান, আবেগ-অনুভূতি, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক অর্থাৎ মানবজীবনের সব ক্ষেত্রেই মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা। কারণ মধ্যমপন্থাই মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছায়। এ সম্পর্কে হাদিসে আলোচিত হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কস্মিনকালেও তোমাদের কাউকে তার নিজের আমল কখনো নাজাত দেবে না। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনাকেও না? তিনি বললেনÑআমাকেও না। তবে আল্লাহ আমাকে তাঁর রহমত দিয়ে আবৃত রেখেছেন। তোমরা যথারীতি আমল করে নৈকট্য লাভ করো। তোমরা সকালে, বিকালে এবং রাতের শেষভাগে আল্লাহর ইবাদত করো। মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো। মধ্যমপন্থা তোমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাবে। (বুখারি ও মুসলিম)
ধর্ম ডেস্ক
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, 5:57 PM
জীবনকে সুন্দর ও গতিশীল করতে হলে ভারসাম্য রক্ষা করা খুব জরুরি। ইসলাম মানুষকে এ কথাই বলে। কোনো বিষয়ে বাড়াবাড়ি বা ছাড়াছাড়ির স্থান ইসলামে নেই। ইসলাম গুরুত্ব দেয় বাড়াবাড়ি এবং ছাড়াছাড়ির মাঝে মধ্যমপন্থাকে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের মধ্যপন্থি জাতি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং সব ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতে বলেছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন ‘তুমি তোমার চলার ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো এবং তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো; নিশ্চয় সুরের মধ্যে গর্দভের সুরই সবচেয়ে অপ্রীতিকর’ (সুরা লোকমান : ১৯)। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় দ্বীন সহজ। যে ব্যক্তি অহেতুক দ্বীনকে কঠিন বানাবে, তার ওপর দ্বীন জয়ী হয়ে যাবে। (অর্থাৎ মানুষ পরাজিত হয়ে আমল ছেড়ে দেবে) সুতরাং তোমরা সোজা পথে থাকো এবং (ইবাদতে) মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো। তোমরা সুসংবাদ নাও। আর সকাল-সন্ধ্যা ও রাতের কিছু অংশে ইবাদত করার মাধ্যমে সাহায্য নাও।’ (বুখারি : ৩৯)
ইসলাম কোনো ইবাদতের ক্ষেত্রে কঠিন তথা বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছে। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনজন লোক রাসুল (সা.)-এর স্ত্রীদের ঘরে আসল। তারা রাসুল (সা.)-এর ইবাদত-বন্দেগি সম্পর্কে জানতে চাইল। যখন তাদের এ সম্পর্কে জানানো হলো, তখন তারা যেন এটাকে অপ্রতুল মনে করল। আর বলল, রাসুল (সা.) কোথায় আর আমরা কোথায়? তাঁর আগে-পরের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। তাদের একজন বলল, আমি সারারাত নামাজ পড়তে থাকব। আরেকজন বলল, আমি সারাজীবন রোজা রাখব। কখনো রোজা ছাড়ব না। আরেকজন বলল, আমি নারীদের থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখব, কখনো বিয়ে করব না। ইতিমধ্যে রাসুল (সা.) তাদের কাছে এলেন। আর বললেন, তোমরা তো এ রকম সে রকম কথা বলেছ। আল্লাহর কসম! তোমাদের চেয়ে আমি আল্লাহকে বেশি ভয় করি। তার সম্পর্কে বেশি তাকওয়া অবলম্বন করি। কিন্তু আমি রোজা রাখি আবার রোজা ছেড়ে দিই। আমি নামাজ পড়ি আবার নিদ্রা যাই। আর বিয়েশাদিও করি। যে আমার এসব আদর্শ থেকে মখু ফিরিয়ে নেবে সে আমার দলভুক্ত নয়। (বুখারি ও মুসলিম)
আমাদের যেহেতু সাধারণ মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে সৃষ্টি করা হয়েছে তাই আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশিত সব কাজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সম্পাদন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। তাই আমাদের উচিত মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা। হজরত হাকাম বিন হাযন কুলাফী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে মানবকুল! তোমাদের যেসব কর্মের আদেশ করা হয়, তার প্রত্যেকটাই পালন করতে তোমরা কখনই সক্ষম হবে না। তবে তোমরা মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো এবং সুসংবাদ নাও।’ (আবু দাউদ : ১০৯৮)
তাই আমাদের উচিত আকিদা থেকে শুরু করে ইবাদত, চরিত্র-মাধুর্য, বিচার-ফয়সালা, সাক্ষ্যদান, আবেগ-অনুভূতি, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক অর্থাৎ মানবজীবনের সব ক্ষেত্রেই মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা। কারণ মধ্যমপন্থাই মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছায়। এ সম্পর্কে হাদিসে আলোচিত হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কস্মিনকালেও তোমাদের কাউকে তার নিজের আমল কখনো নাজাত দেবে না। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনাকেও না? তিনি বললেনÑআমাকেও না। তবে আল্লাহ আমাকে তাঁর রহমত দিয়ে আবৃত রেখেছেন। তোমরা যথারীতি আমল করে নৈকট্য লাভ করো। তোমরা সকালে, বিকালে এবং রাতের শেষভাগে আল্লাহর ইবাদত করো। মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো। মধ্যমপন্থা তোমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাবে। (বুখারি ও মুসলিম)